ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্য সরকার ঘৃণাত্মক বক্তব্যবিরোধী নতুন আইনের আওতায় ফিলিস্তিনপন্থী স্লোগান ‘ফ্রম দ্য রিভার টু দ্য সি’ নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাবিত আইনটি পাস হলে কুইন্সল্যান্ড হবে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম রাজ্য, যেখানে এই স্লোগানটি আইনত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হবে।
কুইন্সল্যান্ড রাজ্য সরকার দাবি করেছে, সাম্প্রতিক বন্ডি বিচে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার পর ঘৃণাবাচক বক্তব্য ও চরমপন্থা রুখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ওই হামলায় ইহুদিদের হনুক্কা উৎসব উদ্যাপনের সময় ১৫ জন নিহত হন।
কুইন্সল্যান্ডের প্রিমিয়ার ডেভিড ক্রিসাফুলি জানিয়েছেন, নতুন আইনটি রাজ্য সংসদে উপস্থাপন করা হবে আজ মঙ্গলবার (১০ই ফেব্রুয়ারি)। তিনি বলেন, ‘এটি ঘৃণার বিরুদ্ধে স্পষ্ট সীমারেখা টানার একটি প্রয়াস।’
প্রস্তাবিত আইনে ঘৃণাত্মক প্রতীক প্রদর্শন, সন্ত্রাসী স্লোগান উচ্চারণ, উপাসকদের হয়রানি কিংবা উপাসনালয় ভাঙচুরের মতো অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ প্রতীকের তালিকায় যুক্ত করা হচ্ছে হামাসের পতাকা ও প্রতীক, আইএসের পতাকা, হিজবুল্লাহর প্রতীক এবং নাৎসি প্রতীক।
প্রিমিয়ার ক্রিসাফুলি বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই বলেছি—এই বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নেব। এই আইন সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব রূপ।’ তিনি আরও বলেন, অবহেলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে যে ঘৃণার আগুন জ্বলছিল, তা নিভিয়ে কুইন্সল্যান্ডবাসীকে সুরক্ষিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
‘ফ্রম দ্য রিভার টু দ্য সি, প্যালেস্টাইন উইল বি ফ্রি’—এই স্লোগানটি জর্ডান নদী থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলকে নির্দেশ করে। ইসরায়েলের গাজায় পাল্টা সামরিক অভিযানের পর স্লোগানটি বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনপন্থীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ওই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭২ হাজার ২৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
কুইন্সল্যান্ডের অ্যাটর্নি জেনারেল ডেব ফ্রেকলিংটন বলেন, ‘যখন এসব স্লোগান ঘৃণা, অপমান বা ভয় সৃষ্টি করতে ব্যবহৃত হয়, তখন কুইন্সল্যান্ডে তার কোনো স্থান নেই।’
তবে মানবাধিকারকর্মী ও ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠনগুলোর দাবি, এই স্লোগান ও ‘গ্লোবালাইজ দ্য ইন্তিফাদা’ ধরনের বক্তব্য ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের আহ্বান—এগুলো সহিংসতা বা ইসরায়েল ধ্বংসের ডাক নয়। প্রস্তাবিত আইনে ‘গ্লোবালাইজ দ্য ইন্তিফাদা’ বাক্যটিও নিষিদ্ধ তালিকায় যুক্ত করা হচ্ছে, যার জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড হতে পারে।
এদিকে কুইন্সল্যান্ড ‘জিউইশ বোর্ড অব ডেপুটিজ’-এর সভাপতি জেসন স্টেইনবার্গ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, নতুন আইন স্পষ্ট বার্তা দেবে, কুইন্সল্যান্ডে ইহুদিবিদ্বেষ ও ঘৃণার কোনো জায়গা নেই। তার মতে, এই বিল শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বাস্তব সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন