রবিবার, ৩০শে আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিনকে দুদকে তলব *** গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের আগে বাংলাদেশের প্রয়োজন নির্ধারণের তাগিদ *** ঢাকার মূলসড়কে চলতে দেওয়া হবে না ব্যাটারিচালিত রিকশা *** গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে: রাষ্ট্রপতি *** হামের উপসর্গে আরও ৪ মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ৯৬৭ *** সমুদ্রে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরগুলোতে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত *** ঢাকার মূল সড়কে চলবে না ব্যাটারিচালিত রিকশা, নীতিমালা হচ্ছে: শাহে আলম *** মুসলিম বিশ্বের ‘প্রকৃত শত্রু’ ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা বুঝে মোকাবিলা করুন: মোজতবা খামেনি *** দুর্যোগ-পরবর্তী সহায়তায় দুর্নীতি-অপচয় ঠেকাতে সরকার-এনজিও অংশীদারত্ব জরুরি: অর্থমন্ত্রী *** ‘মেসিকে বিশ্লেষণ করতে গেলে আপনার ভাষা ফুরিয়ে যাবে’

বাংলা বারো মাসের নাম বলতে না পারা ডাকসু নেতাকে ঘিরে বিতর্ক

আদিত্য কবির

🕒 প্রকাশ: ০২:২১ পূর্বাহ্ন, ১৫ই এপ্রিল ২০২৬

#

ফাইল ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দেক ইবনে আলী মোহাম্মদ সম্প্রতি একটি ভিডিও বক্তব্যের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ভিডিওটিতে দেখা যায়, বাংলা ১২ মাসের নাম জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, "বাংলা ১২ মাসের নাম আষাঢ়, জ্যৈষ্ঠ, শ্রাবণ, আশ্বিন, কার্তিক, পৌষ, মাঘ, অগ্রহায়ণ, ভাদ্র... হয়ে গেছে? হয়েছে? ফাল্গুন, ১২টা হয়েছে?"—যা ইতিমধ্যেই ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নেটিজেনদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রনেতা, তাও আবার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক, কীভাবে বাংলা বছরের ১২ মাসের নাম সঠিকভাবে বলতে ব্যর্থ হন?

ভিডিওতে মোসাদ্দেক ইবনে আলী মোহাম্মদ বলেন, "আমাদের হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বাংলা সাহিত্যের অনেক বড় বিজ্ঞ পণ্ডিত। তিনি একটা বই লিখেছিলেন, একটা প্রবন্ধ লিখেছিলেন, যে প্রবন্ধের নাম তিনি দিয়েছিলেন ‘তৈল’। এই ‘তৈল’ প্রবন্ধের আলোকে কতভাবে তৈল দেওয়া যায় তা নিয়ে লেখা।" তাঁর এই বক্তব্য নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে বলছেন, বক্তব্যটি তথ্যগতভাবে বিভ্রান্তিকর এবং প্রাসঙ্গিকতা নিয়েও প্রশ্ন আছে।

তিনি আরও বলেন, "এমন এমন বিষয় আছে যেটি হরপ্রসাদ শাস্ত্রী লিখে যেতে পারেননি, কিন্তু এদেশের মানুষ তৈলশিল্পকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে যেতে তারা এগুলো আবিষ্কার করে ফেলেছে। তারা যখন যে ক্ষমতায়, সে ফ্যাসিবাদী হোক বা স্বৈরাচারী হোক, তাকে তোষণ করার একটি মানসিকতা সমাজের কিছু কিছু মানুষের মধ্যে দেখা যায় এবং এই তোষণ করার মাধ্যমে তারা কিছু কিছু হাসিল করতে চায়।"

বক্তব্যের এই অংশটিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের জন্ম দিয়েছে। ভিডিওতে তিনি পহেলা বৈশাখ প্রসঙ্গে বলেন, "পহেলা বৈশাখ হচ্ছে কখনো কৃষকের চোখের জল, কখনো কৃষকের মুখের হাসি।" তবে এর পরপরই আবার ১২ মাসের নাম বলার প্রসঙ্গে এসে তার অসংলগ্নতা নজরে আসে, যা বিতর্ককে আরও উসকে দেয়।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই বিষয়টিকে ‘লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। নেটিজেন রাশেদ মাহমুদ লিখেছেন, “যিনি সাহিত্য ও সংস্কৃতির দায়িত্বে, তিনি যদি বাংলা মাসই না জানেন, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কী শিখবে?” আরেকজন, তানিয়া ইসলাম মন্তব্য করেন, “এটা শুধু ব্যক্তিগত অজ্ঞতা নয়, এটি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।”

সুমন দত্ত নামে আরেক ব্যবহারকারী লেখেন, “ডাকসুর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে এমন অযোগ্যতা মেনে নেওয়া যায় না।” অনেকে আবার ব্যঙ্গ-বিদ্রূপও করেছেন। কেউ কেউ বাংলা ১২ মাসের তালিকা পোস্ট করে ‘শিক্ষা নেওয়ার’ পরামর্শ দিয়েছেন, আবার কেউ ভিডিওটি শেয়ার করে হাস্যরসাত্মক মন্তব্য করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অধ্যাপক সুখবর ডটকমকে বলেন, “এটি নিছক একটি ভুল নয়, বরং সাংস্কৃতিক জ্ঞানের ঘাটতির স্পষ্ট উদাহরণ। বিশেষ করে যে পদে তিনি আছেন, সেখানে এমন অজ্ঞতা অগ্রহণযোগ্য।”

বাংলা বিভাগের আরেক শিক্ষক বলেন, “বাংলা বছরের ১২ মাসের নাম জানা প্রাথমিক স্তরের জ্ঞান। একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর কাছে এটি প্রত্যাশিত, আর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হলে তো আরও বেশি। এটি আমাদের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক চর্চার দুর্বলতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।”

ঘটনাটি সামনে আসার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও উঠে এসেছে। প্রথমত, ছাত্রনেতাদের নির্বাচনের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও সাংস্কৃতিক জ্ঞান কতটা বিবেচনায় নেওয়া হয়? দ্বিতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মৌলিক সাংস্কৃতিক জ্ঞানের ঘাটতি কেন দেখা যাচ্ছে? তৃতীয়ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার আগে এমন বিষয়গুলো কেন আলোচনায় আসে না?

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং এটি একটি বৃহত্তর সমস্যার প্রতিফলন। শিক্ষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের মধ্যেই যদি এমন ঘাটতি থাকে, তাহলে সেটি উদ্বেগজনক।

মোসাদ্দেক ইবনে আলী মোহাম্মদের এই ভিডিও বক্তব্য নিছক একটি ‘ভুল’ নাকি একটি গভীরতর সমস্যার লক্ষণ—তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, দেশের শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজন ছাত্রনেতার কাছ থেকে ন্যূনতম সাংস্কৃতিক জ্ঞান প্রত্যাশা করাটা অযৌক্তিক নয়।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, তা দেখিয়ে দেয়—সাধারণ মানুষ এখনো ভাষা ও সংস্কৃতির মৌলিক বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। আর সেই জায়গায় কোনো ঘাটতি চোখে পড়লেই, তা আর চুপচাপ থেকে যায় না; বরং তা হয়ে ওঠে জনআলোচনার বিষয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250