ফাইল ছবি
প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে বিতর্কে জড়ানোর ঘটনা দেশের রাজনীতিতে নতুন নয়। কখনো সংসদ সদস্যকে পিস্তল হাতে মিছিলে দেখা গেছে। কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে অস্ত্র হাতে তার ছবি। এবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ধরার ঘটনায় আলোচনায় এসেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তার দাবি, আত্মরক্ষার জন্য তিনি নিজের লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। কিন্তু অস্ত্রটি বৈধভাবে কেনা বা তার লাইসেন্স থাকা মানেই কি যেকোনো পরিস্থিতিতে প্রকাশ্যে সেটি প্রদর্শনের অধিকার রয়েছে?
১৮ অক্টোবর ২০২৬, রোববার, ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা নিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) তদন্তের কথা জানিয়েছে। ডিবি প্রধান বলেছেন, আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। তবে তদন্তের ঘোষণা আর কার্যকর আইনি পদক্ষেপ এক বিষয় নয়। তদন্তের ফল কী হবে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য ও ঘটনার ভিডিও-প্রমাণ কতটা যাচাই করা হবে এবং আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো বাকি।
সরকারের এক প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের হাতে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র দেখার ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা চলছে। মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে ইশরাকের দায়িত্ব রাষ্ট্রীয় আইন ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা মেনে চলা। সংসদ সদস্য হিসেবে তার দায়িত্ব আইন প্রণয়নে অংশ নেওয়া। সেই জনপ্রতিনিধিই যদি কোনো অভিযানে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা কী হবে—এ প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব। কোনো জনপ্রতিনিধি নিজে অস্ত্র হাতে পরিস্থিতি মোকাবিলায় নামলে তার ভূমিকার আইনগত সীমা নির্ধারণ জরুরি হয়ে পড়ে।
ইশরাকের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। আত্মরক্ষার দাবি তদন্তে যাচাই করা প্রয়োজন। ঠিক কী পরিস্থিতিতে অস্ত্র বের করা হয়েছিল, কারও কাছ থেকে তাৎক্ষণিক হামলার আশঙ্কা ছিল কি না, অস্ত্রটি কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং ঘটনার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য কী—এসব বিষয় তদন্তের অংশ হওয়া দরকার। শুধু অস্ত্রের লাইসেন্স আছে কি না, তা যাচাই করলেই পুরো ঘটনার আইনগত দিক নিষ্পত্তি হয় না।
গতকাল ১৭ অক্টোবর, শনিবার গেন্ডারিয়ার রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে অংশ নেন ইশরাক। আজ তিনি নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা দেন। তার বক্তব্য, মাদক কারবারিদের পক্ষ থেকে হামলার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় তিনি ও তার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন। অভিযানে ছয়জনকে আটক করার কথাও জানানো হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের পাশাপাশি ঘটনাস্থলের ভিডিও, উপস্থিত ব্যক্তিদের সাক্ষ্য এবং পুলিশের ভূমিকা যাচাই করা জরুরি। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়ে থাকলে সেটিও তদন্তে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু মাদকবিরোধী অভিযানে একজন জনপ্রতিনিধি কেন নিজে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ধরবেন, পুলিশ সেখানে কী ভূমিকা পালন করছিল এবং পরিস্থিতি মোকাবিলার অন্য কোনো উপায় ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর শুধু সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পাওয়া যাবে না।
আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা রয়েছে। ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই মন্ত্রণালয় ‘আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা, ২০২৫’ প্রকাশ করে। ফলে অস্ত্রের মালিকানা বৈধ কি না, তার পাশাপাশি সেটি ব্যবহারের নিয়মও বিবেচনায় নিতে হবে। আত্মরক্ষার দাবি সত্য হলে তার প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। কিন্তু আত্মরক্ষার দাবি উঠলেই অস্ত্র প্রদর্শনের প্রতিটি পরিস্থিতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইনসম্মত হয়ে যায়—এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না।
সমালোচকদের মতে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জন্য আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মানদণ্ড সাধারণ মানুষের চেয়ে কম হতে পারে না। বরং তাদের আচরণে বাড়তি দায়িত্বশীলতা প্রত্যাশিত। একজন প্রতিমন্ত্রী যদি পুলিশের সঙ্গে অভিযানে গিয়ে নিজেই অস্ত্র হাতে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন, তাহলে সাধারণ নাগরিকের কাছে আইন প্রয়োগের দায়িত্ব ও ক্ষমতার সীমা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত এবং প্রয়োজন হলে দৃশ্যমান আইনগত পদক্ষেপ নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক পরিচয় যেন তদন্তের ফল নির্ধারণ না করে।
ইশরাকের ঘটনা সামনে আসার পর অতীতের আরও দুটি অস্ত্রকাণ্ড নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এর একটি চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর। অন্যটি বগুড়া-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলুর। দুটি ঘটনায়ই প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। পুলিশি অনুসন্ধানের ঘোষণাও এসেছিল। কিন্তু তদন্তের ফল ও পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার বিষয়ে জনসমক্ষে কতটা স্পষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
২০২৩ সালের ২২ মে বিকেলে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে আওয়ামী লীগের একটি বিক্ষোভ মিছিলে পিস্তল হাতে দেখা যায় তৎকালীন সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীকে। আওয়ামী লীগের সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে মিছিলটি আয়োজন করা হয়েছিল। বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়। পরে বাঁশখালী থানা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনের সড়ক ঘুরে আবার দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করা হয়। মোস্তাফিজুর রহমান ছিলেন মিছিলের সামনের সারিতে। তার পেছনে ছিলেন ব্যানার বহনকারী দলীয় নেতা-কর্মীরা।
মিছিলের একটি ভিডিও ‘এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী’ নামের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়েছিল। ২৩ মে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ভিডিওতে সংসদ সদস্যের হাতে পিস্তল দেখা যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
ঘটনাটি সামনে আসার পর চট্টগ্রামের তৎকালীন পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ বিষয়টি অনুসন্ধানের কথা জানান। ২৩ মে তিনি পুলিশের জেলা বিশেষ শাখাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। অস্ত্রটি বৈধ কি না এবং মিছিলে সেটি কেন প্রদর্শন করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখার কথা জানানো হয়েছিল।
তবে অনুসন্ধানের ঘোষণা থেকে শেষ পর্যন্ত কী ফল এসেছিল, অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না এবং তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য প্রকাশ্য তথ্যের বিবরণ পাওয়া যায় না। তদন্তের অগ্রগতি ও পরিণতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না থাকা জনস্বার্থের প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।
এর আগেও অস্ত্র হাতে ছবি প্রকাশ করে সমালোচনায় পড়েছিলেন বগুড়া-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু। ২০২০ সালের ৯ অক্টোবর তার হাতে নতুন কেনা পিস্তলসহ একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে তাকে পিস্তল হাতে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে ছবিটি সরিয়ে নেওয়া হয়।
রেজাউল করিম বাবলু তখন দাবি করেছিলেন, সংসদ সদস্য হওয়ার পর তার শত্রু বেড়েছে। নিরাপত্তার জন্য তিনি আগ্নেয়াস্ত্র কিনেছেন। অস্ত্র কেনার পর সেটি পরীক্ষা করার সময় তার এক অনুসারী ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন। অস্ত্রের ছবি প্রকাশে আইনগত বাধা নেই বলেও তিনি বক্তব্য দিয়েছিলেন। তবে তার এই বক্তব্যের বিপরীতে আইনগত প্রশ্ন ওঠে।
আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স, নবায়ন ও ব্যবহারসংক্রান্ত তৎকালীন বিধান অনুযায়ী, ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য লাইসেন্স করা অস্ত্র রাখা গেলেও অন্যের মধ্যে ভয় বা বিরক্তি সৃষ্টি করতে পারে, এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শনের সুযোগ নেই। অস্ত্রের লাইসেন্স থাকলেই প্রকাশ্যে যেকোনোভাবে তা দেখানো যায় না—বগুড়ার এই ঘটনা সেই প্রশ্ন সামনে এনেছিল।
বাবলুর অস্ত্র হাতে ছবির ঘটনা নিয়ে সমালোচনা চলার মধ্যেই ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর তার ফেসবুক পাতায় নিজের নগ্ন ছবি প্রকাশিত হওয়ার খবরও আসে। তবে অস্ত্র প্রদর্শন এবং পরবর্তী ছবি প্রকাশের ঘটনা দুটি পৃথক বিষয়। একটির সঙ্গে অন্যটিকে মিলিয়ে কোনো অপরাধের সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না।
তিনটি ঘটনার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। বাবলুর ক্ষেত্রে অস্ত্র হাতে ছবি প্রকাশিত হয়েছিল। মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীকে দেখা গিয়েছিল রাজনৈতিক মিছিলে পিস্তল হাতে নেতৃত্ব দিতে। আর ইশরাক হোসেনের ক্ষেত্রে অভিযোগটি এসেছে মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে অস্ত্র হাতে অংশ নেওয়া নিয়ে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই মূল প্রশ্ন একই—অস্ত্রের লাইসেন্সের পাশাপাশি তার ব্যবহার ও প্রদর্শন আইনসম্মত ছিল কি না, তা নির্ধারণ করবে কে এবং কীভাবে?
জনপ্রতিনিধিরা সংসদে আইন প্রণয়ন করেন। আইন প্রয়োগের দায়িত্ব তাদের নয়। সেই দায়িত্ব পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার। সংসদ সদস্য কিংবা মন্ত্রিসভার সদস্য হলেই কেউ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিকল্প হয়ে যান না। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রয়োজন থাকলে তার জন্য আইনসম্মত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু নিরাপত্তার অজুহাতে অস্ত্র হাতে নিয়ে জনসমক্ষে পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রতিটি ঘটনাকে বৈধ বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
আইনবিশেষজ্ঞদের মতে, আত্মরক্ষার অধিকার এবং আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের বৈধতা এক প্রশ্ন নয়। আত্মরক্ষার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল কি না, তাৎক্ষণিক বিপদের মাত্রা কতটা ছিল এবং ব্যবহৃত বল পরিস্থিতির তুলনায় যুক্তিসংগত ছিল কি না—এসব বিষয় ঘটনার প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার করতে হয়। ইশরাকের ক্ষেত্রেও এই মানদণ্ড প্রযোজ্য হওয়া উচিত। তার রাজনৈতিক পরিচয় বা মন্ত্রিসভার পদ তদন্তের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়ের কারণ হতে পারে না।
এখানে ঢাকা মহানগর পুলিশের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ডিবি প্রধান জানিয়েছেন, ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আইনের ব্যত্যয় ঘটলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু তদন্তের ঘোষণা দিয়ে দায়িত্ব শেষ করা যায় না। তদন্তের অগ্রগতি, যাচাই করা তথ্য এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করা প্রয়োজন। অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্ষমতাসীন দলের নেতা, মন্ত্রী কিংবা সংসদ সদস্য—যেই হোন না কেন, আইনের প্রয়োগে একই মানদণ্ড থাকা উচিত।
সমালোচকদের মতে, আগের ঘটনাগুলোর তদন্ত ও পরবর্তী ব্যবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্যের অভাব নতুন ঘটনায় পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরির সুযোগ করে দেয়। মোস্তাফিজুর রহমানের ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বাবলুর ঘটনায় অস্ত্রের ছবি নিয়ে আইনগত প্রশ্ন উঠেছিল। এখন ইশরাকের ঘটনায়ও তদন্তের কথা বলা হচ্ছে। এসব ঘটনার প্রতিটিতে কী সিদ্ধান্ত হয়েছিল, কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না এবং একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—এসব তথ্য প্রকাশ করা প্রয়োজন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি সাধারণ নাগরিকের হাতে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় ব্যবস্থা নিতে পারে, তাহলে একজন প্রতিমন্ত্রী বা সংসদ সদস্যের ক্ষেত্রেও একই প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।
গেন্ডারিয়ায় ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তদন্তে কী উঠে আসে। আত্মরক্ষার দাবি প্রমাণ হলে তা বিবেচনায় নিতে হবে। আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে রাজনৈতিক পদমর্যাদা উপেক্ষা করে ব্যবস্থা নিতে হবে। আর কোনো ব্যত্যয় না পাওয়া গেলে তার ভিত্তিও জনসমক্ষে স্পষ্ট করতে হবে। কারণ, সংসদ সদস্যরা আইন প্রণেতা বলে তাদের আইনের ঊর্ধ্বে থাকার সুযোগ নেই। বরং তাদের আচরণেই আইনের প্রতি শ্রদ্ধার দৃষ্টান্ত থাকা প্রত্যাশিত।
খবরটি শেয়ার করুন