রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৪ঠা আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** কমলাপুর রেলস্টেশনে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণ *** তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর আগামী নভেম্বরে করা যায় কি না, আলোচনায় ঢাকা-দিল্লি *** জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান *** মন্ত্রী বড়, নাকি সংসদ সদস্য—কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রশ্ন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের *** আওয়ামী লীগ-জামায়াত এক হয়েও বিএনপির কিছুই করতে পারেনি: এমপি চাঁদ *** তেজগাঁওয়ে মসজিদে গোপন বৈঠক: উগ্রবাদ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ১২ জন ৩ দিনের রিমান্ডে *** কেরানীগঞ্জে থানার সামনে ট্রাকে আগুন, আব্দুল্লাহপুরে ককটেল বিস্ফোরণ *** রাজধানীর মিরপুর ও মধ্যবাড্ডায় ৩ বাসে অগ্নিসংযোগ, যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরণ *** ‘আসিফ মাহমুদের দুর্নীতি ও লুটপাটের গডফাদার ড. ইউনূস’ *** শেখ হাসিনার দেশে ফেরার আগেই সরকারের ওপর ‘চাপ’ সৃষ্টি করতে চায় আওয়ামী লীগ

সমাজে ধর্ষক মনের বিষবাষ্প, বিচার কেন অধরা!

উপ-সম্পাদকীয়

🕒 প্রকাশ: ১১:২০ অপরাহ্ন, ২২শে মে ২০২৬

#

প্রতীকী ছবি

শায়লা শবনম

একের পর এক কন্যাশিশু ধর্ষণ আর ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা...! এসব ঘটনায় ধরা পরা অপরাধীদের জবানবন্দিতে শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার ভয়ঙ্কর সব তথ্য জনসমক্ষে আসছে। এই সমাজে কেন শিশুদের জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠছে। আর ফুলের মতো কন্যাশিশুরা কেন বেশি যৌন লালসার শিকার হচ্ছে! এসব ঘটনা দেশের সর্বস্তরে বিবেকবান মানুষকে নাড়া দিচ্ছে, ভাবিয়ে তুলেছে।

পরিস্থিতির এতো অবনতি হয়েছে যে, কন্যাশিশুরাই শুধু নয়, ছেলেশিশুরাও বিকৃত যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছে। ঘর, প্রতিবেশ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান— কোথাও যেন শিশুদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নেই। অথচ এখনো পর্যন্ত কোন হত্যাকাণ্ডেরই বিচার হয়নি!

সাম্প্রতিক সময়ে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও নির্মম হত্যার ঘটনা পুরো জাতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। যে নৃশংসতার বর্ণনা এসেছে, তা শুধু একটি অপরাধ নয়; এটি সমাজের গভীরে জন্ম নেওয়া এক ভয়ংকর অসুস্থতার বহিঃপ্রকাশ। শিশুটির শরীর ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছে, হত্যার পর মরদেহ গুমের চেষ্টা হয়েছে—এসব শুনলে মনে হয় মানুষ নয়, যেন একদল হিংস্র পশুর মুখোমুখি আমরা দাঁড়িয়ে আছি। অথচ এই অপরাধী সমাজেরই একজন, প্রতিবেশী, পরিচিত মুখ।

এসব ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় লেখক তসলিমা নাসরিন এক ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, “বাংলাদেশে শিশু-ধর্ষণ আর শিশু-হত্যা প্রতিদিন ঘটছে। ঘরে-বাইরে কোথাও শিশুরা নিরাপদ নয়।” তার ভাষায়, সমাজে এমন এক নিষ্ঠুরতা ও অমানবিকতা ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে সম্ভাব্য ভিকটিম ও সম্ভাব্য ধর্ষক—দু’জনকেই আমরা প্রতিদিন আমাদের চারপাশে দেখতে পাই। যদিও তার মন্তব্যের কিছু অংশ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, তবুও একটি বিষয় স্পষ্ট—বাংলাদেশে শিশু নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ এখন জাতীয় বাস্তবতা হয়ে উঠেছে।

প্রশ্ন হচ্ছে—কেন এমন হচ্ছে? কেন কন্যাশিশুরা আজ যৌন লালসার সহজ শিকারে পরিণত হচ্ছে? এর উত্তর খুঁজতে গেলে প্রথমেই সামনে আসে বিচারহীনতার সংস্কৃতি। মহিলা পরিষদের তথ্য বলছে, নারী নির্যাতনের মাত্র ৩ শতাংশ ঘটনার বিচার হয়, বাকি ৯৭ শতাংশই থেকে যায় বিচারের বাইরে। যখন অপরাধী জানে যে ক্ষমতা, রাজনৈতিক পরিচয়, অর্থ বা সামাজিক প্রভাব তাকে রক্ষা করবে, তখন তার মধ্যে ভয় কাজ করে না। বরং অপরাধ করার সাহস বাড়ে।

শুধু আইন করলেই সমাজ বদলায় না; আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বছরের পর বছর মামলার জট, সাক্ষীর অনুপস্থিতি, রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক দুর্বলতা—সব মিলিয়ে বিচার প্রক্রিয়া হয়ে উঠেছে অনিশ্চিত। ফলে ধর্ষক জানে, কিছুদিন আলোচনা হবে, তারপর ঘটনা চাপা পড়ে যাবে। এই দায় শুধু রাষ্ট্রের নয়, সমাজেরও।

আরেকটি বড় কারণ সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়। পরিবারে মানবিক শিক্ষা কমে যাচ্ছে। শিশুদের প্রতি সম্মান, নারীর প্রতি সহমর্মিতা, আত্মসংযম—এসব মূল্যবোধ চর্চা এখন দুর্বল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিকৃত যৌন কনটেন্টের সহজলভ্যতা, নারীর পণ্যায়ন, সহিংসতাকে বিনোদনে রূপ দেওয়ার প্রবণতা মানুষের মনোজগতে গভীর প্রভাব ফেলছে।

বিশেষজ্ঞরা বহুদিন ধরেই বলছেন, যৌন অপরাধ শুধু কামনা নয়, এটি ক্ষমতারও প্রকাশ। ধর্ষক তার শিকারকে মানুষ হিসেবে দেখে না; দেখে দুর্বল এক দেহ হিসেবে, যার ওপর কর্তৃত্ব ফলানো যায়। শিশুরা সবচেয়ে অসহায় বলে তারা সহজ টার্গেটে পরিণত হয়। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বাস্তবতা হলো—অধিকাংশ শিশুই পরিচিত মানুষের হাতে নির্যাতিত হয়।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য বলছে, গত ১ জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে ৪৬ শিশু। ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছে ১৪ শিশু এবং ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যা করা হয়েছে ৩ শিশুকে। ধর্ষণের শিকার দুই শিশু আত্মহত্যা করেছে। এছাড়া, বিভিন্ন ঘটনায় জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত ১১৫ শিশু খুন হয়েছে।

আসকের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান আরও বলছে, গত পাঁচ বছরে দেশে মোট ২ হাজার ৩৩৯টি শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বছরভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সর্বশেষ ২০২৬ সালে ৯৪টি, এর আগে ২০২৫ সালে ৪৫৬টি, ২০২৪ সালে ২৩৪টি, ২০২৩ সালে ৩১৪টি, ২০২২ সালে ৫৬১টি এবং ২০২১ সালে ৭৭৪টি শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। অর্থাৎ ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিগত পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ বছরের হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৪৪৯টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ঘটনায় অপরাধী ছিল প্রতিবেশী, আত্মীয় বা ঘনিষ্ঠজন। অর্থাৎ শিশুর জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ অচেনা কেউ নয়; বরং পরিচিত মানুষই। গত ২০ মে সিলেটের জৈন্তাপুরে নিজের ১১ বছরের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে এক বাবার গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা আমাদের বিবেককে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

একজন বাবা, যিনি সন্তানের নিরাপত্তার প্রতীক হওয়ার কথা, তিনিই যখন ধর্ষক হয়ে ওঠেন— তখন বুঝতে হবে সমাজের নৈতিক ভিত্তি ভয়াবহভাবে ভেঙে পড়েছে। এই সংকটের পেছনে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতাও দায়ী। দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতা, প্রতিহিংসা, মব সংস্কৃতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার মানুষের মধ্যে ভয়াবহ নিষ্ঠুরতা তৈরি করেছে। যখন মানুষ প্রতিদিন দেখে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে, তখন আইনের প্রতি শ্রদ্ধা কমে যায়। রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা ভেঙে পড়ে।

এ কারণেই রামিসার ঘটনায় মানুষ ক্ষুব্ধ হলেও একইসঙ্গে হতাশ। তারা বিশ্বাস করতে পারছে না যে বিচার সত্যিই হবে। ফলে মেয়ে হত্যার ঘটনায় অনেক বড় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন রামিসার বাবা। উনি বলছেন, 'বিচার আপনারা করতে পারবেন না, আমি বিচার চাই না। আরেকটি ঘটনা ঘটবে, এটা ধামাচাপা পড়ে যাবে, আপনারা ভুলে যাবেন, কিছুই করতে পারবেন না।' কারণ, এই সমাজ বহুবার দেখেছে—প্রভাবশালীরা বেঁচে যায়, মামলার গতি থেমে যায়, সাক্ষীরা চুপ হয়ে যায়, আর ভুক্তভোগী পরিবার একসময় একা হয়ে পড়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে আবেগের বশে বিচারবহির্ভূত প্রতিশোধ বা জনরোষকে উসকে দেওয়াও সমাধান নয়। আইনের শাসন ভেঙে গেলে সমাজ আরও অরাজক হয়ে পড়ে। প্রয়োজন দ্রুত, স্বচ্ছ এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার। এমন বিচার, যা দেখে ভবিষ্যতের অপরাধী অন্তত ভয় পাবে।

