বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১লা আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ভারত কেন একই কথা বারবার বলছে *** সত্যিই কী মক্কায় ড্রোন হামলা চালিয়েছেন ইয়েমেনের যোদ্ধারা *** কারাবন্দী সাংবাদিকদের মুক্তির দাবি নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্টের *** পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতাযুদ্ধের স্মৃতি’ *** শাহরিয়ার কবিরকে হুইলচেয়ার ব্যবহারের অনুমতি ট্রাইব্যুনালের *** অধ্যাপক আবুল বারকাতের দুই ফ্ল্যাট জব্দ, গাড়ি-ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ *** আরব সাগরে ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধজাহাজের সংঘর্ষ, দিল্লির প্রতিবাদ *** মন্দিরের মেহেদি পরলে এক বছরের মধ্যে বিয়ে! *** সারের পর্যাপ্ত মজুতের তথ্যে সংসদীয় কমিটিতে দ্বিমত, মাঠপর্যায়ে সংকটের অভিযোগ এমপিদের *** চ্যানেল ওয়ানের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিলের নেপথ্যে কী

ভারত কেন একই কথা বারবার বলছে

প্রণব সাহা

🕒 প্রকাশ: ০২:০৮ পূর্বাহ্ন, ১৭ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

#

ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ভারত দুটি আমন্ত্রণপত্র দিয়েছিল—একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য, অন্যটি ব্রিকস সম্মেলনে বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে অংশ নেওয়ার জন্য। গত মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল আবারও এই কথা বলেছেন। এর মধ্য দিয়ে গত দেড় মাসে একই বিষয়ে নয়াদিল্লির অবস্থান একাধিকবার প্রকাশ্যে এসেছে।

অন্যদিকে ঢাকার বক্তব্য ভিন্ন। ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। আমন্ত্রণ দেওয়া হয়েছিল বিমসটেকের বর্তমান চেয়ার হিসেবে। এ কারণে তারেক রহমান সম্মেলনে যাননি। বাংলাদেশও কোনো সরকারি প্রতিনিধি পাঠায়নি। দুই দেশের এই ভিন্ন ব্যাখ্যা এখন কূটনৈতিক আলোচনার একটি দৃশ্যমান বিষয় হয়ে উঠেছে।

১৫ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশকে প্রথমে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। পরে বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়। অর্থাৎ, তার বক্তব্য অনুযায়ী তারেক রহমান ভারতের কাছ থেকে দুটি আলাদা আমন্ত্রণ পেয়েছেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে, টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং হিন্দুস্তান টাইমস একই বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

এটি অবশ্য রণধীর জয়সওয়ালের প্রথম বক্তব্য নয়। ৪ আগস্ট তিনি প্রথমবার স্পষ্ট করে বলেন, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ফেব্রুয়ারিতে তাকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ব্রিকস সম্মেলনের ক্ষেত্রে তাকে বিমসটেকের বর্তমান চেয়ার হিসেবে সম্মেলনের বহির্মুখী অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণপত্র দেওয়া হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তখন এটিকে ব্রিকসের প্রচলিত রীতি হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

১১ আগস্ট আবারও একই বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দেন জয়সওয়াল। সেদিন তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের পাশাপাশি ব্রিকসের বহির্মুখী অধিবেশনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ১৪ আগস্ট জয়সওয়াল আরও একবার বলেন, বাংলাদেশকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং ব্রিকসের বহির্মুখী অধিবেশনেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

৪ সেপ্টেম্বরও বিষয়টি থেকে সরে আসেনি নয়াদিল্লি। জয়সওয়াল বলেন, তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে যাবেন কি না, সে বিষয়ে ভারতের কাছে কোনো তথ্য নেই। একই সঙ্গে তিনি আগের অবস্থানও বহাল রাখেন—তারেক রহমানকে বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে ব্রিকসের বহির্মুখী অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

সবশেষ ১৫ সেপ্টেম্বর আবারও একই ব্যাখ্যা দেন তিনি। অর্থাৎ, প্রকাশ্য নথিভুক্ত বক্তব্যের ভিত্তিতে ৪ আগস্ট, ১১ আগস্ট, ১৪ আগস্ট, ৪ সেপ্টেম্বর এবং ১৫ সেপ্টেম্বর—অন্তত পাঁচবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল একই অবস্থান তুলে ধরেছেন। ১৫ সেপ্টেম্বরের বক্তব্যে তিনি বিষয়টি আরও সংক্ষিপ্ত করে বলেন—একটি আমন্ত্রণ দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য, অন্যটি ব্রিকস সম্মেলনের জন্য।

ঢাকার বক্তব্যের ধারাটিও অবশ্য শুরু থেকেই একরকম ছিল না।

২৩ জুলাই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ভারত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আমন্ত্রণপত্র পৌঁছেছে এবং সেটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন। সে সময় দেশের গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া ভারতের আমন্ত্রণ হিসেবেই প্রকাশিত হয়।

এরপর ১০ আগস্ট বক্তব্যে আসে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালিলুর রহমান বলেন, ভারতের দুটি আমন্ত্রণকে আলাদা করে দেখতে হবে। একটি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ। অন্যটি বিমসটেকের চেয়ারকে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ। তিনি বলেন, ব্রিকসের আমন্ত্রণটি তারেক রহমানকে ব্যক্তিগতভাবে দেওয়া হয়নি; বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

১০ সেপ্টেম্বর অবস্থানটি আরও স্পষ্ট করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। আমন্ত্রণ দেওয়া হয়েছে বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে। তিনি প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশের সরকারকে আমন্ত্রণ না জানালে সরকারি প্রতিনিধি কীভাবে সেখানে যাবে? একই সঙ্গে তিনি জানান, তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর বহুপক্ষীয় কোনো সম্মেলনের মাধ্যমে নয়, দ্বিপক্ষীয় সফর হিসেবে হওয়ার বিষয়ে ঢাকা গুরুত্ব দিচ্ছে।

এভাবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অন্তত দুজন মন্ত্রী—পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির—স্পষ্টভাবে বলেছেন, ব্রিকসের আমন্ত্রণটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে। পরে বিএনপির প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনি ভারত প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ না দেওয়ার বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। গতকাল ১৬ সেপ্টেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও বলেন, তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

ফলে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অন্তত চারটি পর্যায়ে একই ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায়—১০ আগস্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালিলুর রহমান, ১০ সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ১২ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এবং ১৬ সেপ্টেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তবে ২৩ জুলাইয়ের শামা ওবায়েদের বক্তব্য ছিল এর আগে প্রকাশিত ভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা। সেটি বাদ দিলে পরবর্তী সময়ে ঢাকার বক্তব্যে মূল জোর পড়ে আমন্ত্রণের পরিচয় বা পদবির ওপর।

এর মধ্যে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে। তারেক রহমান সেখানে যাননি। বাংলাদেশ কোনো সরকারি প্রতিনিধিও পাঠায়নি। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ১৩ সেপ্টেম্বরের বিশ্লেষণে বলা হয়, আমন্ত্রণপত্রের ভাষা এবং দুই দেশের মধ্যে আস্থার ঘাটতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সম্মেলন থেকে দূরে থাকে। তাহলে ভারত কেন একই কথা বারবার বলছে?

