শনিবার, ৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৪শে মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** যমুনার সামনে আহতদের কেউ গুলিবিদ্ধ নয়: ঢামেক পরিচালক *** ‘৫ই আগস্টের চেতনা এখন জামায়াতের গর্ভে’ *** মার্কিন নাগরিকদের ‘অবিলম্বে ইরান ছাড়ার’ নির্দেশ ট্রাম্প প্রশাসনের *** যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে ইরানের ‘সম্মতি’ *** ‘মনে করেছিলাম, ড. ইউনূস নির্বাচনের সময়গুলোতে এতটা নিচে নামবেন না’ *** জামায়াতকে ভোট দেওয়া মুসলমানদের ‘জায়েজ’ হবে না: হেফাজত আমির *** নির্বাচনের ফলাফল অত্যন্ত সূক্ষ্ম কৌশলে সাজানো হতে পারে *** জাতীয় পার্টির মহাসচিবের সভায় দর্শকদের দাঁড়িপাল্লা স্লোগান, ভিডিও ভাইরাল *** ‘খালেদা জিয়ার স্থান সফলভাবে পূরণ করেছেন তারেক রহমান’ *** ‘পুরুষাঙ্গে ইনজেকশন’ নিচ্ছেন স্কি জাম্পাররা!

যমুনার সামনে আহতদের কেউ গুলিবিদ্ধ নয়: ঢামেক পরিচালক

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, ৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে অবস্থান করা ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। এ ঘটনায় আহত হয়ে প্রায় ৬০ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন।

তাদের মধ্যে কোনো গুলিবিদ্ধ বা পিলেট ইনজুরির রোগী পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। শুক্রবার (৬ই ফেব্রুয়ারি) রাতে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

ঢামেক পরিচালক বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের যারা কর্মী ছিলেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মী আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেলে এসেছেন। এখন পর্যন্ত আমরা ৬০ জনের মতো রোগী রিসিভ করেছি। এখনো রোগী আসছে। এই রোগীগুলোর মধ্যে ৩০ জন রোগী পেয়েছি, যাদের এক্সটারনাল ইনজুরি আছে। তবে কোনো গুলিবিদ্ধ অথবা পিলেটের রোগী পাইনি।’

ঢামেক পরিচালক আরও বলেন, ‘তাদের (আহতদের) স্কাল্প ইনজুরি, ফেস ইনজুরি, পায়ের ইনজুরি, এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ইনজুরি আছে, যেটা লাঠির আঘাতে হয়েছে। এ ছাড়া অনেকের ইনহেলেশন ইনজুরি আছে, যেটা টিয়ারসেলের কারণে হয়েছে। আমরা অক্সিজেন দিয়ে তাদের মোটামুটি সুস্থ করেছি। তবে কোনো রোগী আমরা এখনো ভর্তি করি নাই।’

হাসপাতালের প্রস্তুতি সম্পর্কে পরিচালক বলেন, ‘প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অনেক রোগী ছেড়ে দিয়েছি। আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে। তবে সমস্যা হলো, ক্রাউড কন্ট্রোল। আমাদের ২০০ চিকিৎসক উপস্থিত আছে, আমি নিজে উপস্থিত আছি। আমাদের চিকিৎসক, নার্সের কোনো স্বল্পতা নাই। ক্রাউড ম্যানেজ করা খুবই মুশকিল। কেউ কথা শুনতে চায় না—এটা একটা বড় সমস্যা।’

পরিচালক বলেন, ‘জরুরি বিভাগ আমরা বৃদ্ধি করেছি। যাতে আমরা ২৫ জন রোগী একসাথে চিকিৎসা দিতে পারি, সেটা কোনো সমস্যা না। কিন্তু সমস্যা হলো, এক রোগীর সাথে ১০ থেকে ১৫ জন চলে আসে। তখন দিতে সমস্যায় পড়তে হয়। আমরা চেষ্টা করছি এর মধ্যে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে। আমরা জুলাইয়ে অসংখ্য রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছি। আমাদের যে চিকিৎসক, নার্স, স্টাফ রয়েছে চিকিৎসা দিতে আমাদের কোনো সমস্যা হবে না।’

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের অধীনে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা–কর্মীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। এ কারণে পুলিশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ের সামনে ব্যারিকেড স্থাপন করে।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন-বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ কয়েকজন যমুনার দিকে অগ্রসর হতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে যমুনার দিকে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলেও পথে মারধরের অভিযোগ তুলে তারা ফিরে আসেন।

এরপর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে অবস্থানরত ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে এগিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রথমে জলকামান থেকে পানি ছোড়ে। পরে সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ এবং লাঠিপেটা করা হয়। 

এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র ও ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হন। পরে তাদের অনেকেই ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নেন।

ঘটনার পরপরই ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজ থেকে জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন—এমন দাবি করা হয়। তবে পুলিশ ও অন্তর্বর্তী সরকার উভয় পক্ষই এই দাবি অস্বীকার করেছে।

গত বছর ১২ই ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেল থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। তাকে মাথায় গুলি করার পর আততায়ীরা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে ১৮ই ডিসেম্বর মারা যান তিনি।

শরিফ ওসমান বিন হাদি

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250