মহিলা পরিষদ নারী ও শিশুদের জন্য ‘শূন্য সহিংসতা নীতি’ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ কমিটি গঠন, পাঠ্যসূচিতে জেন্ডার শিক্ষা অন্তর্ভুক্তি, সাইবার সহিংসতা প্রতিরোধ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার প্রস্তাব দিয়েছে তারা। এসব দাবি এখন সময়ের প্রয়োজন।

শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে দিলেই হবে না। পরিবারকে সচেতন হতে হবে। সন্তানদের ‘গুড টাচ-ব্যাড টাচ’ শেখাতে হবে। শিশুকে ভয় নয়, সাহস দিতে হবে যাতে সে নির্যাতনের কথা বলতে পারে। একইসঙ্গে ছেলেশিশুকেও নারীর প্রতি সম্মান শেখাতে হবে। কারণ ধর্ষক জন্মগত নয়; সমাজই তাকে তৈরি করে।

ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা বা সমাজপতি—যেই অপরাধ করুক, তার পরিচয় নয়, অপরাধই বিবেচ্য হতে হবে।

আজকের বাংলাদেশ এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। আমরা কি এমন এক সমাজ চাই, যেখানে শিশুর হাসি আতঙ্কে থেমে যাবে? যেখানে মা-বাবা সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রতি মুহূর্তে দুশ্চিন্তায় থাকবেন? যেখানে প্রতিবেশী মানেই সন্দেহ?

একটি দেশের সভ্যতা মাপা হয় সে দেশের নারী ও শিশুর নিরাপত্তা দিয়ে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উঁচু সেতু, মেগা প্রকল্প—এসবের চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, একটি শিশু নিরাপদে স্কুলে যেতে পারছে কি না। একটি কন্যাশিশু নির্ভয়ে খেলতে পারছে কি না।

আমাদের ইতিহাস মানবতা, সংস্কৃতি ও প্রগতির ইতিহাস। এই বাংলার মাটিতে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, বেগম রোকেয়া, সুফিয়া কামালের মতো মানুষ জন্মেছেন। সেই সমাজে ধর্ষণ ও শিশুহত্যার মহোৎসব চলতে পারে না।

রাষ্ট্রকে কঠোর হতে হবে, বিচারব্যবস্থাকে নিরপেক্ষ হতে হবে, সমাজকে মানবিক হতে হবে। রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়, মব সংস্কৃতি, বিচারহীনতা— সবকিছুর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।

রামিসা, আছিয়া কিংবা অসংখ্য নির্যাতিত শিশুর কান্না যেন শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হ্যাশট্যাগ হয়ে না থাকে। তাদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কারণ বিচার শুধু শাস্তি নয়; বিচার সমাজে আস্থা ফিরিয়ে আনে।

মানুষের সামাজিক মূল্যবোধের যে অবক্ষয় হয়েছে তা থেকে বেরিয়ে আসতে সচেতন মহলের আহ্বান- 'ধর্ষক মনের মৃত্যু হোক, অনাচারের বিরুদ্ধে জাগ্রত হোক শুভবোধ' । এই প্রার্থনা বাংলাদেশের অসংখ্য আতঙ্কিত মা-বাবাসহ সর্বস্তরের মানুষের।

লেখক: জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক।

শায়লা শবনম

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

কমলাপুর রেলস্টেশনে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণ

🕒 প্রকাশ: ০১:২২ পূর্বাহ্ন, ২০শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর আগামী নভেম্বরে করা যায় কি না, আলোচনায় ঢাকা-দিল্লি

🕒 প্রকাশ: ০১:১০ পূর্বাহ্ন, ২০শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান

🕒 প্রকাশ: ০১:০০ পূর্বাহ্ন, ২০শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

মন্ত্রী বড়, নাকি সংসদ সদস্য—কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রশ্ন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের

🕒 প্রকাশ: ১১:৪৯ অপরাহ্ন, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

আওয়ামী লীগ-জামায়াত এক হয়েও বিএনপির কিছুই করতে পারেনি: এমপি চাঁদ

🕒 প্রকাশ: ১১:৪১ অপরাহ্ন, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250