শনিবার, ২৮শে মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৪ই চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** স্বপ্ন’র ডেটাবেজ হ্যাক, ঝুঁকির মুখে ৪০ লাখ গ্রাহকের তথ্য *** জ্বালানিমন্ত্রীকে ‘আপাদমস্তক নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী’ বললেন আমির হামজা, পাল্টা মন্তব্য বিএনপির *** ভুয়া ক্লিনিক-নার্সের মতো ভুয়া ডাক্তার তৈরির কারখানাও বন্ধ করতে হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী *** ইসরায়েলি গণহত্যার নিন্দা করায় যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদন বাতিল গিটারিস্ট কমলের *** আমার মিটিংয়ে স্বাধীনতাবিরোধীদের যেন ডাকা না হয়: ফজলুর রহমান *** পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী *** রাজশাহী মেডিকেলের পরিচালককে ফাঁসির কাষ্ঠে চড়ানো উচিত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী *** ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ কমিটির প্রথম বৈঠক চলছে *** পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিল্লি যাচ্ছেন, বহুমুখী সম্পর্ক মজবুত করতে চায় দুই দেশ *** ৫ আগস্টের আগে ও পরে পুলিশ হত্যার বিচার হবে: আইজিপি

রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ

সাইদ মাহবুব

🕒 প্রকাশ: ০২:৩৮ অপরাহ্ন, ৫ই ডিসেম্বর ২০২৩

#

ছবি : সংগৃহীত

জীবনানন্দ দাশ

হাজার বছর ধ’রে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,

সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে

অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে

সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;

আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,

আমারে দু-দণ্ড শান্তি দিয়েছিলো নাটোরের বনলতা সেন।

তিনি বাংলা কাব্যে আধুনিকতার পথিকৃতদের মধ্যে অন্যতম। তাঁকে রূপসী বাংলার কবিও বলা হয়। অনেকে তাঁকে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল-পরবর্তী বাংলা সাহিত্যের প্রধান কবি বলে মনে করেন। তার কবিতায় পরাবাস্তবের দেখা মিলে।

জীবনানন্দের প্রথম কাব্যে নজরুল ইসলামের প্রভাব থাকলেও দ্বিতীয় কাব্য থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন মৌলিক ও ভিন্ন পথের অনুসন্ধানী।

জীবনানন্দ দাশ প্রধানত কবি হলেও বেশ কিছু প্রবন্ধ-নিবন্ধ রচনাও প্রকাশ করেছেন। তিনি ২১টি উপন্যাস এবং ১২৬টি ছোটগল্প রচনা করেছিলেন। যার একটিও তাঁর জীবদ্দশায় প্রকাশিত হয়নি। বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধকালে বাংলা কবিতায় তার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থের কবিতাসমূহ সহ পরবর্তী কবিতাগ্রন্থ মহাপৃথিবী ১৯৪৪-এ প্রকাশিত।

জীবনানন্দ’র জীবদ্দশায় সর্বশেষ প্রকাশিত গ্রন্থ তারার তিমির (১৯৪৮)। ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুর কিছু আগে প্রকাশিত হয় জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা। কবির মৃত্যু-পরবর্তী প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ হলো ১৯৫৭-তে প্রকাশিত রূপসী বাংলা এবং ১৯৬১-তে প্রকাশিত বেলা অবেলা কালবেলা।

আরো পড়ুন : ‘কারার ঐ লৌহ কপাট’ গানের প্রাণহানির মামলা

জীবনানন্দ দাশ রূপসী বাংলা'র পাণ্ডুলিপি তৈরি করে থাকলেও জীবদ্দশায় এর প্রকাশের উদ্যোগ নেননি। তিনি গ্রন্থটির প্রচ্ছদ নাম নির্ধারণ করেছিলেন ‘বাংলার ত্রস্ত নীলিমা’। ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশকালে এর নামকরণ করা হয় "রূপসী বাংলা।" তার অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলো হলো: সুদর্শনা (১৯৭৩), আলো পৃথিবী (১৯৮১), মনোবিহঙ্গম, হে প্রেম, তোমারে ভেবে ভেবে (১৯৯৮), অপ্রকাশিত একান্ন (১৯৯৯) এবং আবছায়া (২০০৪)। জীবনানন্দ দাশের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলোর মাঝে রয়েছে রূপসী বাংলা, বনলতা সেন, মহাপৃথিবী, বেলা অবেলা কালবেলা, শ্রেষ্ঠ কবিতা ইত্যাদি। এরমধ্যে জীবনানন্দের “বনলতা সেন“ কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়। ১৯৫৫ সালে শ্রেষ্ঠ কবিতা গ্রন্থটি ভারত সরকারের সাহিত্য একাডেমী পুরস্কার লাভ করে। 

জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর আবিষ্কৃত হয় অজস্র গল্প ও উপন্যাস। এগুলোর প্রথম সংকলন জীবনানন্দ দাশের গল্প (১৯৭২, সম্পাদনা : সুকুমার ঘোষ ও সুবিনয় মুস্তাফী)। বেশ কিছুকাল পর প্রকাশিত হয় জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ গল্প (১৯৮৯, সম্পাদনা: আবদুল মান্নান সৈয়দ।)

প্রকাশিত উপন্যাস হলো : মাল্যবান (১৯৭৩), সুতীর্থ (১৯৭৭), চারজন (২০০৪ : সম্পাদক : ভূমেন্দ্র গুহ ও ফয়সাল শাহরিয়ার)।

জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ভারতবর্ষের (বর্তমানে বাংলাদেশ) অন্তর্গত বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা সত্যানন্দ দাশগুপ্ত আর মাতা কুসুমকুমারী দাশ। তার পূর্বপুরুষগণ বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুর (বর্তমান মুন্সীগঞ্জ) পরগণার কুমারভোগ নামক স্থানে "গাওপারা" গ্রামের নিবাসী ছিলেন যা পদ্মায় বর্তমানে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানটি মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় অবস্থিত।

