ছবি: সংগৃহীত
একুশে পদকপ্রাপ্ত অর্থনীতিবিদ ও অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি ড. মইনুল ইসলাম বলছেন, দেশের প্রধান কয়েকটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টি আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়ায় নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ থেকেই যাবে।
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইস্যুকে যথাযথভাবে মীমাংসা করতে পারেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম মনে করেন, আওয়ামী লীগের ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টিকে অন্তর্বর্তী সরকার যথাযথভাবে মীমাংসা করতে পারেনি প্রধানত গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্রছাত্রীদের চরম বিরোধিতার কারণে।
তার মতে, একই সঙ্গে এ ইস্যুতে জামায়াতে ইসলামীর বিরোধিতা প্রধান প্রতিবন্ধক হিসেবে বিরাজমান। এদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব যেকোনো মূল্যে নিজের কাছে ধরে রাখতে শেখ হাসিনাও মরিয়া তৎপরতা অব্যাহত রাখায় তার বিরুদ্ধে গিয়ে অন্য কোনো নেতানেত্রী আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের দায়িত্ব নিতে সাহস পাননি।
সেজন্য বিষয়টি অমীমাংসিত রয়েই গেল বলে অভিমত মইনুল ইসলামের। 'সাফল্যের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতাও কম নয়' শিরোনামে দৈনিক বণিক বার্তায় প্রকাশিত এক উপসম্পাদকীয়তে তিনি এসব কথা বলেন। মইনুল ইসলামের লেখাটি আজ শুক্রবার (১৬ই জানুয়ারি) বণিক বার্তার ছাপা সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে।
এদিকে লেখক, গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করছেন, অনেক অনিশ্চয়তা ডিঙিয়ে নির্বাচন (ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ) হতে যাচ্ছে। তারপরও শতভাগ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ১২ই ফেব্রুয়ারির দিনটা পেরোলে আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারব, দেশে একটা নির্বাচন হয়েছে। আমার মনে হয়, সমস্যা শুরু হবে তার পর থেকে।
তিনি বলেন, রাজনীতিটা এখন আর ভদ্র-সজ্জনদের আওতায় নেই। এটি চলে গেছে চাঁদাবাজ-গালিবাজদের হাতে। যে যত বেশি গাল দিতে পারে, সে তত বেশি হাততালি পায়। হাততালির রাজনীতিতে সুবচনের জায়গা নেই।
'হাততালির রাজনীতিতে ভালো কথার জায়গা নেই' শিরোনামে দৈনিক প্রথম আলোতে লেখা এক উপসম্পাদকীয়তে মহিউদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন। তার লেখাটি আজ শুক্রবার প্রথম আলোর ছাপা সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে।
মইনুল ইসলাম ও মহিউদ্দিন আহমদের লেখা উপসম্পাদকীয়ের লিংক ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আজ ছড়িয়ে পড়েছে। নানা শ্রেণি-পেশার নেটিজেন ওই দুটি উপসম্পাদকীয় নিয়ে নানামুখী আলোচনা করছেন। অনেকে উপসম্পাদকীয় দুটির নির্বাচিত অংশ নিয়ে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করছেন।
খবরটি শেয়ার করুন