রবিবার, ২৫শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** আজই ইরানে ফের হামলার ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প *** সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশের নিয়ম-কানুন পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর *** এইচএসসি-সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ ২৯ অক্টোবর *** টঙ্গীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ *** তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে উচ্চকক্ষ থেকে নিয়োগের প্রস্তাব *** সাঈদীর মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মানিকের লাশ দাফনে বাধা, গোপনে গার্ড অব অনার *** মৃত্যুর জন্য ইউএনওকে দায়ী করে এসি ল্যান্ডের ফেসবুক পোস্ট, পরিবারের দাবি মানসিক সমস্যা *** সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডে কূটনৈতিক যোগাযোগের ফাঁক উন্মোচিত, ঢাকার অজান্তেই আরও ২০ জনের পরিণতি অনিশ্চিত *** আসিফ আকবরের চালকের পেছনের আসন বরাবর গুলি করা হয় *** এমপির বক্তব্যে ইউএনওর হাততালি, সমালোচনার মুখে বললেন ‘ভাইরাল হতে চাই’

ইসরায়েলের নজরদারিতে বাংলাদেশ

দুই তালেবানের পর হামাস নেতাদের গোপনে ঢাকা সফর!

বিশেষ প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৫:৪৮ অপরাহ্ন, ২৩শে জুন ২০২৬

#

হামাস যোদ্ধা। ফাইল ছবি

ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের উগ্র তৎপরতা বাংলাদেশে বাড়ছে বলে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে অভিযোগ করছে ইসরায়েল। হামাসের দুই শীর্ষ নেতা পাকিস্তানের বিতর্কিত এক রাজনীতিকের সঙ্গে গোপনে ঢাকা সফর করে গেছেন বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাতে বলছে বিদেশি গণমাধ্যম ও গবেষণা সংস্থা। মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের আমলে দুই তালেবান নেতার গোপনে ঢাকা সফরের ঘটনা যখন দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, ঠিক সেই সময় সামনে এলো গোপনে হামাস নেতাদের বাংলাদেশ সফরের অভিযোগ।

ভারতীয় থিংক ট্যাংক উসানাস ফাউন্ডেশন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাতে এক প্রবন্ধে বলছে, ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর বাংলাদেশে আল মারকাজুল ইসলামী নামের একটি ইসলামপন্থি সংগঠনের আয়োজিত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে হামাস নেতা ড. খালেদ কাদ্দুমি ও খালেদ মাশআল এবং পাকিস্তানের জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মওলানা ফজলুর রহমান অংশ নেন। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল উগ্র ইসলামপন্থী মতাদর্শ প্রচার করা এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সন্ত্রাসী কার্যকলাপে অনুপ্রেরণা জোগানো। উসানাস ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে গত ১২ মে এ-সংক্রান্ত নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়।

‘হামাস বিয়ন্ড ওয়েস্ট এশিয়া: হোয়াই ইট ইজ গ্রোয়িং লিংক ইন পাকিস্তান অ্যান্ড বাংলাদেশ ম্যাটার ফর ইন্ডিয়া’ শিরোনামে উসানাস ফাউন্ডেশনের নিবন্ধের দাবি সম্পর্কে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কয়েক কর্মকর্তা সুখবর ডটকমকে বলেন, হামাস নেতাদের গোপনে ঢাকা সফর ও কথিত বৈঠক সম্পর্কে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়ত সম্মেলনে অংশ নেন পাকিস্তানি মওলানা ফজলুর রহমান। তার ঢাকা সফর নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন থাকলেও সেটি প্রকাশ্য সফর ছিল।