জীবনানন্দের মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন গৃহিনী, কিন্তু তিনি কবিতা লিখতেন। তার সুপরিচিত কবিতা ‘আদর্শ ছেলে’ (আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে/কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে) আজও শিশুশ্রেণির পাঠ্য। জীবনানন্দ ছিলেন পিতামাতার জ্যেষ্ঠ সন্তান; তার ডাকনাম ছিল মিলু।

১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারিতে আট বছরের জীবনানন্দকে ব্রজমোহন বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। বিদ্যালয়ে থাকাকালীন তার বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় রচনার সূচনা হয়। ১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দে ব্রজমোহন বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন (বর্তমানে মাধ্যমিক বা এসএসসি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। দু'বছর পর ব্রজমোহন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন। অতঃপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার উদ্দেশ্যে বরিশাল ত্যাগ করেন।

১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্সসহ বিএ ডিগ্রি লাভ করেন। ওই বছরেই ব্রাহ্মবাদী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় তার প্রথম কবিতা ছাপা হয়। কবিতার নাম ছিল বর্ষ আবাহন।

১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে দ্বিতীয় শ্রেণিতে এম. এ. ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর তিনি আইন বিষয়ে পড়া শুরু করলেও অল্পতেই ছেড়ে দেন। ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে জীবনানন্দ কলকাতার সিটি কলেজে শিক্ষক হিসেবে অধ্যাপনা শুরু করেন। অধ্যাপনা করেছেন বর্তমান বাংলাদেশ ও ভারতের অনেকগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, যার মধ্যে আছে সিটি কলেজ, কলকাতা (১৯২২-১৯২৮), বাগেরহাট কলেজ, খুলনা (১৯২৯); রামযশ কলেজ, দিল্লী (১৯৩০-১৯৩১), ব্রজমোহন কলেজ, বরিশাল (১৯৩৫-১৯৪৮), খড়গপুর কলেজ (১৯৫১-১৯৫২), বড়িশা কলেজ (অধুনা 'বিবেকানন্দ কলেজ', কলকাতা) (১৯৫৩) এবং হাওড়া গার্লস কলেজ, কলকাতা (১৯৫৩-১৯৫৪)। তাঁর কর্মজীবন আদৌ মসৃণ ছিল না। চাকরি তথা সুস্থির জীবিকার অভাব তাকে আমৃত্যু কষ্ট দিয়েছে।

আরো পড়ুন : দেবীপক্ষে, দেবীর পক্ষে

একটি চাকরির জন্য হন্যে হয়ে তিনি দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। স্ত্রী লাবণ্য দাশ স্কুলে শিক্ষকতা করে জীবিকার অভাব কিছুটা পুষিয়েছেন। তিনি মৃত্যুর আগপর্যন্ত হাওড়া গার্লস কলেজে কর্মরত ছিলেন। দুই দফা দীর্ঘ বেকার জীবনে তিনি ইন্সুরেন্স কোম্পানির এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন এবং প্রধানত গৃহশিক্ষকতা করে সংসার চালিয়েছেন। এছাড়া ব্যবসায়ের চেষ্টাও করেছিলেন বছরখানেক। দারিদ্র্য এবং অনটন ছিল তার কর্মজীবনের ছায়াসঙ্গী।

অসম্ভব প্রতিভার অধিকারী জীবনানন্দ ১৪ই অক্টোবর, ১৯৫৪ তারিখে কলকাতার বালিগঞ্জে এক ট্রাম দুর্ঘটনায় আহত হন। ট্রামের ক্যাচারে আটকে তার শরীর দলিত হয়ে গিয়েছিল। ভেঙ্গে গিয়েছিল কণ্ঠা, ঊরু এবং পাঁজরের হাড়। গুরুতরভাবে আহত কবিকে নেওয়া হয় শম্ভূনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে। এখানেই তিনি চিকিৎসক ও সেবিকাদের সকল প্রচেষ্টা বিফলে দিয়ে ২২শে অক্টোবর, ১৯৫৪ তারিখে রাত্রি ১১টা ৩৫ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন।

এস/ আই.কে.জে/ 

জীবনানন্দ দাশ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

স্বপ্ন’র ডেটাবেজ হ্যাক, ঝুঁকির মুখে ৪০ লাখ গ্রাহকের তথ্য

🕒 প্রকাশ: ১১:৩০ অপরাহ্ন, ২৮শে মার্চ ২০২৬

জ্বালানিমন্ত্রীকে ‘আপাদমস্তক নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী’ বললেন আমির হামজা, পাল্টা মন্তব্য বিএনপির

🕒 প্রকাশ: ০৬:৫৩ অপরাহ্ন, ২৮শে মার্চ ২০২৬

ভুয়া ক্লিনিক-নার্সের মতো ভুয়া ডাক্তার তৈরির কারখানাও বন্ধ করতে হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

🕒 প্রকাশ: ০৬:৪০ অপরাহ্ন, ২৮শে মার্চ ২০২৬

ইসরায়েলি গণহত্যার নিন্দা করায় যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদন বাতিল গিটারিস্ট কমলের

🕒 প্রকাশ: ০৬:১৯ অপরাহ্ন, ২৮শে মার্চ ২০২৬

আমার মিটিংয়ে স্বাধীনতাবিরোধীদের যেন ডাকা না হয়: ফজলুর রহমান

🕒 প্রকাশ: ০৫:৫৬ অপরাহ্ন, ২৮শে মার্চ ২০২৬

Footer Up 970x250