ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন লাখো মানুষ। আজ রোববার (১৫ই ফেব্রুয়ারি) বিবিসি জানিয়েছে, ইরানের প্রয়াত শাহের নির্বাসিত পুত্র রেজা পাহলভি ‘গ্লোবাল ডে অব অ্যাকশন’-এর আহ্বান জানানোর পর এই কর্মসূচি পালিত হয়।
তিনি ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থা উৎখাতের ডাক দিয়ে সাম্প্রতিক দমন-পীড়নের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার জার্মানির মিউনিখ শহরে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পাহলভি। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস এবং কানাডার টরন্টোতেও বড় জমায়েত হয়।
ছোট আকারে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয় ইসরায়েলের তেলআবিব, পর্তুগালের লিসবন, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও যুক্তরাজ্যের লন্ডনে।
বিক্ষোভকারীদের দাবি—ইরানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ঘিরে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন সরকারবিরোধী বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি’ জানিয়েছে, ইরানে চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৮৭২ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৫০-এর বেশি শিশুও রয়েছে। তবে ইরান সরকার বলছে, নিহতের সংখ্যা অন্তত ৩ হাজার এবং এদের মধ্যে কিছু নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও ছিলেন।
মিউনিখের সমাবেশে পাহলভি বলেন, ‘দেশের ভেতরে সাহসী আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে আমার বার্তা—আপনারা একা নন, আজ বিশ্ব আপনাদের পাশে আছে।’
তিনি ইরানের বর্তমান নেতৃত্বকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত ও দমনমূলক’ আখ্যা দেন।
লস অ্যাঞ্জেলেসের সমাবেশে অংশ নেন তার কন্যা নূর পাহলভি। তিনি বলেন, ‘ইরানিরা কখনো মুক্তির এতটা কাছাকাছি আসেননি।’ তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের সঙ্গে চলমান পারমাণবিক আলোচনা বন্ধ করার আহ্বান জানান।
এর আগে ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, ইরানে সরকার পরিবর্তন হলে সেটি ‘সেরা ঘটনা’ হতে পারে। যদিও তিনি পাহলভিকে সরাসরি সমর্থন করেছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে পাহলভির পিতার রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে। প্রায় পাঁচ দশক পর আবারও তিনি দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে চান।
তবে সমালোচকদের প্রশ্ন—তার নেতৃত্ব ইরানকে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের দিকে নেবে, নাকি পুনরায় রাজতন্ত্রের ঝুঁকি তৈরি করবে।
খবরটি শেয়ার করুন