তারা বলছেন, আল মারকাজুল ইসলামী নামের সংগঠনের বিরুদ্ধে দেশে আগেও জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগ উঠেছিল। ২০২৫ সালে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের প্রভাবশালী কর্মকর্তা মোল্লা নূর আহমদ নূর ওরফে মোল্লা জাওয়ান্দির গোপনে সফরের সময় তার এক অনুষ্ঠানে খাবার সরবরাহ করে আল-মারকাজুল ইসলামী বা এএমআই। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি মাসুম বিল্লাহ গণমাধ্যমকে জানান, তারা ২০২৫ সালের ওই অনুষ্ঠানে ছয় শতাধিক প্যাকেট বিরিয়ানি সরবরাহ করেছিলেন। তবে তিনি সংগঠনের সঙ্গে কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সম্পর্ক থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এদিকে, ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত রেউভেন আজার অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হামাস-সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য কার্যক্রম চলছে। তার দাবি, এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে পর্যন্ত তথাকথিত ‘উগ্রবাদী প্রভাব’ বিস্তারের বিষয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আমরা পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হামাসের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ দাবি করেন। উসানাস ফাউন্ডেশনের নিবন্ধটি প্রকাশিত হওয়ার মাসখানেক পর ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত অভিযোগ করেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হামাস-সংশ্লিষ্ট তৎপরতায় মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে চরমপন্থি প্রভাব ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। 

জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত দৈনিক নয়া দিগন্ত গত ২০ জুন এক প্রতিবেদনে বলে, ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত আজারের বাংলাদেশ-সংক্রান্ত মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কূটনৈতিক ভাষায় এমন মন্তব্যকে সাধারণ কোনো বক্তব্য হিসেবে দেখার সুযোগ কম। কারণ আন্তর্জাতিক সম্পর্কে নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট বয়ান প্রায়ই রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তা বহন করে। বাংলাদেশ গত দুই দশকে জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ দমনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। ২০০৫ সালে জেএমবির দেশব্যাপী বোমা হামলা থেকে শুরু করে ২০১৬ সালের হলি আর্টিজান হামলার পর বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে উগ্রবাদী নেটওয়ার্কগুলোকে দুর্বল করেছে। 

নয়া দিগন্তের মতে, এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সরাসরি নয়, কিন্তু পরোক্ষভাবে নিরাপত্তা উদ্বেগ উত্থাপন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি বিশেষ ধরনের বয়ান তৈরি করতে পারে। ইতিহাস বলে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কোনো রাষ্ট্রকে “নিরাপত্তা ঝুঁকি” বা “উগ্রপন্থার সম্ভাব্য ক্ষেত্র” হিসেবে চিত্রিত করা হলে তা ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন মনে করলেও বাংলাদেশের জনগণ হামাসকে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হিসেবে দেখে। ফিলিস্তিন প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থান বরাবরই সুস্পষ্ট। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং এখনো ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ইরানের সংবাদ সংস্থা ইরান প্রেসের মতে, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে হামাসের উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয়তা রয়েছে।

এদিকে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের প্রভাবশালী কর্মকর্তা মোল্লা নূর আহমদ নূর ওরফে মোল্লা জাওয়ান্দির নীরবে ঢাকা সফর এবং আরেক আফগান জঙ্গি নিয়ামাতুল্লাহ মাঙ্গালের রহস্যজনকভাবে  বাংলাদেশে অবস্থান করা নিরাপত্তা মহলে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, কূটনৈতিক ও গোয়েন্দা সূত্র বলছে, দুই আফগান নাগরিকের সফর ঘিরে তৈরি হওয়া অনেক প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।

মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সাবেক সরকারের আমলে তালেবান সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফার্স্ট পলিটিক্যাল ডিভিশনের মহাপরিচালক মোল্লা জাওয়ান্দি ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর রাতে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশ-আফগানিস্তান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান আবু সায়েম খালেদ। এ সফর সম্পর্কে পুলিশ, সিটিটিসি, গোয়েন্দা সংস্থা এমনকি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছেও কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য ছিল না।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকাস্থ আফগান দূতাবাসও সফর সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দিতে পারছে না। অথচ বেশ কয়েকদিন মোল্লা জাওয়ান্দি ঢাকা ও আশপাশে অবস্থান করেন, বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসা সফর করেন এবং ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বিতর্কিত তালেবান সরকারের এশিয়াবিষয়ক নীতিনির্ধারণে প্রভাবশালী কর্মকর্তা জাওয়ান্দির সফর নিয়ে নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ বেড়েছে। তিনি নারায়ণগঞ্জের জামিয়া কারামিয়া, রাজধানীর ফরিদাবাদ মাদ্রাসা ও মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা সফর করেন। পাশাপাশি খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকসহ কয়েক রাজনীতিকের সঙ্গে বৈঠক করেন।

