বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৯ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ৯৮ কমিটি থেকে ‘আওয়ামীপন্থীদের’ বাদ দেওয়ার নির্দেশ, কী বদল আসছে সরকারি কমিটিতে *** মূল আসামিকে আড়াল করায় স্বজনদের ক্ষোভ, জানেন না আপসের বিষয়ও *** জাতিসংঘে শুক্রবার ভোররাত ৩টায় বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী *** বিকাশ, রবিসহ চার প্রতিষ্ঠান পেল ডিজিটাল ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন *** সংবাদমাধ্যমের হোয়াইট হাউসে প্রবেশে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা ঠেকিয়ে দিলেন আদালত *** ‘নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া অবজ্ঞা দূর হবে না’ *** বেহেস্তের টিকিট বিক্রিকারীরা ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী *** বাণিজ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে বাংলাদেশ—ইউনূস আমলের অসম চুক্তি থেকে মার্কিন পণ্য কেনার দায় *** আজ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী *** বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা

সুখবর এক্সপ্লেইনার

৯৮ কমিটি থেকে ‘আওয়ামীপন্থীদের’ বাদ দেওয়ার নির্দেশ, কী বদল আসছে সরকারি কমিটিতে

নবনীতা রায়

🕒 প্রকাশ: ০৮:৩১ অপরাহ্ন, ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

#

ফাইল ছবি

সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, দপ্তর ও সংস্থার অধীন জেলা, উপজেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কমিটিগুলো পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বাধীন ৯৮টি কমিটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে পুনর্গঠন করতে বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৮ আগস্টের এক চিঠিতে বিদ্যমান কমিটিগুলো পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

চিঠিতে কোনো রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জাতীয় একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, বাস্তবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের এসব কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

সরকারি কমিটি পুনর্গঠনের এই উদ্যোগকে শুধু বর্তমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখলে এর দীর্ঘদিনের প্রেক্ষাপটটি আড়ালে থেকে যায়। দেশে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে প্রশাসন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কমিটি, পদ ও দায়িত্বে রাজনৈতিক আনুগত্যের প্রভাব নতুন কোনো ঘটনা নয়। বিভিন্ন সময় ক্ষমতাসীন দল নিজেদের রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিয়ে এসেছে—এমন অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ফলে একটি সরকার বিদায় নেওয়ার পর তার সময়ে গড়ে ওঠা কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং নতুন সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির প্রবণতাও বারবার দেখা গেছে।

বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ধারাবাহিক সরকারগুলো প্রশাসনকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করেছে। এর ফলে প্রশাসনের সক্ষমতা দুর্বল হয়েছে এবং অদক্ষতা ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রভাব বেড়েছে। প্রতিবেদনে রাজনৈতিক বিবেচনায় জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাদের বিশেষ দায়িত্বে পাঠানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল।

২০০৪ সালে ডেইলি স্টারের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছিল, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক পরিচয় ও আনুগত্যের ভিত্তিতে ভাগ করার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিভিন্ন সময়ের সরকারের আমলে নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনার অভিযোগের কথা তুলে ধরা হয়।

২০০৬ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের শেষ সময়ে ডেইলি স্টার-এর একাধিক প্রতিবেদনে প্রশাসনে রাজনৈতিক বিবেচনায় পদোন্নতি ও নিয়োগের অভিযোগ প্রকাশিত হয়। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতাসীন জোটের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর অভিযোগ উঠেছিল। একই প্রতিবেদনে আগের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনার অভিযোগ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।

অর্থাৎ সমস্যাটি কোনো একটি দলের একক বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখার সুযোগ কম। বরং দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে প্রশাসনিক কাঠামোয় আনুগত্যের পুনর্বিন্যাসের যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, বর্তমান উদ্যোগ সেই পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই আরেকটি পর্যায় কি না—এ প্রশ্নও সামনে আসছে। তবে বর্তমান সরকারের উদ্যোগের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ও বাস্তবায়ন নিয়ে চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য পুনর্গঠিত কমিটিগুলোর সদস্যদের তালিকা এবং তাদের যোগ্যতা ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা প্রকাশ্যে আসা গুরুত্বপূর্ণ।

