ফাইল ছবি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য, বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় নেত্রী রুমিন ফারহানা ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সরকারের আমলে হওয়া অবকাঠামোগত উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহীকে আওয়ামী লীগের সরকার বিদেশের মতো করে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির বহিষ্কৃত এই নেত্রী।
ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন ইউটিউব চ্যানেলের এক টকশোতে এমন মন্তব্য করেন তিনি। দেশের সমসাময়িক রাজনীতির নানা বিষয়ে ঠিকানা টিভির প্রধান সম্পাদক খালেদ মুহিউদ্দীনের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।
এ সময় রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি তো খুলনায় গিয়েছি, কয়েকবার বরিশাল ও রাজশাহীতে গিয়েছি। আমি তো দেখেছি এটা বিদেশের মতো করে ফেলেছে আওয়ামী লীগ। দেখার মতো। সেখান থেকে ফিরে যখন আমি আমার গরিব এলাকাতে আসি, মানুষগুলোর জন্য আমার কষ্ট লাগে।’
তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচন আয়োজনের আগে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে বিএনপি থেকে অনেক ‘অফার’ ছিল। মন্ত্রীর পদ দেওয়া হবে- এমন আরও কিছু প্রস্তাব ছিল। কিন্তু ভোটের পর ক্ষমতাসীন দলটি থেকে আর কোনো প্রস্তাব আসেনি।
গত ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংসদীয় আসন থেকে সরাসরি নির্বাচন করে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের একাংশ) আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়াই করে প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
নির্বাচনের আগে গত ৩০শে ডিসেম্বর দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দল থেকে তাকে বহিষ্কার করে বিএনপি।
বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হন তিনি। এখন যে সেই দলে ফেরা হচ্ছে না, সেটা নিশ্চিত করেন তিনি। জামায়াত-এনসিপির জোটে যাওয়া বা নিজেই কোনো দল গঠন করা, সেই সম্ভাবনাও নাকচ করেন তিনি।
খালেদ মুহিউদ্দীন ইউটিউব চ্যানেলের টকশোতে তিনি বলেন, ‘গত ১৭ বছর আমরা অনেক বিভাজনের রাজনীতি দেখেছি। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষ, জেলার পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার করা- এসব বিষয় ছিল। আমাদের উপমহাদেশে ধর্মের কার্ড, জাতীয়তাবাদের কার্ড- এগুলোর মাধ্যমেও রাজনীতি করা হয়। আমি এসব পথ অবলম্বন না করে জনকল্যাণের রাজনীতি করতে চাই। জানি, এটা কঠিন হবে। এই কঠিন রাজনীতির চর্চাই আমি করব।’
অন্তর্বর্তী সরকার দেড় বছর ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন আয়োজন করে বিদায় নিয়েছে। কিন্তু তাদের ভেতরে থাকা কোনো অংশ নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে প্রথমে রাজি ছিল না। সে কারণে নির্বাচনের তারিখ না দিয়ে ড. ইউনূস সরকার ৫ বছর, ১০ বছর ক্ষমতায় থাকবে, এসব প্রচারণা চালানো হয়েছিল। এটা মনে করেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
তিনি আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো অংশের ইন্ধনেই একটি শক্তি মাঠে ছিল। যারা মবের মাধ্যমে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করত। গত ১৭ মাসে কয়টা মব হয়েছে, কতটি মাজার ভাঙা হয়েছে- একসময় এগুলোর হিসাব রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল।’ নবনির্বাচিত সরকারের সময় যাতে কোনো মব না হয়, সব মানুষের অধিকার যাতে নিশ্চিত করা হয়, সেই আহ্বান রাখেন তিনি।
তবে নতুন সরকারের প্রথম কাজ হওয়া উচিত দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে ধরতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া- এটা মনে করেন রুমিন ফারহানা। তার ভাষ্যমতে, ‘রমজান মাসের প্রথম দিনই প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম অনেক বেড়ে গেছে। এর জন্য নতুন সরকার দায়ী নয়। কিন্তু দাম নিয়ন্ত্রণের কাজটিতে তাদের ফোকাস দেওয়া উচিত। মানুষের হাতে আসলেই টাকা নেই। মানুষ স্বস্তিতে নাই। সেই স্বস্তি ফেরানোর কাজটি করতে হবে তারেক রহমানের সরকারকে।’
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন