ছবি: সংগৃহীত
পৃথিবীর বাইরে মানুষের মতো কোনো প্রাণী আছে নাকি নেই তা নিয়ে রয়েছে জল্পনা-কল্পনা। ভিন গ্রহের আপাতত ‘কল্পিত’ এমন প্রাণীকে সাধারণত ‘এলিয়েন’ বলা হয়।
এলিয়েনে বিশ্বাসীরা তাদের ধারণা যে সত্য তা প্রমাণে সব সময় বেশ সচেষ্ট। এমনকি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসেও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী দেশ মেক্সিকোর কংগ্রেসে এলিয়েনের অস্তিত্বের প্রমাণ হিসেবে হাজির করা হলো অদ্ভুত দর্শন মমি। দাবি করা হয়েছে এসব এলিয়েনের মমি! এলিয়েনে বিশ্বাসী মেক্সিকোর সাংবাদিক জ্যামি মুসান এ দাবি করেছেন।
এলিয়েনের অস্তিত্ব প্রমাণে মেক্সিকোর আইনপ্রণেতাদের কথিত এলিয়েনের মরদেহ দেখিয়েছেন তিনি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে জানায়, এই শুনানিতে আইনপ্রণেতাদের এলিয়েনের কথিত দেহাবশেষ দেখানো হয়। সাংবাদিক মুসান আইনপ্রণেতাদের কাছে দাবি করেছেন, ‘এগুলোর সঙ্গে পৃথিবীর প্রাণিজগতের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।’
এলিয়েনের যে কথিত দুটি মরদেহ দেখানো হয়েছে, সেগুলোর হাতে মাত্র তিনটি করে আঙুল রয়েছে এবং এগুলোর মাথাগুলো অনেকটা বড় ও প্রসারিত। সাংবাদিক মুসান জানান, এই দেহগুলো ২০১৭ সালে পেরুর প্রাচীন নাজকা লাইনসে পাওয়া গিয়েছিল। তিনি জানান, মেক্সিকোর জাতীয় স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএনএএম) কার্বন ডেটিং ব্যবস্থায় পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এই দেহ দুটি এক হাজার বছরের পুরনো।
তবে অদ্ভুত এ দেহ দুটি সত্যিই এলিয়েনের কি না এ নিয়ে সন্দেহ আছে। কারণ আগেও এ ধরনের দেহ পাওয়া গিয়েছিল। পরে বিশদ পরীক্ষা ও বিশ্লেষণে পাওয়া গিয়েছিল, সেগুলো আসলে প্রাচীন আমলের মানবশিশুর মমিকৃত দেহ।
মেক্সিকোর এ সাংবাদিকের উপস্থাপন করা তথাকথিত মমিগুলো কোনো এলিয়েনের নয় বলে মনে করেন মমি বিশেষজ্ঞরা। পেরুর মমি বিশেষজ্ঞ গুইদো লোম্বার্দির অভিযোগ, আসলে এ কথিত এলিয়েন মমি কোনো ভিনগ্রহের প্রাণীর নয়। বরং বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পশু এবং মানবদেহের হাড় দিয়ে নির্মিত নকল মমি।
ওআ/
খবরটি শেয়ার করুন