এবারের পুনর্গঠনের তাৎক্ষণিক কারণ অবশ্য প্রশাসনিক বাস্তবতার সঙ্গেও যুক্ত। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন কমিটির অধিকাংশই কয়েক বছর আগে গঠিত। কিছু কমিটির প্রজ্ঞাপন এবং কার্যক্রম সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে কমিটিগুলো পুনর্গঠন ও হালনাগাদ করা প্রয়োজন। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ৯৮টি কমিটিসহ বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অন্য বিদ্যমান কমিটিগুলোকেও হালনাগাদ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই ৯৮টি কমিটির কাজও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি, কৃষি উন্নয়নবিষয়ক কোর কমিটি, কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি, ধান সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটি, আম সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ কমিটি, বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি, ওএমএস ডিলার নিয়োগ-সংক্রান্ত কমিটি, যুব উন্নয়নবিষয়ক কমিটিসহ নানা সরকারি কার্যক্রমে এসব কমিটির ভূমিকা রয়েছে। জেলা প্রশাসকেরা এসব কমিটির অনেকগুলোর সভাপতি বা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায় পুনর্গঠিত কমিটিতে স্থানীয় পর্যায়ের তিনজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সদস্য করার কথা বলা হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত একজন নারী থাকতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের ধরনই ঠিক করবে নতুন কমিটিগুলো কতটা রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে স্থানীয় সমাজের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে।

কারণ অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, সরকারি কমিটিতে ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ মনোনয়নের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক বিবেচনার প্রভাব থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় পদধারী ব্যক্তি, ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী, পেশাজীবী কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিভিন্ন কমিটিতে রাখার প্রবণতার অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে এসেছে। ফলে শুধু পুরোনো সদস্য বাদ দিয়ে নতুন সদস্য বসালেই রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত কমিটি তৈরি হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ মেয়াদে প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণ নিয়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত দেশের বেসামরিক প্রশাসন নিয়ে প্রকাশিত একটি গবেষণায় নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির ক্ষেত্রে দলীয় বিবেচনার প্রভাবের কথা উঠে আসে। গবেষণাটি পরে ‘সাউথ এশিয়ান সার্ভে’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। গবেষকদের বিশ্লেষণে বলা হয়, ওই সময়ে প্রশাসন পরিচালনায় দলীয় সিদ্ধান্তের প্রভাব ছিল এবং এতে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল।

আল জাজিরার ২০১৯ সালের একটি বিশ্লেষণেও আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছিল। সেখানে বিচার বিভাগ, পুলিশ এবং বেসামরিক প্রশাসনে দলীয় আনুগত্যের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

দেশের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহও দেখাচ্ছে, ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে এই প্রবণতা পুরোপুরি বদলায়নি। গত জুলাইয়ে ডেইলি স্টার-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলটির নেতা-কর্মীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওই প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনসহ ১২টি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের বিষয়টি তুলে ধরে বিশেষজ্ঞদের সমালোচনার কথাও জানানো হয়।

প্রথম আলোও চলতি বছরে ১১টি সিটি করপোরেশন ও ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিয়োগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এ নিয়োগকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসেবে সমালোচনা করেছে। অভিযোগটি অবশ্য সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষের বক্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত, চূড়ান্ত সত্য হিসেবে নয়।

ফলে বর্তমান কমিটি পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে মূল প্রশ্ন শুধু কে বাদ পড়ছেন, তা নয়; বরং কারা নতুন করে যুক্ত হচ্ছেন, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কী, তাদের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা কতটা এবং কমিটির সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের ভূমিকা কতটা স্বচ্ছ—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।

জেলা প্রশাসকদের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি গণমাধ্যমে বলেছেন, দেশে যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে, এসব কমিটিতে তাদের সমর্থকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকায় অনেক কমিটি দীর্ঘ সময় পুনর্গঠন করা হয়নি। আবার সরকারের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অনেক কমিটির দীর্ঘদিন সভা হয়নি এবং কিছু কমিটিতে আওয়ামী লীগপন্থী ব্যক্তিরা এখনো রয়েছেন।

