মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩১শে ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ব্রিকসে ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শেখ হাসিনার ফোনালাপের দাবি, নীরব ঢাকা *** ‘অভূতপূর্ব বাক্‌স্বাধীনতা’র দাবি মাহদী আমিনের, হয়রানির তথ্য তুলে ধরল টিআইবি *** গুলশান ও হাইকোর্ট এলাকার ঘটনায় জড়িতরা শনাক্ত হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী *** স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী *** বাজেয়াপ্তের আদেশ: কাদের, নাছিম, আরাফাত ও নিখিলের কী কী সম্পত্তি, মূল্য কত *** মক্কায় হামলার শঙ্কায় সতর্কতা সৌদির, কিছুক্ষণ পরই প্রত্যাহার *** ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের ফাঁসির আদেশ *** সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর সুপ্রিম কোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ *** সিলেটে ২ ওলির মাজার জিয়ারত করলেন রাষ্ট্রপতি *** পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সুখবর এক্সপ্লেইনার

বাজেয়াপ্তের আদেশ: কাদের, নাছিম, আরাফাত ও নিখিলের কী কী সম্পত্তি, মূল্য কত

আদিত্য কবির

🕒 প্রকাশ: ০৬:৫৫ অপরাহ্ন, ১৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

#

ফাইল ছবি

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তাদের মধ্যে পাঁচজনের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করে জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাতজন হলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। মামলার শুরু থেকেই সাত আসামিই পলাতক ছিলেন। ফলে তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচারকাজ পরিচালিত হয় এবং মঙ্গলবার তাদের অনুপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করা হয়। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।

ট্রাইব্যুনালের আদেশ অনুযায়ী, ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করা হবে। সেই সম্পদ থেকে জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এই পাঁচজনের মধ্যে শেখ ফজলে শামস পরশ ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন না। ফলে তার নির্বাচনী হলফনামা পাওয়া যায় না। এ কারণে তার সম্পদের পরিমাণও এই প্রতিবেদনে হিসাব করা সম্ভব হয়নি। অন্য চারজন ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা থেকে তাদের ঘোষিত সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।

ওবায়দুল কাদের ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ আসনের প্রার্থী ছিলেন। হলফনামায় তিনি নিজের কাছে নগদ ৮০ হাজার টাকা থাকার কথা জানান। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার অর্থ ছিল প্রায় ৭৬ লাখ টাকা। সঞ্চয়পত্র ছিল প্রায় দেড় কোটি টাকার। তার একটি গাড়ির মূল্য দেখানো হয় ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ২৫ তোলা সোনার মূল্য দেখানো হয় দেড় লাখ টাকা। এ ছাড়া প্রায় ৯ লাখ ২০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকার আসবাব থাকার তথ্য দেওয়া হয়।

হলফনামার হিসাবে এসব মিলিয়ে কাদেরের অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে ঢাকার উত্তরায় পাঁচ কাঠা জমি থাকার কথা উল্লেখ করা হয়। ওই জমির মূল্য দেখানো হয় প্রায় ৫১ লাখ টাকা। অর্থাৎ হলফনামায় ঘোষিত হিসাবে তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এর অর্ধেকের হিসাব করলে পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। তবে এটি হলফনামায় ঘোষিত মূল্যের ভিত্তিতে করা হিসাব; বাজেয়াপ্ত সম্পদের চূড়ান্ত আর্থিক মূল্য নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মূল্যায়ন প্রয়োজন হবে।

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ২০২৪ সালের নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন। তার হলফনামায় নগদ অর্থের পরিমাণ দেখানো হয় ৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ছিল প্রায় ৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ও বন্ডের মূল্য দেখানো হয় প্রায় ১১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। সঞ্চয়পত্র ছিল ৬০ লাখ টাকার। দুটি গাড়ির মূল্য প্রায় ৬৫ লাখ টাকা। ২৫ ভরি সোনার মূল্য দেখানো হয় সাড়ে ৩ লাখ টাকা। ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবের মূল্য ছিল সোয়া ১০ লাখ টাকা।

