বুধবার, ২৮শে জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** আমলাতন্ত্র জগদ্দল পাথরের মতো জনগণের বুকে চেপে বসেছে, কিছুই করা যায় না: ফাওজুল কবির খান *** আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশের ওপর শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র *** ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণমাধ্যমকর্মীদেরই আদায় করতে হবে’ *** নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ‘সিম্প্যাথি’ পেতে মিথ্যা বলছেন: মির্জা আব্বাস *** ড্রোন বানাবে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, সহায়তা করবে চীন *** নারী ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইসির কাছে ৭১ সংগঠনের ১০ সুপারিশ *** ‘নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা গণভোটের পক্ষে–বিপক্ষে যাবেন না’ *** ‘কাজের টোপ’ দিয়ে রাশিয়ায় নিয়ে বাংলাদেশিদের পাঠানো হচ্ছে যুদ্ধে *** পায়ে পাড়া দিয়ে কেউ যদি আশা করে আমরা চুপ থাকব, তা হবে না: শফিকুর রহমান *** বিচ্ছেদের পর গলায় স্ত্রীর ছবি ঝুলিয়ে দুধ দিয়ে গোসল

ভাষণটি শুনে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ি: মাহফুজ আনাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৬:১০ অপরাহ্ন, ২০শে জানুয়ারী ২০২৬

#

ফাইল ছবি

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও ইংরেজি পত্রিকা ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণা করে বলেন, যতদূর মনে পড়ে, ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর অফিসে (ডেইলি স্টার) বসে হঠাৎ করে রেডিওতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ শুনতে পাই। সেদিন ২১ বছর পর প্রথমবারের মতো আমি ভাষণটি প্রকাশ্যে শুনে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ি।

তিনি বলেন, স্মৃতিতে ২৫ বছর আগের সেই বিস্ময়কর দিনটিতে ফিরে যাই, যেদিন আরও লাখো স্বাধীনতাকামী মানুষের সঙ্গে আমি রেসকোর্স ময়দানে (এখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জমায়েত হয়েছিলাম আমাদের মহান নেতা ও বীর বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতা শোনার জন্য। নীরবে আমি শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানালাম আমাদেরকে এই অসামান্য উত্তরাধিকারটি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের পর থেকে '৯৬- এই সময়কাল জুড়ে বঙ্গবন্ধুকে ধীরে ধীরে জনসাধারণের নজর থেকে সরিয়ে নেওয়ার ব্যর্থ প্রচেষ্টা চলতে থাকে। যিনি বাংলাদেশের জন্মের রূপকার তার প্রতি ন্যুনতম শ্রদ্ধা প্রদর্শন তো দূরে থাক, ইতিহাস থেকে তার নাম মুছে ফেলার অনবরত প্রচেষ্টা চলেছে। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি দিন—২৬শে মার্চ ও ১৬ই ডিসেম্বরেও উচ্চারণ পর্যন্ত করা হত না বঙ্গবন্ধুর নাম।

তিনি বলেন, এক পর্যায়ে ইতিহাসের বিকৃতি চরম আকার ধারণ করে এবং মনে হচ্ছিল যেন নাৎসি পার্টির প্রোপাগান্ডা বিশারদ গোয়েবলস তার পূর্ণ অশুভ চরিত্র নিয়ে পুনর্জন্ম নিয়েছেন। জিয়াউর রহমানের আমলে হঠাৎ করে বাংলাদেশে লাখো মানুষকে নির্বিচারে হত্যার জন্য দায়ী ও গণহত্যার সূচনাকারী পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে ইতিহাসের বই, স্কুলের পাঠ্য বই ও আনুষ্ঠানিক বর্ণনায় 'হানাদার বাহিনী' হিসেবে আখ্যায়িত করা শুরু হল।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির ইতিহাসে অনেক বীর রয়েছেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু তাদের সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন। অন্যরা হয়তো তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে, কিংবা একাধিক ক্ষেত্রে শীর্ষে পৌঁছতে পেরেছেন, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর বীরত্বগাথা সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আমাদেরকে একটি দেশ এনে দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু আমাদের সবচেয়ে বড়, উজ্জ্বল এবং  প্রাসঙ্গিক নায়ক থেকে মহানায়ক। কিন্তু সেই মহানায়ককে হত্যা করা হয়েছে ইতিহাসের ভয়ঙ্করতম বর্বরতার সঙ্গে।

ডেইলি স্টারে প্রকাশিত এক উপসম্পাদকীয়তে মাহফুজ আনাম এসব কথা বলেন। তার পুরনো লেখার এ লিংক সম্প্রতি ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তার লেখাটি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে ২০২১ সালের ১৪ই আগস্ট ডেইলি স্টারের ছাপা সংস্করণ প্রকাশিত হয় 'ট্রিবিউট টু বঙ্গবন্ধু: হাউ টু রিমেম্বার অ্যা হিরো' শিরোনামে। ডেইলি স্টারের ওই পুরনো সংখ্যাটি সুখবর ডটকমের কাছে সংরক্ষিত আছে।

মাহফুজ আনামের লেখা উপসম্পাদকীয়টি প্রকাশিত হওয়ার পরের দিন, ১৫ই আগস্ট বাংলায় সেটির অনুবাদ করে ডেইলি স্টারের বাংলা ডিজিটাল সংস্করণে প্রকাশিত হয় 'বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি: কীভাবে স্মরণ করব জাতীয় বীরকে' শিরোনামে। বাংলা লেখাটির লিংক ডেইলি স্টারের ওয়েবসাইটে আছে। সামাজিক মাধ্যমে মাহফুজ আনামের কলামের বাংলা ও ইংরেজিতে লেখা দুটি লিংকই ছড়িয়ে পড়েছে।

মাহফুজ আনাম উপসম্পাদকীয়তে লেখেন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ সমগ্র জাতিকে উদ্বুদ্ধ করতে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে অতীব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে (প্রত্যক্ষ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় জানি, মুক্তিবাহিনীর সদস্য হিসেবে এটি আমাদের দৈনন্দিন অনুপ্রেরণার উৎস ছিল)। ভাষণটি এখন বিশ্বের বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যের অংশ। ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত যারা ক্ষমতায় ছিলেন তাদের কাছে এই ভাষণের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। তাদের কার্যক্রমে মনে হতো, ৭ই মার্চে কেউ কোনো ভাষণই দেননি।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের সময়ে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের শুরু হয়েছিল একটি রেডিও ঘোষণার মাধ্যমে, এ বিষয়টিকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টা চোখে পড়ে। ব্যাপারটি এমন, যেন দৃশ্যপটে জিয়া আসার আগে কিছুই হয়নি। ১৯৪৮ সাল থেকে শুরু করে কয়েক দশকের সংগ্রাম, ভাষা আন্দোলন, সামরিক আইন (মার্শাল ল) বিরোধী আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, ১১ দফা আন্দোলন— সব কিছুর অবদানকে মুছে ফেলা, বিকৃত করা ও অবমাননা করা শুরু হয়। কারণ এর সবগুলোতেই ছিল বঙ্গবন্ধুর অবিস্মরণীয় ও কেন্দ্রীয় ভূমিকা।

মাহফুজ আনাম

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250