ছবি: সংগৃহীত
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে ইরানকে চুক্তিতে আসার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তেহরান যদি চুক্তিতে না আসে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী হামলা হবে ‘আরও ভয়াবহ’। এর জবাবে ইরান জানিয়েছে, চাপ দেওয়া হলে তারা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। খবর রয়টার্সের।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘আশা করি, ইরান দ্রুত আলোচনার টেবিলে আসবে এবং একটি ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক চুক্তি করবে—কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়। সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে, বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। এখনই চুক্তি করুন।’
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে ইরান একটি পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। কিন্তু প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় এসেই যুক্তরাষ্ট্রকে সেই চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প তার পোস্টে উল্লেখ করেন, ইরানকে দেওয়া তার আগের সতর্কবার্তার পরই জুন মাসে সামরিক হামলা চালানো হয়েছিল। তিনি তার পোস্টে লেখেন, ‘তবে এবারের হামলা হবে আরও ভয়াবহ। এমনটা আবার ঘটতে দেবেন না। চুক্তি করুন।’ একই সঙ্গে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের একটি নৌবহর ইরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী মিশন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা ট্রাম্পের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছে, ‘গতবার যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধে পা বাড়িয়ে যে ভুল করেছিল, তাতে ৭ ট্রিলিয়ন ডলার অপচয় হয়েছে এবং ৭ হাজারের বেশি আমেরিকান প্রাণ হারিয়েছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ইরান পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে সংলাপের জন্য প্রস্তুত। তবে আমাদের যদি বাধ্য করা হয়, তবে আমরা নিজেদের রক্ষা করব এবং এমনভাবে জবাব দেব, যা আগে কখনো দেখা যায়নি।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গতকাল বুধবার (২৮শে জানুয়ারি) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিযুক্ত বিশেষ মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ হয়নি এবং তিনি আলোচনার জন্য কোনো অনুরোধও করেননি।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের নেতৃত্বে একটি নৌবহর ইরানের কাছাকাছি পৌঁছেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মুখে গত সপ্তাহে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে এই রণতরি ও এর সহযোগী যুদ্ধজাহাজগুলো রওনা দিয়েছিল।
খবরটি শেয়ার করুন