সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৬ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** তারেক রহমানের উপহার দেওয়া ইসরায়েলি লেখকের বই কেন ফেরত নিল ধর্ম মন্ত্রণালয় *** বিশ্ববাজারে কমলেও দেশে কেন জ্বালানি তেলের দাম বাড়াচ্ছে সরকার, বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী ছিল *** জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় জনজীবন আরও দুর্বিষহ হবে: জামায়াত *** জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর বাস ভাড়া বাড়ানোর দাবি পরিবহন মালিকদের *** জ্বালানি পাচার রোধে মূল্য সমন্বয় করেছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী *** বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে ১০১ ডলার *** নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা হলে বিএনপি হাত গুটিয়ে থাকবে না: রিজভী *** একাত্তরের ভূমিকার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনার প্রস্তাবে সমর্থন ছিল মুজাহিদ, কামারুজ্জামান ও কাদের মোল্লার *** জামায়াত বারবার ‘ক্ষমা’ চাওয়ার রাজনীতি করেছে, আনুষ্ঠানিক ক্ষমাপ্রার্থনা করেনি *** এমপি নজরুলের ৪ দিন ও প্রথম স্ত্রীর এক দিনের রিমান্ড

সুখবর এক্সপ্লেইনার

বিশ্ববাজারে কমলেও দেশে কেন জ্বালানি তেলের দাম বাড়াচ্ছে সরকার, বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী ছিল

শুভ্র বড়ুয়া

🕒 প্রকাশ: ০৭:৪৭ অপরাহ্ন, ২১শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে আজ সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের নভেম্বরের ফিউচার দর দিনের লেনদেনে প্রায় ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১০১ দশমিক ৭০ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের অক্টোবরের ফিউচার দরও প্রায় ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৯৮ দশমিক ২০ ডলারের কাছাকাছি ছিল। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্স, সিএনবিসি ও ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে দিনের বাজারচিত্রে এই পতনের কথা এসেছে।

দামের এই পতনের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি আবার বাড়ার সম্ভাবনা। শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরবের রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করে। একই সময়ে সৌদির আরামকোর একটি স্থাপনাতেও হামলার খবর আসে। এরপরও সৌদি আরব বিকল্প পথে তেল রপ্তানি বাড়াতে পারছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি দৈনিক ৪০ লাখ ব্যারেলের কিছু বেশি হয়েছে। আগস্টে তা ছিল দৈনিক ২৪ লাখ ব্যারেল।

জেপি মরগ্যানের ১৮ সেপ্টেম্বরের বিশ্লেষণেও মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষকেরা বলেছেন, সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে বিঘ্ন থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের তেল প্রবাহ আশঙ্কার তুলনায় শক্তিশালী রয়েছে। গত ১০ দিনে মোট তেল সরবরাহের গড় ছিল দৈনিক ১ কোটি ৭১ লাখ ব্যারেল। ২০২৫ সালের গড়ের চেয়ে তা দৈনিক ৬১ লাখ ব্যারেল কম। সৌদি তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার পরিমাণও বেড়েছে।

এ কারণেই বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ এখন মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। সৌদি আরব যদি দ্রুত রপ্তানি স্বাভাবিক করতে পারে, তাহলে বাজারে সরবরাহ-সংকটের আশঙ্কা কিছুটা কমবে। সিএনবিসির প্রতিবেদনে স্কাই লিংকস ক্যাপিটাল গ্রুপের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড্যানিয়েল তাকিয়েদ্দিন বলেছেন, তেলের দাম অনেকটাই নির্ভর করবে রপ্তানি কত দ্রুত স্বাভাবিক হয় এবং কূটনৈতিক অগ্রগতি কতটা হয় তার ওপর। নতুন করে জাহাজ চলাচলে সমস্যা হলে আবারও দামের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হতে পারে।

অর্থাৎ বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমার অর্থ এই নয় যে মধ্যপ্রাচ্যের ঝুঁকি শেষ হয়ে গেছে। বরং বাজার এখন দুই ধরনের খবর একসঙ্গে বিবেচনা করছে। একদিকে সরবরাহ সচল রাখার বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এবং সৌদি আরবের ওপর হুতিদের হামলা নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ফক্স নিউজকে বলেছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের বিষয়ে তিনি শিগগির সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। ফলে বাজারে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই দেশে গতকাল রোববার রাতে জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা করা হয়। আজ থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে। কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, পেট্রল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ চার ধরনের জ্বালানি তেলের দামই লিটারে ২০ টাকা করে বেড়েছে।

এটি তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের ক্ষমতায় আসার পর তৃতীয় জ্বালানি তেল মূল্যবৃদ্ধি। ফেব্রুয়ারিতে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এপ্রিল মাসে বড় ধরনের সমন্বয় করা হয়েছিল। মে মাসে দাম অপরিবর্তিত ছিল। জুনে ডিজেল অপরিবর্তিত রেখে পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম বাড়ানো হয়। আগস্টের শেষ দিকে সেপ্টেম্বরের জন্য দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু রোববার রাতে আবার চার ধরনের তেলের দাম একসঙ্গে বাড়ানো হলো। যা চলতি বিএনপি সরকারের তৃতীয়বার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি।

প্রশ্ন হচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজারে সোমবার যখন তেলের দাম কমছে, তখন বাংলাদেশে কেন দাম বাড়ল? সরকারের ব্যাখ্যা হলো, আন্তর্জাতিক বাজারে সাম্প্রতিক সময়ে শুধু অপরিশোধিত তেলের দাম নয়, জাহাজভাড়া ও বিমা ব্যয়ও বেড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের বড় লোকসান। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আজ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত দাম সমন্বয় না করায় বিপিসির প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় দেশে তেলের দাম কম থাকায় পাচারের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছিল বলে তিনি জানান।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে জাহাজভাড়া ও বিমার খরচ বেড়েছে। সরকারের সামনে দাম সমন্বয় করা ছাড়া বিকল্প ছিল না। তিনি এই সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়বে বলে দুঃখপ্রকাশ করেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভবিষ্যতে দাম আবার কমানোর চেষ্টা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সরকারের যুক্তির আরেকটি দিক হলো বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলছেন, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের পাঠানো কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রায় কেনা তেল প্রতিবেশী দেশে পাচার হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি ছিল। দাম সমন্বয়ের মাধ্যমে সেই ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে এখানেই সাধারণ মানুষের প্রশ্নটি বড় হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার খবর যখন আসছে, তখন দেশের ভোক্তাদের ওপর কেন একসঙ্গে ২০ টাকা বাড়তি চাপ দেওয়া হলো? এর একটি উত্তর হলো, দেশে আজকের খুচরা দাম আজকের আন্তর্জাতিক বাজারদর দিয়ে নির্ধারিত হয় না। যে তেল এখন দেশে বিক্রি হচ্ছে, তার বড় অংশ আগের সময়ে বেশি দামে কেনা হতে পারে। আমদানির পর দেশে পৌঁছানো পর্যন্ত জাহাজভাড়া, বিমা, ডলারের বিনিময় হার, পরিবহন ও অন্যান্য ব্যয় যুক্ত হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এক দিনের দরপতন সঙ্গে সঙ্গে দেশের পাম্পের দামে প্রতিফলিত হয় না। আবার আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে সেই চাপ দ্রুত দেশের বাজারে চলে আসতে পারে।

কিন্তু এই ব্যাখ্যার বিপরীত দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমতে শুরু করলে সেই সুবিধা ভোক্তারা কখন পাবেন, সেটি এখন বড় প্রশ্ন। বিশেষ করে এমন সময়ে যখন নতুন দাম কার্যকর হওয়ার দিনই আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ১০২ ডলারের কাছাকাছি এবং ডব্লিউটিআই ৯৮ ডলারের আশপাশে নেমে এসেছে। রয়টার্স বলছে, সৌদি রপ্তানি পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাই বাজারে সরবরাহ নিয়ে আশাবাদ তৈরি করেছে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে পরিবহনে। আজ বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণ নিয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাস মালিক-শ্রমিকদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাস মালিকদের পক্ষ থেকে কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়ার খবর এসেছে।

এতে নিম্নআয়ের মানুষের ব্যয় সরাসরি বাড়তে পারে। একজন শ্রমিক, নিম্নবেতনের কর্মচারী বা ছোট ব্যবসায়ী প্রতিদিন কয়েকবার বাসে যাতায়াত করলে সামান্য ভাড়া বৃদ্ধিও মাস শেষে বড় ব্যয়ে পরিণত হয়। পরিবহন ব্যয় বাড়লে শুধু যাত্রীভাড়াই বাড়ে না। পণ্য পরিবহনের খরচও বাড়ে। ফলে কৃষিপণ্য, খাদ্য, নির্মাণসামগ্রী ও অন্যান্য পণ্যের দামে তার প্রভাব পড়তে পারে।

অর্থনীতিবিদ সেলিম রায়হান বলছেন, নতুন জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন, উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহের ব্যয় বাড়বে। এতে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।

অর্থনীতিবিদ ফাহমিদা খাতুনের আশঙ্কাও একই দিকে। তিনি বলছেন, পরিবহন, কৃষি ও শিল্পের ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি নিম্নআয় ও নিম্নমধ্যম আয়ের পরিবার তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ এসব পরিবারের আয়ের বড় অংশ দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতেই ব্যয় হয়।

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলমও বলছেন, এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের টিকে থাকা আরও কঠিন হবে।

শিল্পখাতের দিক থেকেও ঝুঁকি আছে। বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেছেন, জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বাড়বে। এর প্রভাব পড়বে মূল্যস্ফীতিতে। তার আশঙ্কা, কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমাতে পারে এবং কর্মসংস্থানেও চাপ তৈরি হতে পারে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীও। সোমবার দেওয়া বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, সরকার দফায় দফায় জ্বালানির দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ওপর ব্যয়ের বোঝা চাপাচ্ছে। তিনি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।

যাত্রী কল্যাণ সমিতিও দাম প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্য, জ্বালানির দাম বাড়লে গণপরিবহন, পণ্য পরিবহন ও শিল্প উৎপাদনের খরচ বাড়বে।

এখন সামনে আসছে বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রশ্ন। ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে বিএনপির ঘোষিত ইশতেহারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক নিরাপত্তা, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানো এবং আমদানিনির্ভরতা কমানোর বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল। ইশতেহারে প্রান্তিক পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে মাসিক আর্থিক সহায়তা বা খাদ্যসুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ছিল। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার এপ্রিল মাসে বলেছিল, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ভর্তুকি, বিকল্প উৎস থেকে আমদানি ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।

এই অবস্থান এবং বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে ব্যবধান নিয়েই রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আর্থিক ক্ষতি, চোরাচালান এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে সিদ্ধান্তটি প্রয়োজনীয় হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, সাধারণ মানুষের ওপর চাপ না বাড়িয়ে অন্য উপায়ে সংকট সামাল দেওয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি সংকট থেকে বের হতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং সৌরবিদ্যুতের প্রসারের কথা বলেছেন। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও রয়েছে।

নিম্নআয়ের মানুষের সমস্যা হচ্ছে বর্তমান মাসের বাজার। আজ বাসভাড়া বাড়লে আজই অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে। পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়লে আগামী কয়েক দিনের বাজারেই তার প্রভাব পড়তে পারে। রান্না, যাতায়াত, পণ্য কেনা এবং ছোট ব্যবসার খরচ—সব মিলিয়ে পরিবারের মাসিক হিসাব আরও কঠিন হতে পারে।

বিশ্ববাজারের বর্তমান পতন তাই বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও তৈরি করেছে। সৌদি আরবের সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে কূটনৈতিক অগ্রগতি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম আরও কমতে পারে। আবার সংঘাত বাড়লে পরিস্থিতি উল্টেও যেতে পারে। এই অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশের সাধারণ মানুষের জন্য মূল প্রশ্ন হবে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে তার সুফল কত দ্রুত দেশের বাজারে পৌঁছাবে এবং দাম বাড়লে তার পুরো চাপ কতটা দ্রুত ভোক্তার ওপর দেওয়া হবে।

শেষ পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম শুধু জ্বালানি খাতের হিসাব নয়। এটি পরিবহন, কৃষি, শিল্প, খাদ্যপণ্য এবং নিম্নআয়ের মানুষের সংসার—সবকিছুর সঙ্গে যুক্ত। তাই সরকারের সামনে এখন শুধু বিপিসির লোকসান কমানোর প্রশ্ন নয়। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, নিম্নআয়ের মানুষের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে তার সুফল ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

জ্বালানি তেল

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

তারেক রহমানের উপহার দেওয়া ইসরায়েলি লেখকের বই কেন ফেরত নিল ধর্ম মন্ত্রণালয়

🕒 প্রকাশ: ০৮:৪০ অপরাহ্ন, ২১শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ববাজারে কমলেও দেশে কেন জ্বালানি তেলের দাম বাড়াচ্ছে সরকার, বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী ছিল

🕒 প্রকাশ: ০৭:৪৭ অপরাহ্ন, ২১শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় জনজীবন আরও দুর্বিষহ হবে: জামায়াত

🕒 প্রকাশ: ০৭:১৮ অপরাহ্ন, ২১শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর বাস ভাড়া বাড়ানোর দাবি পরিবহন মালিকদের

🕒 প্রকাশ: ০৭:১২ অপরাহ্ন, ২১শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানি পাচার রোধে মূল্য সমন্বয় করেছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী

🕒 প্রকাশ: ০৭:০১ অপরাহ্ন, ২১শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250