সোমবার, ১২ই অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৭শে আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** রবীন্দ্রনাথের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা প্রসঙ্গে মৌলবাদীদের অপপ্রচারের ভিত্তি কী *** সৌদি বিমানবন্দরে হামলা: বাংলাদেশের প্রবাসী আয়, শ্রমবাজার ও ওমরাহ পালনে কতটা ঝুঁকি *** যুবরাজের ভুল হিসাব, যুক্তরাষ্ট্রের অনিশ্চিত সমর্থন: ইয়েমেন যুদ্ধে আবার কেন জড়াল সৌদি আরব *** রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের দ্বিতীয় হামলায় নিহত ১, আহত ১১ *** প্রবাসীর স্ত্রীকে গাছে বেঁধে মারধর, চুল কেটে পাঠানো হলো বাবার বাড়ি *** বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে: ধ্রুব রাঠি *** নেপালে ফের বন্যা: ভেসে গেছে বাড়ি-সেতু, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত *** ‘স্বৈরাচার’ ও ‘গুপ্তরা’ এক হতে পারে, এমপিদের সতর্ক করলেন তারেক রহমান *** অপকর্মে জড়ালে নেতা-এমপি-মন্ত্রী কারও ছাড় নেই: প্রধানমন্ত্রী *** দিল্লিতে বিমসটেকের প্রথম বৈঠক, যাচ্ছেন না বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যে পদ্ধতিতে সহজে পালং শাক চাষ করবেন

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০১:৫১ অপরাহ্ন, ৩০শে ডিসেম্বর ২০২৩

#

ছবি-সংগৃহীত

পালংশাক বেশ জনপ্রিয়, পুষ্টিকর ও সুস্বাদু পাতা সবজি। এর ইংরেজি নাম Spinich ও বৈজ্ঞানিক নাম Spinacea olerocea. এ সবজি অধিক ভিটামিন সমৃদ্ধ। বাংলাদেশে শীতকালে এর চাষ করা হয়।

দেশের প্রায় সব স্থানে পালং শাক চাষ করা যায়। সাধারণত উর্বর দোআঁশ মাটি পালং শাক চাষাবাদের জন্য বেশ উপযোগী; তাছাড়া এঁটেল, বেলে-দোআঁশ মাটিতেও ভালো হয়।

পালং শাক চাষ পদ্ধতি

সাধারণত পালং শাক চাষের জন্য দো-আঁশ এবং এঁটেল মাটি উৎকৃষ্ট । এছাড়া,  এটেল বা বেলে দোআশ মাটিও এটির চাষাবাদ করার উপযোগী। ভাদ্র-আশ্বিন (আগস্ট মাসের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি) মাসের মধ্যে পালং শাকের বীজ বপন করা হয়। বীজ বোনার পর অঙ্কুরোদগম হতে প্রায় ৭-৮ দিন সময় লাগবে।

জমি তৈরি ও বীজ বপনঃ

পালং শাক চাষ করার আগে জমি চাষ ও মই দিয়ে ভালোভাবে মাটি ঝুরঝুরা করে নিতে হবে। তারপর জমিতে বীজ বোনতে করতে হবে।  বীজ ছিটিয়ে বপন করা যায় আবার মাদা তৈরি করে মাদায় ও বপন করা যায়।

পালং শাকের বীজ ছিটিয়ে ও সারিতে রোপণ করা যায়। তবে সারিতে বপন করা সুবিধাজনক।

এক সারি থেকে অন্য সারির দূরত্ব ২০ সে.মি. রাখতে হবে।

একটি কাঠির সাহায্যে ১.৫-২.০ সে.মি. গভীর লাইন টেনে সারিতে বীজ বোনার পর মাটি সমান করে দিতে হবে।

মাদায় বীজ বোনলে গর্ত তৈরি করতে হবে। তারপর ২-৩ টি করে বীজ বোনতে হবে। সাধারনত ১০ সেমি দূরে দূরে বীজ বোনা উত্তম।

সার প্রয়োগ (প্রতি শতকে)

পালং শাক চাষে গুণগত মানসম্পন্ন ভালো ফলন পেতে জমিতে যতটুকু সম্ভব জৈব সার প্রয়োগ করা উৎকৃষ্ট । এতে মাটির গুণাগুণ ও পরিবেশ উভয়ই ভালো থাকবে।

গোবর সার দিতে হবে ৪০ কেজি।

ইউরিয়া দিতে হবে ১ কেজি।

টিএসপি দিতে হবে ৫০০ গ্রাম।

এমওপি দিতে হবে ৫০০ গ্রাম

ইউরিয়া সার ছাড়া বাকি সব সার শেষ চাষের সময় প্রয়োগ করতে হবে। জমি তৈরির প্রথম দিকে জমিতে গোবর সার প্রয়োগ করা ভালো।

চারা গজানোর ৮-১০ দিন পর থেকে ১০-১২ দিন পর পর ২-৩ কিস্তিতে ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে। সার প্রয়োগ করার পর মাটির সাথে ভালো ভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। প্রয়োজনে জল সেচ দিতে হবে।

সেচ ও পরিচর্যা

পালং শাক চাষের জমিতে রস কম থাকলে অবশ্যই সেচ দিতে হবে।

মাটির জো অবস্থা বুঝে জমিতে সেচ দিতে হবে।

জমিতে পানি যাতে না জমে সেজন্য নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

প্রয়োজন হলে চারা রোপন করার পর হালকা সেচ দিয়ে দেওয়া ভালো।

নিড়ানির সাহায্যে জমির ঘাস সময়মত বাছাই করতে হবে।

বীজ বপনের ১৫-২০ দিন পর গাছ উঠিয়ে পাতলা করে দিতে হবে। এবং মাঝে মাঝে মাটি ঝুরঝুরে করে দিতে হবে। গাছের বৃদ্ধি দ্রুত ও ফলন ভালো হওয়ার জন্য মাটি আলগা করে দেওয়া ভালো।

আগাছা দমন

পালং শাক চাষের জমিতে যেন আগাছা না জমে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আগাছা গাছের বৃদ্ধিতে বাধা দেয় ও পুষ্টি শোষণ করে থাকে। তাই আগাছা জন্মালে তা সাথে সাথে পরিষ্কার করে দিতে হবে।

রোগ ও পোকা দমন ব্যবস্থাপনা

পালংশাক চাষে সাধারণত গোড়া পচা রোগ, পাতায় রোগ, পাতার ধ্বসা রোগ ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। প্রয়োজন অনুসারে জৈব বা রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। রোগ দেখা দিলে আক্রান্ত ডাল পাতা তুলে ফেলে দিতে হবে।

বীজ সংগ্রহ করার সময় রোগ মুক্ত এলাকা থেকে সংগ্রহ করতে হবে।

পালং শাকে মাঝে মাঝে পিপড়া, উরচুঙ্গা, উইপোকা ইত্যাদি পোকা আক্রমণ করে থাকে। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বালাইনাশক ব্যবহার করতে হবে।

আরো পড়ুন: সরিষা ক্ষেতে মৌ বাক্স স্থাপন, মধুর সঙ্গে বাড়ছে সরিষার ফলনও

টবে পালং শাক চাষ

ভিটামিন সমৃদ্ধ শীতকালীন সবজি পালং শাক জমির পাশাপাশি ছাদ বাগানে বা টবে চাষ করা যায়।

ছাদে প্লাস্টিকের বড় গামলা, টব বা অর্ধ ড্রামে পালং শাকের চাষ করা যায়।

 বীজ বপনের আগে প্রতিটি ড্রাম বা টবের মধ্যে দোঁ-আশ মাটি ১০-১২কেজি, পচা আবর্জনা সার ৫কেজি, পচা গোবর ৫ কেজি, ছাই ৫ কেজি, টিএসপি ও এমপি যথাক্রমে ১০০ ও ১২০গ্রাম এবং ১০০-১১০গ্রাম পরিমাণ সরিষার খৈল মেশাতে হবে।

সার ও মাটি মেশানেরা আগে লক্ষ্য রাখতে হবে, এগুলো মাঝারি ধরনের শুকনো আছে কি-না।

যদি ভেজা থাকে তাহলে রোদে কিছুটা শুকিয়ে নেয়া উচিত।

অতঃপর ড্রাম বা টব সার মিশ্রিত মাটি দিয়ে ভরাট করতে হবে। তারপর বীজ বোনতে হবে।

বীজ বোনার পর হালকা পানি দেয়া প্রয়োজন।

সকাল-বিকাল দিনে দু’বার পানি দিতে হবে।

টবে যেন অতিরিক্ত পানি জমে না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখা উচিত।

চারা গজানোর পর গোড়ায় কোনো আগাছা জন্মালে তা তুলে দিতে হবে।

চারা গজানোর ১৫-২০দিন পর থেকে ঘন জায়গার চারা তুলে পাতলা করে দিতে হয়।

গামলা, ড্রাম বা টব প্রতি ১০-১৫গ্রাম ইউরিয়া সার ১৫, ২৫ ও ৩৫দিন পরপর প্রয়োগ করতে হবে।

ফসল সংগ্রহ

বীজ বোনার বীজ বপনের ৩০ থেকে ৪০ দিন পর পালংশাক সংগ্রহ করা যায়। এটি গাছে ফুল না আসা পর্যন্ত যে কোনো সময় সংগ্রহ করা যায়। প্রতি বিঘা জমি থেকে প্রায় ২.৫ টন পালং শাক পাওয়া সম্ভব।

এসি/ আই. কে. জে/ 


পালং শাক চাষ করবেন

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

রবীন্দ্রনাথের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা প্রসঙ্গে মৌলবাদীদের অপপ্রচারের ভিত্তি কী

🕒 প্রকাশ: ১২:৪০ অপরাহ্ন, ১২ই অক্টোবর ২০২৬

সৌদি বিমানবন্দরে হামলা: বাংলাদেশের প্রবাসী আয়, শ্রমবাজার ও ওমরাহ পালনে কতটা ঝুঁকি

🕒 প্রকাশ: ১২:০১ অপরাহ্ন, ১২ই অক্টোবর ২০২৬

মাঠে কেন কলা দেখালেন দর্শকেরা

🕒 প্রকাশ: ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, ১২ই অক্টোবর ২০২৬

যুবরাজের ভুল হিসাব, যুক্তরাষ্ট্রের অনিশ্চিত সমর্থন: ইয়েমেন যুদ্ধে আবার কেন জড়াল সৌদি আরব

🕒 প্রকাশ: ১০:২১ পূর্বাহ্ন, ১২ই অক্টোবর ২০২৬

রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের দ্বিতীয় হামলায় নিহত ১, আহত ১১

🕒 প্রকাশ: ১০:২০ পূর্বাহ্ন, ১২ই অক্টোবর ২০২৬

Footer Up 970x250