ছবি: সংগৃহীত
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেছেন। আজ সোমবার (১ জুন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তিনি তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বরাবর দেওয়া পদত্যাগপত্রে তিনি শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। সে সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় দায়িত্ব পান দীপেন দেওয়ান।
চিঠিতে তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। এর ফলে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কাজ ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে সমস্যা হচ্ছে।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান শারীরিক অবস্থার কারণে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখা তার পক্ষে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তাই তিনি পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের জন্য বিনীত অনুরোধ জানান।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে পদত্যাগপত্রের একটি কপি গণমাধ্যমে শেয়ার করেন।
মন্ত্রিসভা গঠনের পর এই প্রথম কোনো মন্ত্রী পদত্যাগ করলেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক দীপেন দেওয়ান গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটি আসন থেকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন তিনি।
দীপেন ১৯৬৩ সালের ৮ জুন রাঙ্গামাটির রাঙ্গাপানি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সুবিমল দেওয়ান জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় উপ-জাতীয় বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক দীপেন দেওয়ানের বাবা সুবিমল দেওয়ান ছিলেন রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটির সাধারণ সম্পাদক। পরবর্তীতে রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
বাবার পথ অনুসরণ করে ২০০৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেন দীপেন দেওয়ান। ছাত্র অবস্থাতেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
রাঙ্গামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার পাঠ চুকিয়ে রাজনীতিতেই থিতু হওয়ার স্বপ্ন থাকলেও পরিবারের চাপে শেষ পর্যন্ত বিসিএসে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হন ও সপ্তম বিসিএসে তিনি জুডিসিয়াল সার্ভিসে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে চাকরিতে যোগ দেন।
২০০৬ সালে চারদলীয় জোট সরকারের শেষ সময়ে তৎকালীন উপমন্ত্রী মনিস্বপন দেওয়ান দলত্যাগ করলে দলে যোগ্য নেতার প্রয়োজনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রায় ২০ বছরের জুডিসিয়াল সার্ভিসের চাকরি ছেড়ে দীপেন দেওয়ান যোগ দেন রাজনীতিতে। আর রাজনীতিতে যোগদানের পর একের পর কালো মেঘের ছায়া এসে পড়ে রাজনৈতিক জীবনে।
২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি তিনি। এরপর ২০১০ সালে বিএনপির জেলা সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৬ সাল থেকে অদ্যাবধি তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
রাজনীতির নানা চড়াই-উতড়াইয়ের পর অবশেষে দেখা পান সোনার হরিণের। প্রথমবার সংসদ সদস্য এবং প্রথমবারেই পূর্ণমন্ত্রী হন। দায়িত্ব পান পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পূর্ববর্তী রাঙ্গামাটির বিএনপির অভিভাবক হিসেবে কাজ করে গেছেন দীপেন দেওয়ান।
অবরোধ, মিছিল-মিটিংয়ের সবখানেই ছিল তার সরব উপস্থিতি। দুঃসময়েও দলের হাল ছেড়ে না যাওয়া দীপেন দেওয়ান হন জেলার প্রথম পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী।
১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির (শান্তি চুক্তি) পর ১৯৯৮ সালের ১৫ জুলাই পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয়। তখন এই মন্ত্রণালয়ের প্রথম মন্ত্রী করা হয় ২৯৮ নম্বর খাগড়াছড়ি আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য কল্পরঞ্জন চাকমাকে।
এরপর ২০০১ সালে মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হন রাঙ্গামাটি আসনের সংসদ সদস্য মনিস্বপন দেওয়ান। ২০০৮ সালে প্রতিমন্ত্রী হন রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার।
এরপর ২০১৪ ও ২০১৮ সালে দুই মেয়াদে প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রী হয়েছেন বান্দরবানের সংসদ সদস্য বীর বাহাদুর। সবশেষ ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পর এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছিল খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরাকে।
সে হিসাবে ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন রাঙ্গামাটির সাবেক সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার, এর ১২ বছর পর এবারের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর রাঙ্গামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ানকে পূর্ণমন্ত্রী করা হয়।
খবরটি শেয়ার করুন