ডেইলি স্টারকে উত্তরাঞ্চলের একজন জেলা প্রশাসক বলেছেন, সরকার পরিবর্তনের পর পুরোনো কমিটি পুনর্গঠন করা সাধারণ ঘটনা। এবার গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের অনুসারীদের অনেককে বাদ দেওয়া হয়েছে অথবা তারা নিজেরাই সরে গেছেন। আরেকজন বিভাগীয় কমিশনার বলেছেন, কোথাও যেন বিতর্কিত ব্যক্তিরা সদস্য হিসেবে না থাকেন, তা নিশ্চিত করতেই উচ্চপর্যায় থেকে নির্দেশনা এসেছে।

এখানে প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, একটি দলীয় গোষ্ঠীকে সরিয়ে আরেকটি দলীয় গোষ্ঠীকে বসানোর সংস্কৃতি থেকে বের হওয়া। অতীতে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক আনুগত্যকে গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগ যেমন ছিল, তেমনি নতুন সরকারের সময় একই ধরনের অভিযোগ তৈরি হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ২০২৫ সালে প্রকাশিত প্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের বিষয়ে ডেইলি স্টার লিখেছিল, রাজনৈতিক প্রভাব প্রশাসনের দক্ষতা কমিয়েছে এবং নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতিতে যোগ্যতার বদলে আনুগত্যের প্রভাব থাকার অভিযোগ রয়েছে।

সুতরাং ৯৮টি কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্তকে প্রশাসনিক হালনাগাদের সুযোগ হিসেবে দেখা যায়। কিন্তু সেই সুযোগ কতটা কাজে লাগবে, তা নির্ভর করবে সদস্য বাছাইয়ের মানদণ্ডের ওপর। রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা, সততা, পেশাগত দক্ষতা, স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব এবং স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সদস্য নির্বাচন করা হলে কমিটিগুলোর কার্যকারিতা বাড়তে পারে। আর যদি পুরোনো দলীয় আনুগত্যের জায়গায় নতুন দলীয় আনুগত্য বসে, তাহলে কমিটির নাম ও সদস্য বদলালেও দীর্ঘদিনের সমস্যাটির মৌলিক পরিবর্তন হবে না।

দেশে সরকারি প্রশাসন ও প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার প্রশ্নটি তাই কেবল একটি সরকারের আমলের বিষয় নয়। অতীতের আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং অন্যান্য সরকারের সময়কার অভিজ্ঞতা দেখায়, ক্ষমতার সঙ্গে প্রশাসনিক আনুগত্যের সম্পর্ক তৈরি হলে তার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়। বর্তমান পুনর্গঠন সেই ধারার পুনরাবৃত্তি করবে, নাকি সরকারি কমিটিগুলোকে রাজনৈতিক পরিচয়ের বদলে পেশাগত ও সামাজিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে পরিচালনার নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করবে—তা নির্ধারণ হবে নতুন সদস্য বাছাই ও তাদের কাজের স্বচ্ছতার মাধ্যমে।

সরকারি কমিটি

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

৯৮ কমিটি থেকে ‘আওয়ামীপন্থীদের’ বাদ দেওয়ার নির্দেশ, কী বদল আসছে সরকারি কমিটিতে

🕒 প্রকাশ: ০৮:৩১ অপরাহ্ন, ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

মূল আসামিকে আড়াল করায় স্বজনদের ক্ষোভ, জানেন না আপসের বিষয়ও

🕒 প্রকাশ: ০৮:০৫ অপরাহ্ন, ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘে শুক্রবার ভোররাত ৩টায় বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

🕒 প্রকাশ: ০৭:৫৪ অপরাহ্ন, ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের শাখাসমূহ নিয়ে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের স্ট্র্যাটেজিক কনক্লেভ অনুষ্ঠিত

🕒 প্রকাশ: ০৭:৫৩ অপরাহ্ন, ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিকাশ, রবিসহ চার প্রতিষ্ঠান পেল ডিজিটাল ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন

🕒 প্রকাশ: ০৭:৪৬ অপরাহ্ন, ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250