সোমবার, ৩১শে আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বরেণ্য শিল্পীদের স্মৃতিমাখা লোগোয় পরিবর্তন আনছে বিটিভি, মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক মুছে ফেলার শঙ্কা *** নতুন বেতনকাঠামো: কোন গ্রেডে কত বেতন হচ্ছে *** শি-পুতিনের সঙ্গে একই বৈঠকে মোদি-শাহবাজ-পেজেশকিয়ান, বদলে যাচ্ছে কী ইউরেশিয়ার কূটনৈতিক সমীকরণ *** ধর্মীয়-সামাজিক সংঘাতে যে বছর শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ: পিউ রিসার্চ *** মন্ত্রিসভায় নবম পে স্কেল অনুমোদন *** নতুন বেতনকাঠামো মন্ত্রিসভায় অনুমোদন, গ্রেডভেদে বাড়বে ১০০–১৪২ শতাংশ *** রিয়ালের তিন তারকার রসায়ন নিয়ে যা বললেন মরিনহো *** রংপুরে ৪ খুন: সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের ডোপ টেস্টে মাদকের উপস্থিতি মেলেনি *** ডেঙ্গুতে এ বছর মৃত্যু ১০০ ছুঁই ছুঁই, আগস্টেই ৪৩ *** ইসলামকে ‘অন্য ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ’ বললেন কর্ণাটকের মন্ত্রী, পদত্যাগ দাবি বিজেপির

চট্টগ্রামে মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে প্রশ্নের মুখে হাসনাত আবদুল্লাহ, নেটিজেনদের সমালোচনা

নবনীতা রায়

🕒 প্রকাশ: ১০:৫০ অপরাহ্ন, ১৪ই এপ্রিল ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও কুমিল্লা–৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে নগরের কাট্টলি এলাকায় মনজুর আলমের বাসভবনে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন তিনি। খবর পেয়ে এ সময় মনজুর আলমের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন একদল লোক, যারা নিজেদের জুলাই আন্দোলনকারী বলে পরিচয় দেন।

সাক্ষাৎ শেষে হাসনাত আবদুল্লাহ ওই বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাকে নানা প্রশ্ন করেন জুলাই আন্দোলনকারী পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ ঘটনার একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, মনজুর আলমের বাসার সামনে হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে কয়েকজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছেন।

এ সময় একজন হাসনাত আবদুল্লাহকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনার আওয়ামী লীগের দোসরের বাসায় কাজ কী? আপনি একজন জুলাই যোদ্ধা। সংসদে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার কথা বলছেন। তাহলে আওয়ামী লীগের দোসরের বাসায় কেন?’

এ সময় হাসনাত আবদুল্লাহকে হাত নাড়িয়ে তাদের শান্ত করতে দেখা যায়। পরে একজন এসে বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের সরে যেতে বলেন।

হাসনাত আবদুল্লাহর সৌজন্য সাক্ষাৎ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিশেষ করে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় কিছু ব্যক্তি তাকে ঘিরে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া আরও তীব্র হয়েছে।

অনেক নেটিজেন এই ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক দ্বিচারিতা’ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, একদিকে সংসদে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের মতো কঠোর বক্তব্য দেওয়া, অন্যদিকে সেই দলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত একজন সাবেক মেয়রের বাসায় গিয়ে সাক্ষাৎ করা—এটি স্পষ্টভাবে অবস্থানের অসঙ্গতি প্রকাশ করে। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, এটি নতুন প্রজন্মের রাজনীতির দাবি করা নেতাদের জন্য একটি ‘বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট’ তৈরি করতে পারে।

নেটিজেনরা সরাসরি হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মধ্যে অসামঞ্জস্য তুলে ধরে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, যদি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এত দৃঢ় অবস্থান থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্দেশ্য কী ছিল—এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত।

সব মিলিয়ে, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। কেউ এটিকে রাজনৈতিক ভণ্ডামির প্রমাণ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে স্বাভাবিক রাজনৈতিক যোগাযোগ বলেই মনে করছেন। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এই ঘটনা হাসনাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক অবস্থান ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, যা তার জন্য একটি বড় জনমত-চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এ বিষয়ে এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগরের সমন্বয়কারী সদস্য ও মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়কারী রিদুয়ান হৃদয় স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহ মূলত ব্যক্তিগত কাজে চট্টগ্রামে এসেছিলেন। এ সময় সাবেক মেয়র মনজুর আলমের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তিনি তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

জানতে চাইলে সাবেক মেয়র মনজুর আলম সন্ধ্যায় মুঠোফোনে সুখবর ডটকমকে বলেন, ‘সংসদ সদস্য এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ চট্টগ্রামে এসেছিলেন। পরে উনি আমার বাসায় বেড়াতে আসেন। বাসায় তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে। এর বেশি কিছু নয়।’

এনসিপির প্রার্থী হয়ে আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে মনজুর আলম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে। এর মধ্যে তার বাসায় হাসনাত আব্দুল্লাহর যাওয়া নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে মনজুর আলম বলেন, ‘রাজনৈতিক কোনো বিষয়েই আমাদের মধ্যে আলাপ হয়নি।’

বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রামে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এর মধ্যে রাত ৮টায় এনসিপির পক্ষ থেকে পাঠানো একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘বৈঠকে তারা দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন। বৈঠকে উভয় নেতাই আগামী দিনে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।’

মোহাম্মদ মনজুর আলম ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বিএনপির সমর্থন নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়ে আলোচনায় আসেন। ‘রাজনৈতিক গুরু’ হিসেবে পরিচিত সাবেক মেয়র প্রয়াত এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে পরাজিত করে চমক সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। মেয়র হওয়ার পর বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাও হয়েছিলেন।

২০১৫ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশনের নির্বাচনেও বিএনপির সমর্থনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। একপর্যায়ে নির্বাচনের দিন সকালে কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন মনজুর আলম। এর পর থেকে তাকে আর বিএনপির রাজনৈতিক কার্যক্রমে দেখা যায়নি তাকে।

এর মধ্যে ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের একটি আসনে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হন মনজুর আলম। ওই বছর তিনি আর নির্বাচন করেননি। ২০২০ সালে সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কেনেন মনজুর আলম। তবে সেবারও তাকে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ।

বিএনপির রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ার পর দুই দফায় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইলেও দলটির কোনো পদে ছিলেন না মনজুর আলম।

হাসনাত আবদুল্লাহ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250