ছবি: সংগৃহীত
চলতি সপ্তাহে ১৫৮টি হাইব্রিড কচ্ছপ অবমুক্ত করে গ্যালাপাগোস ন্যাশনাল পার্ক কর্তৃপক্ষ। এর মাধ্যমে এ দ্বীপের ক্ষতিগ্রস্ত বাস্তুসংস্থান পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই—দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়া ফ্লোরিয়ানার প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রকে ধীরে ধীরে পুনরুজ্জীবিত করা। এর আগে প্রায় দেড় শতাব্দী আগে এ দ্বীপ থেকে শেষবারের মতো বিশালাকার কচ্ছপ বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল।
অবমুক্ত করা ৮-১৩ বছর বয়সী এ কচ্ছপগুলো মৌসুমের প্রথম শীতকালীন বৃষ্টির সময় ছাড়া হয়েছে। বৃষ্টিতে ভেজা দ্বীপের পরিবেশ তাদের নতুন আবাসের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তথ্যসূত্র: এপি।
গ্যালাপাগোস ন্যাশনাল পার্কের প্রজনন কেন্দ্রের পরিচালক ফ্রেডি ভিলালবা জানান, কচ্ছপগুলো এখন যথেষ্ট বড়। তাই তারা এখন ইঁদুর বা বিড়ালের মতো ক্ষতিকর প্রাণীদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে সক্ষম।
পার্কের ইকোসিস্টেম ডিরেক্টর ক্রিশ্চিয়ান সেভিলা বলেন, ‘ফ্লোরিয়ানায় মোট ৭০০টি কচ্ছপ ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তারই অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে এই ১৫৮টি কচ্ছপ ধাপে ধাপে দ্বীপে ছাড়া হচ্ছে। এসব কচ্ছপের শরীরে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া চেলোনয়েডিস নাইজার প্রজাতির জিন রয়েছে প্রায় ৪০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত। প্রজাতিটি ১৫০ বছর ধরে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত বলে গণ্য করা হতো। ফলে এ প্রকল্পকে বিশ্বব্যাপী পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।'
বিজ্ঞানীদের মতে, হাইব্রিড এ কচ্ছপগুলোর আদি উৎস হলো ইসাবেলা দ্বীপের উলফ আগ্নেয়গিরি। বিজ্ঞানীদের ধারণা, অতীতে মানুষ কচ্ছপগুলো এক দ্বীপ থেকে আরেক দ্বীপে নিয়ে যাওয়ায় এ জিনগত সংযোগ তৈরি হয়েছিল। প্রজনন কর্মসূচির মাধ্যমে শক্তিশালী জিনগত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন কচ্ছপ ব্যবহার করে বিলুপ্ত প্রজাতিটিকে আবার ফিরিয়ে আনাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য।
দুই শতাব্দী আগে ফ্লোরিয়ানা দ্বীপে প্রায় ২০ হাজার দানবাকৃতির কচ্ছপ ছিল। কিন্তু তিমি শিকার, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও মানুষের অত্যাচারের কারণে একসময় এরা পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যায়। জীববিজ্ঞানী ওয়াশিংটন তাপিয়া বলেন, ‘মূল প্রজাতির উল্লেখযোগ্য অংশসহ কোনো প্রাণীকে আবার ফিরিয়ে আনা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝখানে মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ফ্লোরিয়ানা একটি আগ্নেয় দ্বীপ। প্রায় ১৭৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ দ্বীপে বর্তমানে প্রায় ২০০ মানুষের বসবাস।
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন