ছবি: সংগৃহীত
দেশে কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ডাকা ১৩ই নভেম্বরের ঢাকায় ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিদেশে বসে আওয়ামী লীগের মধ্যম সারির একাধিক নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৩ই নভেম্বরের কর্মসূচি নিয়ে যে প্রচার চালাচ্ছেন, তা নিয়ে সরকার সতর্ক অবস্থানে।
জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি রাজনৈতিক দল যে পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন করছে, ১১ই নভেম্বরের আগে অন্তর্বর্তী সরকারকে সেসব দাবি মেনে নিতে বলেছে জামায়াত। তা না হলে ১১ই নভেম্বর আটটি রাজনৈতিক দলের উদ্যোগে রাজধানীতে মহাসমাবেশ হবে।
জামায়াত ও আওয়ামী লীগের এই কর্মসূচি আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে চরম অনিশ্চয়তার দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জনপ্রিয় উপস্থাপক জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, ১১ই নভেম্বর ঢাকায় জামায়াতের সমাবেশ। ১৩ তারিখ আওয়ামী লীগের লকডাউন কর্মসূচি।
তিনি বলেন, দুই দলের দুই কমসূচি ঘিরে কে কোন ঘটনা ঢাকায় ঘটাবে, কোনটার দায় কে কার উপরে চাপাবে— এগুলো জনমনে আশঙ্কা তৈরি করছে। এই সংঘাত বা বিতর্ক বাংলাদেশকে যে জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে, সেটা মোটামুটিভাবে স্পষ্ট, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক ভিডিওতে এসব কথা বলেন তিনি। 'ঢাকায় কী ঘটতে যাচ্ছে? আ. লীগ–বিএনপি–জামায়াত–এনসিপির টানাপোড়েন চরমে' শিরোনামে ভিডিওটি আপলোড করা হয়েছে। আজ সোমবার (১০ই নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে ভিডিওটি দেখা হয়েছে ৯৯ হাজার বারের বেশি। এতে তিনি বলেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের রায়কে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
জিল্লুর রহমান বলেন, আসন্ন সংসদ নির্বাচন ঘিরে জামায়াত, বিএনপি এবং এনসিপির মধ্যে টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পেয়েছে। ক্ষমতার সমীকরণ, কৌশলগত অবস্থান, মাঠ-পর্যায়ের প্রস্তুতি—সবকিছু নিয়েই শুরু হয়েছে চরম রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। এই ভিডিওতে আমরা বিশ্লেষণ করেছি রায় ঘোষণার পর দলের অবস্থান, নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক কৌশল, তিন দলের সংঘাতের সম্ভাব্য রূপরেখা ও ঢাকার সর্বশেষ আপডেট।
জিল্লুর রহমান বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) কণ্ঠস্বর আগের মতো জোরালো নয়। তারা নির্বাচন নিয়ে নানা রকম মধ্যস্থতার মধ্যে আছে। তবে এনসিপি একটা বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। সেটা হচ্ছে, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন আদেশ তারা দেখতে চায়। সেই আদেশ স্বাক্ষর করতে হবে প্রধান উপদেষ্টাকে।
তিনি আরো বলেন, জামায়াত পিআর পদ্ধতি নিয়ে অনড়। এর চেয়ে বেশি অনড় গণভোটের দাবি নিয়ে। এই জুলাই সনদ দেশের মানুষ অনুমোদন করে কিনা, সেটার জন্য তারা একটা গণভোট চাইছে। যদিও এর টেকনিক্যাল বা সায়েন্টেফিক দিক নিয়ে বিতর্ক করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
এই উপস্থাপক বলেন, যে গণভোটের কথা বলা হয়েছে, সেটায় বিএনপিও রাজি। যদি সেটা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে হয়। কিন্তু জামায়াত তো আগেই চাইছে। বিএনপি কোনো অবস্থাতেই আগে গণভোট মেনে নেবে না, সেটা তাদের বক্তব্য পরিষ্কার। জামায়াত আবার নানা রকমের কথা বলছে। আঙ্গুল বাকা করার কথা বলছে। বিএনপিও বলছে—আন্দোলনের হুমকি দেখিয়ে লাভ নেই। তাদের সামর্থ্য বা শক্তি, সেটাও কম নয়। কেউ যদি নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করে, তারা রুখে দেওয়ার চেষ্টা করবে।
খবরটি শেয়ার করুন