সোমবার, ১৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩রা ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বিশ্বজুড়ে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে লাখো মানুষের বিক্ষোভ *** আওয়ামী লীগের ভাঙাচোরা কার্যালয়ে দুপুরে নেতা-কর্মীদের স্লোগান, বিকেলে অগ্নিসংযোগ *** ঠাকুরগাঁওয়ে দেড় বছর পর আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের প্রকাশ্যে স্লোগান *** মধ্যপ্রাচ্যে আবারও মার্কিন রণতরী, কী ঘটছে ইরানের সঙ্গে? *** তারেক রহমানের আগমন জাতীয় রাজনীতির জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত: জামায়াত আমির *** ড. ইউনূস ‘দ্বিতীয় মীরজাফর’ ও ‘আমেরিকার দালাল’, তার পোস্টারে আগুন *** নতুন সরকার যখন বলবে তখনই ব্যারাকে ফিরবে সেনাবাহিনী *** দেশের জন্য কাজ করতে এসে আমার সব সঞ্চয় শেষ, দাবি সেই ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের *** নির্ধারিত সময়ের আগেই পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন আইজিপি *** ভারত কি সত্যিই বিএনপি সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়বে

সবার জন্য বাসযোগ্য ঢাকা চাই

সম্পাদকীয়

🕒 প্রকাশ: ০৮:৪৯ অপরাহ্ন, ৩রা জুলাই ২০২৩

#

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বখ্যাত সাময়িকী দি ইকোনমিস্টের সহযোগী সংস্থা ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট-ইআইইউর বাসযোগ্য শহরের র‌্যাংকিংয়ে ঢাকা হতাশাজনকভাবে পুনরায় প্রায় তলার দিকে স্থান পেয়েছে।

সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুসারে, উক্ত সূচকে এই বৎসর ১৭৩টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৬৬তম; অর্থাৎ নিম্নের দিক হতে সপ্তম। অধিকতর লজ্জাজনক হল, ইউক্রেনের যুদ্ধবিধ্বস্ত কিয়েভও ঢাকার এক ধাপ উপরে স্থান পেয়েছে।

গত বৎসর ইআইইউ সূচকে ঢাকার অবস্থান একই ছিল। তবে ঐ বৎসর জরিপে অংশগ্রহণকারী শহর ছিল ১৭২টি। সেই হিসাবে এই বৎসর বাসযোগ্যতার মানদণ্ডে ঢাকার অবনমন ঘটেছে বললে ভুল হবে না। সূচকে ঢাকা স্থায়িত্বে ৫০, স্বাস্থ্যসেবায় ৪১ দশমিক ৭, সংস্কৃতি ও পরিবেশে ৪০ দশমিক ৫, শিক্ষায় ৭৫ এবং অবকাঠামোতে ২৬ দশমিক ৮ নম্বর পেয়েছে।

যে দেশটি অচিরেই স্বল্পোন্নত দেশের পর্যায় ছেড়ে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নাম লেখাবে এবং আর মাত্র দুই দশকের মধ্যে উন্নত দেশের পর্যায়ে উঠবার প্রত্যাশা করে, সেই দেশের রাজধানীর এমন হাল অনাকাঙ্ক্ষিত তো বটেই; রাষ্ট্রের পরিচালকদের উন্নয়ন পরিকল্পনাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।

আরো পড়ুন: বাবার যত্ন, বাবার সুস্থতা

অনস্বীকার্য, প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ৪৮ সহস্র লোকের বসবাস যে শহরে, তথায় যে কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনাই কার্যকর দুরূহ। কিন্তু বিভিন্ন সরকারের ত্রুটিপূর্ণ প্রশাসনিক ও উন্নয়ন পরিকল্পনার ফলস্বরূপ সকল কিছুর কেন্দ্রস্থল ঢাকা হওয়াই যে এই পরিস্থিতির জন্য মূলত দায়ী– তা অস্বীকার করা যায় না। অপর্যাপ্ত গণপরিবহন এবং প্রায় অকার্যকর সড়ক ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি সীমিত সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ির লাগামহীন বৃদ্ধি এই শহরে মানুষের সহজ ও সাবলীল চলাচলকে অসম্ভব করে রেখেছে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আবাসিক এলাকা মানে কংক্রিটের জঙ্গল; যেখানে একটি আদর্শ শহরের জন্য জরুরি জলাধার, সবুজ, উন্মুক্ত স্থান ও শিশুদের খেলার মাঠ শুধু অপ্রতুল নয়, ক্রমান্বয়ে বিলুপ্তির দিকে।

অপর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে যতগুলি জলাশয় আছে, তন্মধ্যে ২৬ শতাংশ দখলের হুমকিতে। দুর্বল নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে জলাবদ্ধতা এই শহরের প্রায় সাংবাৎসরিক সমস্যা। বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থাও প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত দুর্বল।

অদ্যাবধি যত মেয়র বিভক্তির পূর্বে ও পরে ঢাকা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন; সকলেই নাগরিকদের নানা উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা শুনিয়েছেন। কিন্তু সেইগুলি যে বহুলাংশে কথার কথা; অন্তত ইআইইউর সর্বশেষ জরিপের ফল তারই প্রতিধ্বনি করছে। সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগও যে এই ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কিছু করতে চেয়েছে, তা বলা যায় না।

আমরা আশা করি, ইআইইউর সর্বশেষ জরিপ প্রতিবেদন গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করে সরকার অবিলম্বে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতে ঢাকাকে প্রকৃতই বাসযোগ্যকরণে উপযুক্ত কার্যক্রম গ্রহণ করবে।

আইকেজে /

বাসযোগ্য ঢাকা

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250