ছবি: সংগৃহীত
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় শত শত নারী গোলাপী জামা পরে হাতে ঝাড়ু নিয়ে পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রা করেছেন। পুলিশের নির্যাতন, অযৌক্তিক সরকারি খরচ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ বুধবার (৩রা সেপ্টেম্বর) এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। খবর বিবিসির।
জাকার্তাসহ বিভিন্ন শহরে টানা দ্বিতীয় সপ্তাহ ধরে চলছে এই বিক্ষোভ। সংসদ সদস্যদের অঢেল ভাতা ও সুবিধা এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বেড়েছে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়, যখন মোটরসাইকেল চালক আাফান কুরনিয়াওয়ানকে পুলিশের গাড়ি চাপা দিলে তার মৃত্যু হয়।
প্রতিবাদ তীব্রতর হলেও প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়ো সুবিয়ানতো প্রথমে চীনের সামরিক কুচকাওয়াজে যোগ দেওয়ার সফর বাতিলের ঘোষণা দেন। তবে আজ তাকে বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ছবি তুলতে দেখা যায়।
গত সপ্তাহে প্রাবোয়ো ঘোষণা করেছিলেন, সংসদ সদস্যদের কিছু বিশেষ ভাতা কমিয়ে দেওয়া হবে—যা বিক্ষোভকারীদের মূল দাবিগুলোর একটি। তবে নারীরা বলছেন, শুধু ভাতা নয়, রাষ্ট্রযন্ত্র ও নিরাপত্তা বাহিনীর নিপীড়নের অবসান চাই।
নারী অধিকারভিত্তিক সংগঠন ইন্দোনেশিয়ান উইমেন্স অ্যালায়েন্স (আইডব্লিউএ)–এর সদস্যরা জানান, ঝাড়ু হাতে নেওয়ার অর্থ হলো রাষ্ট্র, সামরিকতাবাদ ও পুলিশি দমন–পীড়নের ‘ময়লা ঝেটে ফেলা’। গোলাপী জামার প্রতীকী ব্যাখ্যায় তারা বলেন, গোলাপী রঙ তাদের কাছে সাহসের প্রতীক।
আইডব্লিউএ প্রায় ৯০টি নারী সংগঠন, নাগরিক সমাজের আন্দোলন, শ্রমিক ইউনিয়ন, মানবাধিকার সংগঠন ও আদিবাসী গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট। ইন্দোনেশিয়ায় নারীদের আন্দোলন নতুন কিছু নয়। এর আগেও ১৯৯৮ সালে স্বৈরশাসক সুহার্তোর পতনের আন্দোলনে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
বর্তমান আন্দোলনে আরেকটি প্রতীক যুক্ত হয়েছে। অনেক বিক্ষোভকারী সবুজ জামা পরেছেন, যা নিহত ট্যাক্সিচালক আাফানের ইউনিফর্মের রঙ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে বলা হচ্ছে ‘হিরো গ্রিন’ এবং গোলাপী জামাকে বলা হচ্ছে ‘ব্রেভ পিংক’।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় বিক্ষোভ দমনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইন্দোনেশিয়া জানিয়েছে, আরও প্রাণহানি এড়াতে সরকারকে অবিলম্বে জনতার দাবি মেনে নিতে হবে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শেষ দিকে হওয়া বিক্ষোভে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের অনেকেই পুলিশের সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন এক হাজারেরও বেশি মানুষ।
খবরটি শেয়ার করুন