সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৬ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরে পেতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সিএনএন, পলিটিকোর মামলা *** তারেক রহমানের উপহার দেওয়া ইসরায়েলি লেখকের বই কেন ফেরত নিল ধর্ম মন্ত্রণালয় *** বিশ্ববাজারে কমলেও দেশে কেন জ্বালানি তেলের দাম বাড়াচ্ছে সরকার, বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী ছিল *** জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় জনজীবন আরও দুর্বিষহ হবে: জামায়াত *** জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর বাস ভাড়া বাড়ানোর দাবি পরিবহন মালিকদের *** জ্বালানি পাচার রোধে মূল্য সমন্বয় করেছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী *** বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে ১০১ ডলার *** নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা হলে বিএনপি হাত গুটিয়ে থাকবে না: রিজভী *** একাত্তরের ভূমিকার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনার প্রস্তাবে সমর্থন ছিল মুজাহিদ, কামারুজ্জামান ও কাদের মোল্লার *** জামায়াত বারবার ‘ক্ষমা’ চাওয়ার রাজনীতি করেছে, আনুষ্ঠানিক ক্ষমাপ্রার্থনা করেনি

সুখবর এক্সপ্লেইনার

তারেক রহমানের উপহার দেওয়া ইসরায়েলি লেখকের বই কেন ফেরত নিল ধর্ম মন্ত্রণালয়

বিশেষ প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৮:৪০ অপরাহ্ন, ২১শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী বাংলাদেশের হাফেজদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া উপহারের মধ্যে ছিল ইসরায়েলি ইতিহাসবিদ ও লেখক ইউভাল নোয়াহ হারারির বই ‘নেক্সাস’। বইটি হাতে পাওয়ার তিন দিনের মাথায় সেটি আবার ফেরত নিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। বইটি দেওয়া নিয়ে ধর্মভিত্তিক কয়েকটি সংগঠনের সমালোচনা ও আপত্তির পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বই ফেরত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

ঘটনাটি ঘটেছে ১৭ থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। ১৭ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাওয়া বাংলাদেশি হাফেজদের সংবর্ধনা দেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের বিভিন্ন উপহারের সঙ্গে হারারির ‘নেক্সাস’ বইও দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হওয়ার পর হেফাজতে ইসলাম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামসহ ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলো আপত্তি জানায়। গতকাল ২০ সেপ্টেম্বর, রোববার দুপুরে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন তার দপ্তরে বিজয়ী হাফেজদের কাছ থেকে বইগুলো ফেরত নেন।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বই ফেরত নেওয়া হয়েছে। ধর্ম প্রতিমন্ত্রীও একই কথা জানিয়েছেন। তবে মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বক্তব্যে কোনো সংগঠনের চাপের কারণে বই ফেরত নেওয়া হয়েছে—এ কথা সরাসরি বলা হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, মৌলবাদীদের চাপের মুখে বইটি ফেরত নেওয়া হয়েছে।

ঘটনাপ্রবাহেও বিষয় স্পষ্ট। ১৭ সেপ্টেম্বর বই দেওয়া হয়েছে। এরপর ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর সমালোচনা হয়েছে। ২০ সেপ্টেম্বর বই ফেরত নেওয়া হয়েছে। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বইটির লেখককে বিতর্কিত উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানিয়েছে। হেফাজতে ইসলামও বইটি কোরআন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের উপহার হিসেবে দেওয়াকে অনভিপ্রেত ও মুসলিম ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী হিসেবে অভিহিত করেছে।

কিন্তু ‘নেক্সাস’ আসলে কী বই? বইটির পূর্ণ নাম ‘নেক্সাস: প্রস্তর যুগ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পর্যন্ত তথ্যের যোগাযোগ-জালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস’। ২০২৪ সালে বইটি প্রকাশিত হয়। এতে হারারি মানুষের ইতিহাসকে মূলত তথ্য, তথ্যের প্রবাহ এবং মানুষের তৈরি বৃহৎ যোগাযোগ-ব্যবস্থার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন পোস্টের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, বইটির মূল বিষয় মানুষের তথ্য-ব্যবস্থার ইতিহাস। গুহাচিত্র, মৌখিক যোগাযোগ, প্রাচীন লিপি, ধর্মীয় গ্রন্থ, ছাপাখানা থেকে শুরু করে আধুনিক কম্পিউটার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—সবকিছুকে একটি দীর্ঘ তথ্য-ইতিহাসের অংশ হিসেবে দেখেছেন হারারি। তার যুক্তি হলো, বেশি তথ্য পাওয়া মানেই বেশি সত্য, প্রজ্ঞা বা ক্ষমতা পাওয়া নয়। মানুষের বড় বড় সামাজিক নেটওয়ার্ককে একত্রে ধরে রাখতে সত্যের পাশাপাশি গল্প, বিশ্বাস ও যৌথ ধারণারও বড় ভূমিকা থাকে।

ব্রিটিশ সংবাদপত্র গার্ডিয়ানের পর্যালোচনায়ও বইটির মূল আলোচনায় তথ্য-ব্যবস্থা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকির কথা তুলে ধরা হয়েছে। হারারির আশঙ্কা, নতুন ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু মানুষের তৈরি তথ্য বহন করবে না; ভবিষ্যতে তথ্য তৈরি, বাছাই ও প্রচারের ক্ষেত্রেও স্বতন্ত্র ভূমিকা নিতে পারে। এর ফলে ভুল তথ্য, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ আরও বড় সমস্যা হয়ে উঠতে পারে।

নিউইয়র্ক টাইমসের বই পর্যালোচনায় ‘নেক্সাস’-এর প্রথম অংশকে মানুষের যোগাযোগ ও তথ্যের ইতিহাস এবং পরের অংশকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সেখানে গণতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্র তথ্যের সঙ্গে কীভাবে ভিন্নভাবে আচরণ করে, সেটিও হারারির আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বইটিতে ধর্ম নিয়েও হারারির বিতর্কিত কিছু বিশ্লেষণ রয়েছে। কিরকাস রিভিউসের পর্যালোচনা অনুযায়ী, হারারি বাইবেল ও কোরআনের মতো ধর্মগ্রন্থের ‘অপরিবর্তনীয় সত্য’ হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং তথ্যব্যবস্থায় ভুল শনাক্ত ও সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে এর তুলনা করেছেন। এই অংশটি ধর্মীয় বিশ্বাসের দৃষ্টিকোণ থেকে আপত্তিকর মনে হতে পারে।

তবে ‘নেক্সাস’কে শুধু ধর্মবিরোধী বই হিসেবে বর্ণনা করলে বইটির বড় অংশ বাদ পড়ে যায়। বইটির প্রধান আলোচনাই হলো মানুষের তথ্য-ব্যবস্থা, ইতিহাস, রাজনীতি, গণতন্ত্র, মিথ্যা তথ্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ঝুঁকি। গার্ডিয়ান বইটিতে বাইবেলের সংকলন, মিয়ানমারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে ঘৃণামূলক প্রচার, ইরানে নারীদের শনাক্ত করতে প্রযুক্তির ব্যবহারসহ নানা বিষয় আলোচিত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছে।

সমকামী মানুষের অধিকার নিয়েও ইউভাল নোয়াহ হারারির অবস্থান বিতর্কের একটি কারণ। তবে এখানে দুটি বিষয় আলাদা করা প্রয়োজন। ‘নেক্সাস’ সমকামী অধিকারের ওপর লেখা কোনো বই নয়। কিন্তু বইটিতে যৌনতা ও সামাজিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ রয়েছে। আর হারারি ব্যক্তিগতভাবে সমকামী অধিকার নিয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন। ২০১৯ সালে গার্ডিয়ানে প্রকাশিত তার একটি নিবন্ধের বিষয় ছিল সমকামী মানুষের অধিকারের নতুন হুমকি। সেখানে তিনি সমকামী মানুষের বিরুদ্ধে বৈষম্য, নিপীড়ন এবং নজরদারি প্রযুক্তির সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে লিখেছিলেন।

ওই লেখায় হারারি নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ইন্টারনেটভিত্তিক সমকামী মানুষের পরিচিতি ও যোগাযোগের একটি মাধ্যমের মাধ্যমে তিনি তার স্বামীর সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলেন। প্রযুক্তি কীভাবে সংখ্যালঘু মানুষের সামাজিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করেছে এবং একই প্রযুক্তি কীভাবে তাদের ওপর নজরদারির হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে, সেটিই ছিল তার আলোচনার অন্যতম বিষয়।

অর্থাৎ হারারি সমকামী মানুষের অধিকারের সমর্থক—এটি তার প্রকাশ্য লেখালেখি থেকেই বলা যায়। কিন্তু ‘নেক্সাস’ বইটির মূল বক্তব্য সমকামী অধিকার নয়। বইটি মূলত তথ্যের ইতিহাস এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে।

এখন প্রশ্ন উঠেছে, এমন বই কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের উপহার হিসেবে কেন নির্বাচন করা হলো? আবার বইটি দেওয়ার পর কেনই বা ফেরত নেওয়া হলো? এ বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বই নির্বাচনের প্রক্রিয়া বা ফেরত নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে বইটি প্রথমে কেন নির্বাচন করা হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়।

বই ফেরত নেওয়ার ঘটনা দেশের রাজনীতিতে ধর্মভিত্তিক সংগঠনের প্রভাব নিয়ে পুরোনো বিতর্কও সামনে এনেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হেফাজতে ইসলামের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পাঠ্যবইয়ে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। ২০১৭ সালের পাঠ্যবইয়ে বিভিন্ন লেখকের লেখা বাদ দেওয়া ও নতুন লেখা যুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হয়। প্রথম আলো সে সময় প্রশ্ন তুলেছিল, শিশু-কিশোরেরা কী পড়বে, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে হেফাজতের প্রভাব কতটা থাকা উচিত।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, হেফাজতে ইসলামের দাবি মেনে পাঠ্যবই থেকে ‘নাস্তিক্যবাদ ও হিন্দু তত্ত্বের বিষয়বস্তু’ বাদ দেওয়াকে সংগঠনটির আমির শাহ আহমদ শফী সরকারের ‘প্রশংসনীয় ও ইতিবাচক’ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

২০১৭ সালের মে মাসে আরেকটি বড় ঘটনা ঘটে। সুপ্রিম কোর্টের সামনে স্থাপিত ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ভাস্কর্যটি সরিয়ে নেওয়া হয়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামী সংগঠনগুলোর দাবির মুখে ২৬ মে ভোরে ভাস্কর্যটি সরানো হয়। ডয়চে ভেলেও সে সময় লিখেছিল, হেফাজতে ইসলামসহ ধর্মভিত্তিক সংগঠনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ভাস্কর্যটি অপসারণ করা হয়।

এসব ঘটনার পর ধর্মীয় চাপের কাছে রাষ্ট্র নতি স্বীকার করেছে—এমন সমালোচনা তখনও হয়েছিল। আবার সরকারের পক্ষ থেকে এসব সিদ্ধান্তের পেছনে ভিন্ন ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে ধর্মীয় সংগঠনের সামাজিক চাপ কতটা প্রভাব ফেলে, সেই প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতেও উগ্রবাদ ও সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগের কিছু ঘটনা ঘটেছে। ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার তেজগাঁও কলেজের মসজিদ থেকে ২৩ জনকে উগ্রবাদী সন্দেহে আটক করার খবর প্রকাশিত হয়। পরে তাদের মধ্যে ১১ জনকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ১২ জনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ১২ জনের উগ্রবাদী তৎপরতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।

এর পাশাপাশি ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার বিভিন্ন স্থানে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ২০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের সামনে ও মৎস্য ভবন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের খবর দেয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। একই দিনে শিল্পকলা একাডেমির সামনেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এসব ঘটনার সঙ্গে ধর্মীয় উগ্রবাদের সম্পর্ক রয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে।

মাদ্রাসায় শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনাও দেশের জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে অন্তত ৫২ শিশু। ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশের মাদ্রাসাগুলোতে অন্তত ২১১টি ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীদের ধারণা, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না। যারা  ‘নেক্সাস’ বইটির বিরোধিতা করছেন, তারা মাদ্রাসায় ছেলে শিশুর ধারাবাহিক বলাৎকারের ঘটনায় চুপ।

অভিজ্ঞদের মতে, কোনো বইয়ের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত থাকলে তার সমালোচনা করা এবং একটি বই সম্পর্কে আপত্তি জানানো এক বিষয়। আর একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবে দেওয়া বই জনসমালোচনার পর ফেরত নেওয়া আরেক বিষয়। দ্বিতীয় ঘটনাটি রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা, বই নির্বাচনের প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর চাপের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।

শেষ পর্যন্ত ‘নেক্সাস’ ফেরত নেওয়ার ঘটনা শুধু একটি বইয়ের ঘটনা হয়ে থাকছে না। ১৭ সেপ্টেম্বর বই দেওয়া, এরপর ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর আপত্তি, এবং ২০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বই ফেরত নেওয়া—এই ধারাবাহিকতা দেশের রাজনীতি ও সমাজে ধর্মীয় চাপের ভূমিকা নিয়ে পুরোনো বিতর্ককে আবার সামনে এনেছে। সরকার কেন বইটি প্রথমে নির্বাচন করেছিল এবং পরে কেন তা ফেরত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল—এই দুই প্রশ্নের বিস্তারিত ব্যাখ্যা না আসা পর্যন্ত বিতর্কটি চলবে বলেই মনে হচ্ছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরে পেতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সিএনএন, পলিটিকোর মামলা

🕒 প্রকাশ: ০৮:৫৮ অপরাহ্ন, ২১শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

তারেক রহমানের উপহার দেওয়া ইসরায়েলি লেখকের বই কেন ফেরত নিল ধর্ম মন্ত্রণালয়

🕒 প্রকাশ: ০৮:৪০ অপরাহ্ন, ২১শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ববাজারে কমলেও দেশে কেন জ্বালানি তেলের দাম বাড়াচ্ছে সরকার, বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী ছিল

🕒 প্রকাশ: ০৭:৪৭ অপরাহ্ন, ২১শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় জনজীবন আরও দুর্বিষহ হবে: জামায়াত

🕒 প্রকাশ: ০৭:১৮ অপরাহ্ন, ২১শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর বাস ভাড়া বাড়ানোর দাবি পরিবহন মালিকদের

🕒 প্রকাশ: ০৭:১২ অপরাহ্ন, ২১শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250