মঙ্গলবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১২ই ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করার ঘোষণা *** গবেষণা ও জনমত যাচাই ছাড়া পুলিশের পোশাক পরিবর্তন পুনর্বিবেচনার আহ্বান *** আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ‘রাজসাক্ষী’ বানিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগ *** ‘চেতনা পরিপন্থি হলে তো সংবিধান পরিপন্থি হয় না’ *** নিজের ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম ডিঅ্যাকটিভেট করলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব *** রাষ্ট্রপতিকে রক্ষায় বিএনপি কেন অনড় ছিল, দলটির বিষয়ে কি বলছেন তিনি? *** ‘বিএনপির শক্ত অবস্থানের কারণেই সাহাবুদ্দিন থেকে গেছেন বঙ্গভবনে’ *** সদ্য সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ৯ হাজার কোটি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ *** বিদ্যুতে বকেয়া ৪৫ হাজার কোটি টাকা, মন্ত্রী বলছেন—দেউলিয়া পরিস্থিতি *** ১২ই মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশন ডেকেছেন রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশ ও মিয়ানমার নির্বাচন-উত্তর নতুন পরিস্থিতিতে রাখাইনের ভবিষ্যৎ কি?

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ১০:০৬ পূর্বাহ্ন, ২৪শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬

#

ফাইল ছবি

যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারে বিতর্কিত নির্বাচনের পর সামরিক নেতৃত্বের প্রভাব বজায় রেখে বেসামরিক সরকার গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সামরিক জান্তা। চীন, রাশিয়া ও ভারতসহ কয়েকটি বড় শক্তি এ নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়ে নেপিদোর সঙ্গে যোগাযোগ স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত দিয়েছে।

একই সময়ে বাংলাদেশেও নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে নতুন সরকার। তবে এসব রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেও গৃহযুদ্ধ চলা রাখাইন রাজ্যে নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন নেই। 

বেইজিং আগে সীমান্ত স্থিতিশীলতা ও করিডোর সুরক্ষার স্বার্থে জান্তা ও বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্রগোষ্ঠী—দুই পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ রেখে চললেও সাম্প্রতিক সময়ে জান্তা নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর ওপর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপ বাড়িয়েছে।

চীনের মধ্যস্থতায় মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে একাধিক যুদ্ধবিরতি ও সাময়িক অস্ত্রবিরতির ঘটনাও সামনে এসেছে। যার ফলে কিছু এলাকায় জান্তা বাহিনী ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে, সামগ্রিকভাবে তাদের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

একই সময়ে রাশিয়ার সমর্থনও জান্তার অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করেছে। এমনকি মিয়ানমার-রাশিয়া সামরিক সহযোগিতা চুক্তির খবরও প্রকাশিত হয়েছে। তবে রাখাইন রাজ্যের প্রায় পুরো ভূখণ্ড এখনো আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে থাকায় চীনের কৌশলগত করিডোর, সীমান্ত স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রশ্ন অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে।

ফলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন থেকে আঞ্চলিক যোগাযোগ—সবকিছুই এখনো অমীমাংসিত। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে কোন পথে যাবে রাখাইনের ভবিষ্যৎ?

চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যে মিয়ানমারের দুই দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও তা পুরো দেশে কার্যকর হয়নি। সামরিক জান্তা স্বীকার করেছে ৩৩০টি টাউনশিপের মধ্যে ২৬৫টিতে ভোট আয়োজন সম্ভব হয়েছে।

সামরিক সরকারের নিয়ন্ত্রণ এখনো দেশের ৩০-৪০ শতাংশ এলাকায় সীমিত। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন সমান্তরাল প্রশাসন, কর ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলেছে।

এ বাস্তবতায় রাখাইন রাজ্য কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন এক ভূখণ্ডে পরিণত হয়েছে। সেখানে সংঘাত বেড়েছে এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের বড় অংশ এখনো আরাকান আর্মির হাতে।

নির্বাচনের মাধ্যমে প্রশাসনিক উপস্থিতির বার্তা দেয়া হলেও বাস্তবতায় কোনো পরিবর্তন হয়নি। ফলে চীনের বাণিজ্যপথ ও অবকাঠামো বাস্তবায়নের প্রশ্নে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

চাইনিজ নিউ ইয়ার উপলক্ষে আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠানে মিয়ানমারের সামরিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে দেশটির ভৌগোলিক অবস্থানকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগ কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরা হয়। চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোরের প্রকল্পগুলো এগিয়ে নেয়ার কথা বলা হয়।

বেইজিং নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়েছে এবং নতুন রাজনৈতিক কাঠামোর মাধ্যমে স্থিতিশীলতার আশা প্রকাশ করেছে। তবে বাস্তবে যেসব এলাকায় করিডোর, রেলপথ বা কিয়াউকফিউ গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা, সেগুলোর বড় অংশই এখন কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

চীনের জন্য মিয়ানমার শুধু প্রতিবেশী রাষ্ট্র নয়, বরং ভারত মহাসাগরে প্রবেশের বিকল্প করিডোর। রাখাইন থেকে ইউনান পর্যন্ত তেল-গ্যাস পাইপলাইন ও সম্ভাব্য রেল-সড়ক যোগাযোগ মালাক্কা প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমানোর কৌশলের অংশ। কিন্তু জান্তার নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এসব প্রকল্পের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।

আঞ্চলিক শক্তিগুলোর অবস্থানেও নির্বাচন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। চীন, ভারত ও থাইল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশ নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়ে পর্যবেক্ষক পাঠিয়েছে। তাদের প্রধান লক্ষ্য মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা। মিয়ানমারের খনিজ সম্পদ, সীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং সংযোগ প্রকল্পও তাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে।

ভারতের জন্য মিয়ানমার পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগ স্থাপনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার কারণে সড়ক ও বন্দরভিত্তিক প্রকল্পগুলো ধীরগতির।

একই সঙ্গে সীমান্তে বিদ্রোহীগোষ্ঠীর আশ্রয় নেয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। ফলে দিল্লির জন্য দ্রুত স্থিতিশীলতা ফেরার সম্ভাবনা কম।

মিয়ানমারের নতুন সরকার বেসামরিক কাঠামোর আড়ালে সামরিক প্রভাব বজায় রাখবে—এমন ধারণা বিশ্লেষকদের মধ্যে জোরালো। সংসদের একটি বড় অংশ সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় সামরিক কর্মকর্তাদের হাতে থাকবে।

ফলে রাজনৈতিক পরিবর্তনের বদলে শাসন ব্যবস্থার ধারাবাহিকতাই বজায় থাকার সম্ভাবনা বেশি। এ পরিস্থিতিতে রাখাইনসহ সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা না হলে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

আরাকান আর্মির সঙ্গে চলমান সংঘর্ষে বারবার পিছিয়ে পড়ার পর রাখাইনে বেসামরিক গ্রামগুলোতে বিমান ও নৌবাহিনীর গোলাবর্ষণ বাড়িয়েছে সামরিক জান্তা। চীনা অবকাঠামোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিয়াকফিউ অঞ্চলে সাম্প্রতিক লড়াইয়ে সরাসরি মুখোমুখি সংঘর্ষে সুবিধা করতে না পেরে তারা আকাশ ও সমুদ্র থেকে হামলা চালায়।

১৫ই ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় মিন প্যিন গ্রামে বিমান হামলায় এক নারী ও এক শিশুর মৃত্যু এবং বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এর আগের দিন নৌবাহিনীর একটি জাহাজ থেকে ছোড়া গোলা কিয়াউক পিয়াউ গ্রামে একটি বসতঘরে আঘাত করলে ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা নিহত হন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজয়ের পরই গ্রামগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। সংঘর্ষের এ ধরন রাখাইনে বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরো অনিশ্চিত করে তুলছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রশ্নেও পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোতে নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের কোনো বাস্তবসম্মত পথ তৈরি হয়নি।

বিশ্লেষণ বলছে, চলমান সংঘাতের কারণে নতুন করে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে এবং রাখাইনের অস্থিতিশীলতা এখনো বাংলাদেশের কক্সবাজার সীমান্তে চাপ তৈরি করছে।

রোহিঙ্গা সংকট দেখা দেয়ার শুরু থেকেই বিএনপির নেতারা বিভিন্ন সময় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নীতি অনুসরণ করার কথা বলে আসছিলেন।

১৯৭৮ সালে আরাকানে বার্মার সামরিক অভিযান শুরুর পর প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিলে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সরকার বিষয়টিকে দীর্ঘমেয়াদি শরণার্থী সংকট হিসেবে নয়, দ্রুত প্রত্যাবাসনযোগ্য একটি কূটনৈতিক ইস্যু হিসেবে মোকাবেলা করে। 

ঢাকায় অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ফল হিসেবে ওই বছরের জুলাইয়ে স্বাক্ষরিত ‘বাংলাদেশ-বার্মা প্রত্যাবাসন চুক্তি’তে উল্লেখ করা হয় যে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ‘বার্মার বৈধ বাসিন্দাদের’ দ্রুত ফেরত নেয়া হবে। 

পরবর্তী সময়ে প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির মাধ্যমে প্রকাশিত ‘সিক্রেট’ চিহ্নিত সেই নথির উদ্ধৃতি দিয়ে ফোর্বসে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়, এ ভাষা ব্যবহার কার্যত বার্মা সরকারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের দেশটির আইনসম্মত বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃতিরই প্রমাণ। সেই সময় ঢাকা শুধু মানবিক সহায়তায় সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন নিয়ে মিয়ানমারের ওপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে স্বল্প সময়ের মধ্যেই অধিকাংশ শরণার্থীর প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছিল।

ফলে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত দায় বাংলাদেশ নিজের ওপর নেয়নি, বরং তা মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হিসেবেই প্রতিষ্ঠার কৌশল গ্রহণ করেছিল।

এখন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি সরকারও সেই নীতির ধারাবাহিকতায় দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনকে অগ্রাধিকার দিতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।

যদিও বিশ্লেষকেরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাখাইনে স্থিতিশীলতা ফেরার কোনো লক্ষণ নেই। রাখাইন স্থিতিশীল না হলে শিগগিরই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সুরাহা হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন না তারা।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণী গবেষণাপ্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিল তাদের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রশ্নে বর্তমান পরিস্থিতিকে কার্যত অচলাবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারা বলছে, মিয়ানমারের সামরিক নেতৃত্বের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত নির্বাচন এ সংকট সমাধানের জন্য কোনো বাস্তব পথ তৈরি করেনি।

তাদের মতে, প্রত্যাবাসনের জন্য যে তিন মৌলিক শর্ত—নিরাপত্তা, নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক সমঝোতা—তার কোনোটিই এখনো বিদ্যমান নয়। বরং রাখাইনে চলমান সংঘাত এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের ভাঙন পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।

আরাকান আর্মির ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সীমিত নিয়ন্ত্রণের ফলে বাংলাদেশ যাদের ফেরত পাঠাবে, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কে—এ প্রশ্নের কোনো কার্যকর উত্তর নেই।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জান্তা সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের লক্ষ্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সামনে আনলেও তা অন্তর্ভুক্তিমূলক নয় এবং রাখাইনসহ সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলোর বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে না। ফলে এ কাঠামোর মাধ্যমে স্বেচ্ছায় ও টেকসই প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বলে মনে করছে সংস্থাটি। 

আটলান্টিক কাউন্সিল সতর্ক করে বলেছে, রাখাইনে সহিংসতা অব্যাহত থাকলে নতুন করে বাস্তুচ্যুতি ঘটতে পারে, যার চাপ সরাসরি বাংলাদেশের সীমান্তে পড়বে। সীমান্তবর্তী এলাকায় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয়তা, চোরাচালান ও মানব পাচারের ঝুঁকি বাড়ছে, যা পরিস্থিতিকে কেবল মানবিক সংকট নয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতেও পরিণত করছে।

সংস্থাটির মতে, রোহিঙ্গা সংকট এখন কেবল দ্বিপক্ষীয় নয়; এটি আঞ্চলিক ভূরাজনীতির অংশ হয়ে গেছে। চীন স্থিতিশীলতা চাইলেও তার প্রধান আগ্রহ করিডোর ও জ্বালানি নিরাপত্তায়, আর ভারত নিরাপত্তা ও সংযোগ প্রকল্প নিয়ে দ্বৈত কৌশল অনুসরণ করছে।

ফলে প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বিত আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিকট ভবিষ্যতে সম্ভব নয় বলেই তাদের মূল্যায়ন।

জে.এস/

মিয়ানমার

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250