সোমবার, ১৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩রা ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বিশ্বজুড়ে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে লাখো মানুষের বিক্ষোভ *** আওয়ামী লীগের ভাঙাচোরা কার্যালয়ে দুপুরে নেতা-কর্মীদের স্লোগান, বিকেলে অগ্নিসংযোগ *** ঠাকুরগাঁওয়ে দেড় বছর পর আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের প্রকাশ্যে স্লোগান *** মধ্যপ্রাচ্যে আবারও মার্কিন রণতরী, কী ঘটছে ইরানের সঙ্গে? *** তারেক রহমানের আগমন জাতীয় রাজনীতির জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত: জামায়াত আমির *** ড. ইউনূস ‘দ্বিতীয় মীরজাফর’ ও ‘আমেরিকার দালাল’, তার পোস্টারে আগুন *** নতুন সরকার যখন বলবে তখনই ব্যারাকে ফিরবে সেনাবাহিনী *** দেশের জন্য কাজ করতে এসে আমার সব সঞ্চয় শেষ, দাবি সেই ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের *** নির্ধারিত সময়ের আগেই পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন আইজিপি *** ভারত কি সত্যিই বিএনপি সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়বে

নীরব এক মহামারী পর্নোগ্রাফি, মুক্তির উপায় কী?

উপ-সম্পাদকীয়

🕒 প্রকাশ: ০২:২৮ অপরাহ্ন, ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০২৩

#

ছবি: সংগৃহীত

মুহাম্মাদ মাইনুল ইসলাম

বর্তমান সময়ের তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় একটি  বিষয় হলো পর্নোগ্রাফি বা নীল ছবি। এই পর্নোগ্রাফি নীরব এক মহামারীর রূপ ধারণ করেছে। কেবল উঠতি বয়সের কিশোর-কিশোরীরাই নয়, অনেক বিবাহিত নারী-পুরুষরাও এই পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত। এটি এক সামাজিক সমস্যা তৈরি করছে। তরুণ প্রজন্ম ধ্বংস হচ্ছে। আর বৈবাহিক জীবনেও সৃষ্টি হচ্ছে অনেক অশান্তি।

এই পর্নো আসক্তি কখনো যৌন বিকৃতির অংশ হয়ে দাঁড়ায়। বিভিন্ন মানসিক রোগের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয়। 

কেন আসক্ত হচ্ছে পর্নোতে? পর্নোগ্রাফি এখন খুবই সহজলভ্য একটি বিষয়। এই প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা ইন্টারনেটের বদৌলতে খুব সহজে পেয়ে যাচ্ছে পর্নো ছবি এবং ভিডিও। আরেকটি প্রধান কারণ হলো ধর্মীয় শিক্ষার অভাব। ধর্মীয় শিক্ষা না থাকার কারণে বুঝতে পারছে না কোনটা বৈধ কোনটা হারাম। এছাড়াও রয়েছে সঙ্গদোষের প্রভাব। অনলাইনে পাওয়া সস্তা চটিগল্প পড়ে, ছবি ও ভিডিও দেখে আস্তে আস্তে আসক্ত হয়ে পড়ে হস্তমৈথুনের মতো ভয়ংকর পাপকর্মে। পর্নোগ্রাফি আর হস্তমৈথুন অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত।

আমরা দেখতে পাই চটিগল্প ও পর্নোগ্রাফিতে ওরাল সেক্স, অ্যানাল সেক্স ও বিভিন্ন সম্পর্কের মানুষের সাথে মেলামেশার বিবরণ। এসব পড়া ও দেখার পর কিশোর ও তরুণরা অকল্পনীয় সেক্স ফ্যান্টাসিতে ভোগে। যেগুলো বাস্তবতার সাথে মানানসই না। তাছাড়া এসব পর্ন আসক্তরা তাদের স্ত্রীদের সাথেও অযৌক্তিক যৌন আচরণ করে। ভাবে তার স্ত্রীও বুঝি পর্নের অভিনেত্রীর মতো ‘কামুক’। ফলে বাস্তব জীবনে তৈরি হয় দাম্পত্য অশান্তি।

কিশোর-তরুণরা এসব দেখে সাময়িক উত্তেজনা কমাতে হস্তমৈথুনের মতো ভয়ঙ্কর ও জঘন্যতম কাজে লিপ্ত হয়। যা তাদের মাঝে শারীরিক ও মানসিক অবসাদ এনে দেয়। লেখাপড়ায় মন বসে না। কাজ করতে ভালো লাগে না। যা পরবর্তী জীবনযুদ্ধের জন্য তাকে তৈরি হওয়ার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।

পর্নোগ্রাফির কবল থেকে বেরিয়ে আসার সহজ পথ হলো- ছেলেদের পুরুষ শিক্ষক ও মেয়েদের নারী শিক্ষকের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি, হস্তমৈথুনসহ যৌন বিষয় সমন্ধে আলোচনা করে কৈশোর বয়সেই এসবের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করা।

পর্ন দেখার প্রবণতা আপনার স্মৃতিশক্তির ওপর খুবই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফলে অনেক কিছুই আপনি খুব সহজেই ভুলে যেতে শুরু করেন। নিয়মিত পর্ন দেখার কারণে একটা নির্ভরশীলতা তৈরি করে। এটা উত্তেজনা সৃষ্টি করে। এটা আপনার মধ্যে এমন একটা বদঅভ্যাস তৈরি করবে, যার ফলে শরীর ও মনকে বশে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। 

তাই তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান, আসুন এই পাপ ও অনৈতিক পথ থেকে আমরা বেরিয়ে আসি।

পর্নোগ্রাফি

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250