কূটনৈতিকভাবে এর একটি ব্যাখ্যা হতে পারে, নয়াদিল্লি বিষয়টিকে আমন্ত্রণ না জানানোর ঘটনা হিসেবে দেখাতে চাইছে না। বরং তারা বোঝাতে চাইছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আলাদাভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। পাশাপাশি ব্রিকস সম্মেলনে বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো ছিল আলাদা বিষয়। ১৫ সেপ্টেম্বর জয়সওয়ালের বক্তব্যে এই দুটি বিষয়কে আবার পাশাপাশি তুলে ধরা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকার দৃষ্টিভঙ্গিতে বিষয়টি শুধু একটি সম্মেলনের আমন্ত্রণের প্রশ্ন নয়। এটি দুই দেশের সম্পর্কের প্রতীকী দিকের সঙ্গেও যুক্ত। বাংলাদেশ চাইছে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর সরাসরি দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে হোক। সেখানে দুই দেশের রাজনৈতিক, নিরাপত্তা, সীমান্ত, পানি ও বাণিজ্যিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ কারণে আমন্ত্রণের ভাষা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যৎ আলোচনার পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এটিকে কূটনৈতিক সম্পর্কের বড় ধরনের অবনতির প্রমাণ হিসেবে এখনই দেখার সুযোগ নেই। কারণ একই সময়ে দুই পক্ষই দ্বিপক্ষীয় সফরের সম্ভাবনা পুরোপুরি বাতিল করেনি।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালিলুর রহমান জুলাইয়ের শেষ দিকে বলেছিলেন, ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে কিছু ‘অস্বস্তির’ বিষয় রয়েছে এবং সেগুলো সমাধান করা জরুরি। ১০ সেপ্টেম্বর হুমায়ুন কবিরও বলেন, উপযুক্ত সময় ও পরিবেশে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় ভারত সফর হতে পারে। অর্থাৎ, ব্রিকস নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগের দরজা বন্ধ হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও এই ঘটনার ব্যাখ্যায় পার্থক্য আছে। বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলছেন, দুই দেশ বিষয়টিকে দুইভাবে দেখেছে। ভারতের কাছে এটি বহুপক্ষীয় আয়োজনের অংশ। বাংলাদেশের কাছে এটি ছিল দ্বিপক্ষীয় মর্যাদার প্রশ্ন। তার মতে, এই দুই দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য থেকেই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সম্মেলনে বাংলাদেশ থাকলে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হতো।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরীর মতে, ব্রিকস একটি বহুপক্ষীয় সংগঠন। ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় টানাপোড়েনকে ব্রিকসের সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের সেখানে উপস্থিত থাকা উচিত ছিল।

অন্যদিকে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী মনে করেন, আস্থার ঘাটতি ও দুই দেশের মধ্যে চলমান সমস্যার কারণে তারেক রহমানের না যাওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তি ছিল। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা অন্য কোনো মন্ত্রীকে পাঠিয়ে সেখানে গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারত।

বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তীও মনে করেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক স্বাভাবিক করা সম্ভব। ১৪ সেপ্টেম্বর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে উভয় পক্ষের উদ্যোগ দরকার। তার মতে, ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতার বিকল্প নেই।

সব মিলিয়ে ব্রিকস সম্মেলন শেষ হলেও আমন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ক শেষ হয়নি। বরং এখন প্রশ্ন হচ্ছে, দুই দেশ এই মতপার্থক্যকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে সামনে এগোয়। ভারতের বক্তব্য—তারেক রহমান দুটি আমন্ত্রণ পেয়েছেন। বাংলাদেশের বক্তব্য—ব্রিকসের আমন্ত্রণটি ছিল বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়।

এই দুই বক্তব্যের মধ্যে মৌলিক পার্থক্যটি আমন্ত্রণ ছিল কি না, তা নিয়ে নয়। পার্থক্যটি আমন্ত্রণটি কোন পরিচয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে। আর কূটনীতিতে এমন প্রতীকী বিষয়ও কখনো কখনো বাস্তব আলোচনার পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।

তবে এখন পর্যন্ত দুই দেশের কেউই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ছিন্ন করার কোনো অবস্থান নেয়নি। বরং উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনার কথা বলছে। ফলে সামনে দুই দেশের আলোচনায় এই আমন্ত্রণ-বিতর্ক কতটা জায়গা নেয় এবং দ্বিপক্ষীয় সফর শেষ পর্যন্ত কীভাবে হয়, সেটিই হবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বাংলাদেশ-ভারত

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250