ছবি: সংগৃহীত
নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কমিশনিং শেষে ভারত থেকে আমদানি করা ১৮টি রেলকোচের পরীক্ষামূলক চলাচল (ট্রায়াল রান) শুরু হয়েছে। আজ রোববার (৮ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা থেকে পঞ্চগড়ের উদ্দেশে কোচগুলো নিয়ে ট্রায়াল রানের যাত্রা শুরু হয়। রেলওয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
রেলওয়ে কারখানা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ অক্টোবর ভোর ৪টার দিকে ভারত থেকে প্রথম চালানে আসা ১৮টি রেলকোচ সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় পৌঁছায়। এরপর কারখানায় কোচগুলোর বিশেষ ডিপ্রিজারভেশন, যান্ত্রিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কমিশনিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। সব ধরনের কারিগরি পরীক্ষা শেষে প্রয়োজনীয় লোকোমোটিভ ও সংশ্লিষ্ট ক্রুদের সহায়তায় রোববার কোচগুলো পরীক্ষামূলক চলাচলের জন্য পাঠানো হয়। ট্রায়াল রান সফলভাবে সম্পন্ন হলে কোচগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে রেলওয়ের ট্রাফিক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফি নূর মোহাম্মদ বলেন, কারখানায় আনা কোচগুলো বিভিন্নভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। এ কাজে রেলওয়ে কারখানার শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ভারতের বিশেষজ্ঞরাও কাজ করেছেন। রোববার পঞ্চগড় পর্যন্ত কোচগুলোর ট্রায়াল রান অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষামূলক চলাচল সফল হলে সেগুলো ট্রাফিক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ইউরোপীয় মানদণ্ড অনুসারে তৈরি এসব কোচে রয়েছে আধুনিক নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবার বিভিন্ন সুবিধা। কোচগুলোতে অ্যান্টি-টেলিস্কোপিক ও অ্যান্টি-ক্লাইম্বিং প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। ফলে দুর্ঘটনা বা সংঘর্ষের সময় একটি কোচের ওপর অন্য কোচ উঠে যাওয়ার ঝুঁকি কমবে।
এ ছাড়া পুরোনো স্ক্রু কাপলিং ব্যবস্থার পরিবর্তে উন্নত সিবিসি (সেন্টার বাফার কাপলিং) ব্যবস্থা থাকায় কোচের মধ্যে সংযোগ আরও উন্নত হবে এবং চলাচলের সময় ঝাঁকুনি কমে যাত্রীদের ভ্রমণ আরামদায়ক হবে।
যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে কোচগুলোতে রয়েছে শিশু পরিচর্যার জন্য আলাদা বেবি কেয়ার রুম ও নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা। পাশাপাশি রয়েছে আধুনিক সিসিটিভি নজরদারি এবং জরুরি প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য প্যাসেঞ্জার অ্যালার্ম সিস্টেম।
বাংলাদেশের রেলওয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় কোচগুলোর ছাদও কাঠামোগতভাবে শক্তিশালী করা হয়েছে, যাতে অতিরিক্ত ওজন বহনের সক্ষমতা থাকে। এ ছাড়া আধুনিক অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা এবং ফোল্ডিং সুবিধাযুক্ত আসন কোচগুলোকে আরও যাত্রীবান্ধব করে তুলেছে।
ট্রায়াল রান সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর কোচগুলো নিয়মিত যাত্রী পরিবহনে যুক্ত করার পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হবে।
খবরটি শেয়ার করুন