আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে অবস্থিত জভেজদা সার্ভিস মডিউলের সঙ্গে ডক করা নউকা মাল্টিপারপাস ল্যাবরেটরি। ছবি: নাসা
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (আইএসএস) রুশ অংশে নতুন করে এয়ার (বাতাস) লিক বা ছিদ্র শনাক্ত হওয়ার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাঁচ মহাকাশচারীকে একটি মহাকাশযানে আশ্রয় নিতে নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা।
নাসার প্রেস সেক্রেটারি বেথানি স্টিভেন্স জানান, নতুন করে বাতাস লিক হওয়ার পর ‘রসকসমস’ (রুশ মহাকাশ সংস্থা) শুক্রবার (৫ জুন) ওই অংশটি মেরামত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এ সময় সতর্কতার অংশ হিসেবে নাসা তাদের ‘স্পেসএক্স ক্রু-১২’ মিশনের চারজন সদস্য এবং নাসার মহাকাশচারী ক্রিস উইলিয়ামসকে মেরামত কাজ চলাকালীন ড্রাগন মহাকাশযানে অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেয়।
তবে পরবর্তীতে এই নির্দেশ প্রত্যাহার করা হয়, কারণ রুশ মহাকাশ সংস্থা তথ্য বিশ্লেষণের জন্য সেদিনের মতো কাঠামোগত মেরামতের কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করে। এই মেরামত কাজ আবার কবে শুরু হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।
রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, পরিদর্শনের সময় নভোচারীরা দুটি সম্ভাব্য বাতাস লিকের জায়গা খুঁজে পান। তবে রসকসমস জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি ক্রুদের নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি তৈরি করেনি। জভেজদা মডিউলের প্রথম লিকটি দ্রুত বন্ধ করা সম্ভব হলেও অন্য সমস্যাযুক্ত এলাকাটি নিয়ে কাজ চলছে।
প্রসঙ্গত, মহাকাশ বর্জ্য বা স্পেস জাঙ্কসহ স্টেশনে বড় কোনো বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হলে মহাকাশচারীদের জরুরি মহাকাশযানে আশ্রয় নেওয়া একটি নিয়মিত সুরক্ষামূলক প্রক্রিয়া। এই সময় স্টেশনে কেবল দুজন রুশ নভোচারী—সের্গেই কুদ-স্ভের্চকভ এবং সের্গেই মিকায়েভ মূল অংশে অবস্থান করছিলেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মহাকাশ স্টেশনের জভেজদা মডিউলের সংযোগকারী ‘পিআরকে’ নামক ট্রান্সফার টানেলে লিকের সমস্যা প্রথম ধরা পড়ে ২০১৯ সালে। বছরের পর বছর ধরে এই সমস্যা দূর করতে অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়েও দেখা যায় না এমন সব ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ফাটল মেরামতের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু ফাটলগুলোর আশপাশে বিভিন্ন পাইপলাইন ও ব্র্যাকেট থাকায় সেখানে ডায়াগনস্টিক যন্ত্রপাতি পৌঁছানো নাসার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। ২০২৪ সালে লিকের মাত্রা আরও বেড়ে গেলে নাসা এটিকে ‘বিপর্যয়কর ব্যর্থতার’ কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছিল। তবে রসকসমসের সঙ্গে এ নিয়ে তাদের কিছুটা মতবিরোধ ছিল।
এদিকে এই ঘনঘন লিকের সমস্যা ২৫ বছরেরও বেশি পুরোনো আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের মেয়াদ ফুরিয়ে আসার বিষয়টিকে আরও বেশি আলোচনায় নিয়ে এসেছে। ২০০০ সাল থেকে মহাকাশ স্টেশনটিতে মানুষ একটানা বসবাস করে আসছে।
নাসা ২০৩০ সাল পর্যন্ত আইএসএসের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও, রাশিয়া ২০২৮ সালের পর তাদের অংশ সচল রাখার কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি। রাশিয়া চলে গেলে স্টেশনটির রক্ষণাবেক্ষণ কীভাবে হবে তা এখনো অনিশ্চিত। তবে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে একটি মহাকাশ স্টেশন টিকিয়ে রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, মহাকাশ রেসের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী চীন ইতিমধ্যে একই কক্ষপথে একটি নতুন স্টেশন পরিচালনা করছে। এ ছাড়া চাঁদে ও মহাকাশের গভীরে মানুষ পাঠানোর ‘আর্টেমিস’ প্রোগ্রামের প্রযুক্তিগত পরীক্ষার জন্যও আইএসএস অত্যন্ত জরুরি।
নাসা প্রথমে বেসরকারি খাতের মাধ্যমে আইএসএস প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা করলেও, পরে তা বদলে নতুন মডিউল যুক্ত করার কথা ভাবে। কিন্তু বাণিজ্যিক অংশীদারদের আপত্তির মুখে তারা আবার আগের পরিকল্পনাতেই ফিরে গেছে।
খবরটি শেয়ার করুন