ছবি: বিএনপির মিডিয়া সেল
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আজ মঙ্গলবার (১৭ই ফেব্রুয়ারি) এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে যাচ্ছে ঢাকা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী বিএনপি সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনে বসেছে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতা ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মিলনমেলা।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা এটিকে দেখছেন তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারের প্রতি শক্তিশালী আঞ্চলিক সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে। খবর বাসসের।
আজকের এই শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ইতিমধ্যেই প্রতিবেশী দেশগুলোর অতিথিরা ঢাকায় পৌঁছেছেন। তাদের এই উপস্থিতি বাংলাদেশের আঞ্চলিক গুরুত্ব এবং নতুন সরকারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার প্রত্যাশাকেই তুলে ধরছে।
মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু আজ সকালে বিশেষ বিমানে ঢাকা পৌঁছান। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম. তৌহিদ হোসেন। মালদ্বীপ হাইকমিশন জানিয়েছে, এই সফর দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ আমন্ত্রণে শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। তার এই সফরকে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্বের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই অংশগ্রহণ দুই দেশের জনগণের মধ্যে গভীর সম্পর্ক এবং যৌথ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। ভারত ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের এই রাজনৈতিক পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছে।
পাকিস্তানের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন মন্ত্রী আহসান ইকবাল চৌধুরী এবং নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকায় অবস্থান করছেন। বিমানবন্দরে তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।
শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যম মন্ত্রী ড. নলিন্দা জয়তিসা কলম্বোর প্রতিনিধিত্ব করছেন।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। রাষ্ট্রপতি নবনিযুক্ত মন্ত্রীদের শপথ পাঠ করাবেন। বিদেশি মেহমানদের যাতায়াত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।
বিকেলের এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নয়, বরং বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার নেতাদের এই ঐক্যবদ্ধ উপস্থিতি নতুন সরকারের আগামী দিনের পথচলাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও সংহত করবে।
খবরটি শেয়ার করুন