হলফনামা অনুযায়ী নাছিমের অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য প্রায় ২৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে মাদারীপুর ও সাভারে ১৩৯ শতাংশ কৃষিজমি রয়েছে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, মাদারীপুর ও গাজীপুরে তার অকৃষিজমি রয়েছে ১৫৩ শতাংশ। এসব জমির মোট মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা। ঢাকার উত্তরায় একটি ভবনের মূল্য দেখানো হয় ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা। মিরপুরে একটি ফ্ল্যাটের মূল্য ৪৫ লাখ টাকা।

সব মিলিয়ে নাছিমের স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা। অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদ যোগ করলে তাঁর ঘোষিত সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৩৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এর অর্ধেক প্রায় ১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এখানেও হিসাবটি হলফনামায় দেওয়া মূল্য ধরে করা।

মোহাম্মদ আলী আরাফাত ২০২৪ সালের নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং পরে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তার হলফনামায় স্থাবর সম্পদের মধ্যে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্টের কথা উল্লেখ রয়েছে। এর মূল্য দেখানো হয় ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর বাইরে তার নিজের নামে অন্য কোনো স্থাবর সম্পদের তথ্য দেওয়া হয়নি।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে আরাফাতের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ ছিল বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারে। নয়টি কোম্পানিতে তার শেয়ারের মূল্য প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। সঞ্চয়পত্র ছিল ৩৪ লাখ টাকার। একটি গাড়ির মূল্য দেখানো হয় ১৭ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মূল্য ৩ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে তার অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ যোগ করলে মোট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। এর অর্ধেক প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

মাইনুল হোসেন খান নিখিল ২০২৪ সালের নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার হলফনামায় স্থাবর সম্পদের মধ্যে কৃষিজমির তথ্য রয়েছে। একটি কৃষিজমির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ছয় একর এবং এর মূল্য দেখানো হয় ৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। আরেকটি কৃষিজমি ৫৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, যার মূল্য ২৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা। তিন কাঠার একটি অকৃষি প্লটের মূল্য দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ৭১ হাজার ৬০০ টাকা। বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট শ্রেণিতে সম্পদের মূল্য দেখানো হয় ৩৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬১০ টাকা। সব মিলিয়ে তার ঘোষিত স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৬৯ লাখ ১৬ হাজার টাকা।

নিখিলের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ রয়েছে ২৪ লাখ টাকার কিছু বেশি। নিজের নামে এক কোটি টাকার স্থায়ী আমানত রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তার শেয়ারের মধ্যে নাবিল প্রপার্টিজে ৮ লাখ টাকা এবং নাবিল প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিংয়ে ৬২ লাখ টাকার শেয়ার রয়েছে। তিনটি যানবাহনের মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি। ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবের মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা। হলফনামায় অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে। ফলে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে তার ঘোষিত সম্পদের মূল্য আনুমানিক ৬ কোটি ২০ লাখ টাকা। এর অর্ধেক প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা।

এই চারজনের হলফনামায় ঘোষিত সম্পদের হিসাব যোগ করলে মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি ২ লাখ টাকা। সেই হিসাবে পাঁচজনের মধ্যে পরশের সম্পদ বাদ দিয়ে কেবল এই চারজনের ঘোষিত সম্পদের অর্ধেকের আনুমানিক মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২৫ কোটি টাকা। তবে ট্রাইব্যুনালের রায় কার্যকর করার সময় সম্পদের প্রকৃত মূল্য, মালিকানা ও হস্তান্তরযোগ্যতা যাচাই করা হবে। তাই হলফনামার হিসাবকে বাজেয়াপ্ত সম্পদের চূড়ান্ত মূল্য হিসেবে দেখা যাবে না।

মামলার বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি অভিযোগ গঠন করা হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। মামলায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র নিহত শরিফ ওসমান বিন হাদিসহ তদন্ত কর্মকর্তাকে নিয়ে মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ৪ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক শুরু করে। ১২ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়। এরপর পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। ১৭ আগস্ট মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

অনুপস্থিতিতে বিচার ও মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ক্ষেত্রে নতুন নয়। গত বছরের ১৭ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও অনুপস্থিতিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ওই রায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। রয়টার্স, গার্ডিয়ান, আল জাজিরা, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে অনুপস্থিতিতে বিচার এবং আসামিদের ন্যায্য বিচার পাওয়ার সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন ও বিতর্কের বিষয়টি উঠে আসে।

গার্ডিয়ান জানিয়েছিল, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বিচার নিয়ে তার পক্ষ থেকে ন্যায্যভাবে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছিল। একই প্রতিবেদনে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ট্রাইব্যুনালের ন্যায্য বিচার-সংক্রান্ত মানদণ্ড নিয়ে উদ্বেগের কথাও তুলে ধরা হয়।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান অনুপস্থিতিতে বিচারের মুখোমুখি হন এবং তাদের অনুপস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। একই সঙ্গে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের আগের উদ্বেগের কথাও উল্লেখ করা হয়।

রয়টার্সের প্রতিবেদনেও শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। অন্যদিকে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানায়, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান দুজনই অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড পান এবং তারা বিচারপ্রক্রিয়াকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেন।

তবে সবচেয়ে স্পষ্ট সমালোচনা আসে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছ থেকে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছিল, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান তাদের পছন্দের আইনজীবী দিয়ে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাননি এবং অনুপস্থিতিতে বিচার ও মৃত্যুদণ্ড গুরুতর ন্যায্য বিচার-সংক্রান্ত উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংস্থাটি বলেছিল, মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন হলেও বিচারপ্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক ন্যায্য বিচারমান পূরণ করতে হবে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও শেখ হাসিনার বিচারকে ‘ন্যায্য ও সুবিচারপূর্ণ’ হয়নি বলে সমালোচনা করেছিল। সংস্থাটির বক্তব্য ছিল, ২০২৪ সালের হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের অবশ্যই তদন্ত ও বিচার করতে হবে, কিন্তু তা হতে হবে ন্যায্য বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে।

জাতিসংঘও ওই রায়ের পর বলেছিল, ভুক্তভোগীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হলেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিত হয়নি। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর অনুপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বিচার আন্তর্জাতিক যথাযথ প্রক্রিয়া ও ন্যায্য বিচারমান পূরণ করেছে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছিল।

সাম্প্রতিক মামলায় অবশ্য পলাতক সাত আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন। ট্রাইব্যুনাল তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সাক্ষ্য ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি বিবেচনা করে আজ  মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করে জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের মধ্যে তা বণ্টনের আদেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি সম্পদ বাজেয়াপ্তের এই আদেশও মামলার রায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে।

মৃত্যুদণ্ড

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

ব্রিকসে ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শেখ হাসিনার ফোনালাপের দাবি, নীরব ঢাকা

🕒 প্রকাশ: ০৮:০৫ অপরাহ্ন, ১৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘অভূতপূর্ব বাক্‌স্বাধীনতা’র দাবি মাহদী আমিনের, হয়রানির তথ্য তুলে ধরল টিআইবি

🕒 প্রকাশ: ০৭:৩৫ অপরাহ্ন, ১৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

গুলশান ও হাইকোর্ট এলাকার ঘটনায় জড়িতরা শনাক্ত হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

🕒 প্রকাশ: ০৭:২১ অপরাহ্ন, ১৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

🕒 প্রকাশ: ০৭:১৬ অপরাহ্ন, ১৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাজেয়াপ্তের আদেশ: কাদের, নাছিম, আরাফাত ও নিখিলের কী কী সম্পত্তি, মূল্য কত

🕒 প্রকাশ: ০৬:৫৫ অপরাহ্ন, ১৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250