ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতে ভারত এখন পর্যন্ত যথেষ্ট উদ্যোগ নিয়েছে। এখন বিষয়টি এগিয়ে নেওয়ার পালা বাংলাদেশের। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ চাইলে বলতে পারে, তারা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে নিম্ন পর্যায়ে রাখতে চায়। সেটিও গ্রহণযোগ্য। এর আগে এমন মনোভাব দেখা গেছে।’
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী এই অবস্থান ব্যক্ত করেন। শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তিনি কেন ভারতের জন্য ‘গুরুত্বপূর্ণ’—এমন এক প্রশ্নের জবাবে পিনাক রঞ্জন বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে ভারতের ভালো সম্পর্ক ছিল। তাই ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাকে এখানে আসতে দেওয়া যাবে না, এমন কথা বলার কোনো কারণ ছিল না।’
সাবেক এই হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি—যিনি আগে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ছিলেন—বলেছিলেন, শেখ হাসিনার দিল্লিতে অবস্থান দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না। সবাই সাধারণভাবে মনে করেছিল, ভারতও এই অবস্থানই অনুসরণ করবে। কিন্তু কিছু লবি প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে এবং তারা বলছে, শেখ হাসিনাকে অবশ্যই বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে বেশ কয়েকবার অনুরোধ করেছে। তবে প্রত্যর্পণ একটি বিচারিক প্রক্রিয়া এবং বাংলাদেশ সরকার এখনো সেই প্রক্রিয়া শুরু করার চেষ্টা করেনি। শেখ হাসিনা যদি নিজে বাংলাদেশে ফিরে যেতে চান, তাহলে ভারত সরকার তাকে বাধা দেবে না। তবে ভারত জানতে চাইবে, বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার পর তার সঙ্গে কী করা হবে। কারণ জামায়াতে ইসলামীর মতো কিছু পক্ষ আছে, যারা বাংলাদেশে ফেরার পর তাকে হত্যা করতে চায়।’
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অপর এক প্রশ্নে জানতে চায়, গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া শেখ হাসিনার বক্তব্য কীভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের পথ কঠিন করেছে? জবাবে এই সাবেক কূটনীতিক বলেন, ‘ভারতের সরকার চাইলে তাকে এ বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারত। কিন্তু বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সময়ে কাউকে কথা বলা থেকে কীভাবে থামানো সম্ভব? শেখ হাসিনাকে ভারতে আটক বা কারাগারে রাখা হয়নি। তিনি বলেছেন, যে পরিণতিই তাকে মোকাবিলা করতে হোক না কেন, তিনি বাংলাদেশে ফিরে যেতে চান।’
দুই দেশের সম্পর্ক কি আবার মেরামত করা সম্ভব কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, ‘অবশ্যই দুই দেশের সম্পর্ক মেরামত করা সম্ভব। তবে এর জন্য দুই পক্ষেরই উদ্যোগ প্রয়োজন। ভারত যথেষ্ট উদ্যোগ নিয়েছে। এখন বিষয়টি ঢাকার ওপর নির্ভর করছে। বাংলাদেশ চাইলে বলতে পারে, তারা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে নিম্ন পর্যায়ে রাখতে চায়। সেটিও গ্রহণযোগ্য। এর আগে এমন মনোভাব দেখা গেছে। ভারত মূলত দুই দেশের সম্পর্কের মৌলিক স্তম্ভগুলোর দিকে নজর দেবে। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা অর্থনৈতিক। ভারত যতটা সম্ভব বাংলাদেশকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।’
খবরটি শেয়ার করুন