২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় মামুনুল হকের সঙ্গে অনুষ্ঠিত তার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বেফাকের তৎকালীন মহাসচিব মাহফুজুল হক। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, বৈঠকটি পূর্বনির্ধারিত ছিল না, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি। মামুনুল হকের আফগানিস্তান সংযোগ নিয়েও আলোচনা রয়েছে। ড. ইউনূস সরকারের সময় তিনি আরও ছয় আলেমকে নিয়ে আফগানিস্তান সফর করেন। দেশে ফিরে জানান, তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং এ বিষয়ে সহযোগিতা চান তার কাছে।

মোল্লা জাওয়ান্দির সফরের বিতর্কিত আরেকটি দিক হলো তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ব্যক্তিদের পরিচয়। তার সঙ্গে হুজি-সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে দেখা গেছে। সফরের অন্যতম আয়োজক হিসেবে আলোচনায় থাকা আবু সায়েম খালেদের বিরুদ্ধেও হুজির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে, যদিও তিনি তা অস্বীকার করেন। আবু সায়েম খালেদের দাবি, মোল্লা জাওয়ান্দি তার মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন, তবে তিনি তাকে আমন্ত্রণ জানাননি। তার ভাষায়, মোল্লা জাওয়ান্দি ছিলেন “সরকারের মেহমান”। তবে কোন সরকারের, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি। অনেকের দাবি, আবু সায়েম খালেদ বর্তমানে হুজির নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার আমির।

সেই সময় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএসিসিআই আয়োজিত ‘ব্লুপ্রিন্ট অব দ্য ইসলামিক এমিরেট’ শীর্ষক সমাবেশ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সমাবেশে মোল্লা জাওয়ান্দির উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি আসেননি। আয়োজকদের দাবি, এটি ছিল ব্যবসায়িক অনুষ্ঠান। যদিও সেখানে ব্যবসায়ীদের চেয়ে হুজি-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকা ব্যক্তিদের উপস্থিতিই বেশি ছিল। সমাবেশে প্রায় ৬৫০ জন অংশ নেন। তাদের মধ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তিও ছিলেন। সেখানে হুজির সাবেক আমির রহমতুল্লাহ ওরফে শেখ ফরিদের পরিবারের সদস্যদেরও দেখা যায়।

র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, শেখ ফরিদ একসময় হুজির আমির ছিলেন এবং তিনি আফগানফেরত মুজাহিদ। তার সঙ্গে আফগান ও আন্তর্জাতিক জিহাদি নেটওয়ার্কের যোগাযোগ ছিল। তার ৯ ভাইয়ের মধ্যে ৮ জনই হুজির সঙ্গে জড়িত। সমাবেশে খাবার সরবরাহ করে আল-মারকাজুল ইসলামী। মোল্লা জাওয়ান্দির সফর আলোচনায় থাকতেই সামনে আসে আরেক আফগান নাগরিক নিয়ামাতুল্লাহ মাঙ্গালের ঘটনা। নথি অনুযায়ী, আফগানিস্তানের পাকতিয়া প্রদেশের বাসিন্দা নিয়ামাতুল্লাহ ২০২৫ সালে ভারত থেকে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। তার পাসপোর্টের মেয়াদ আগেই শেষ হয়েছিল। কীভাবে তিনি সীমান্ত পার হন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বাংলাদেশে এসে তিনি একটি কওমি মাদ্রাসায় প্রায় এক মাস অবস্থান করেন। পরে দুবাই হয়ে আফগানিস্তানে চলে যান। তার চলে যাওয়ার পর গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানতে পারে, অবস্থানকালে তিনি তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপির বাংলাদেশ শাখার প্রধান ইমরান হায়দারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং দেশের কয়েক শিক্ষার্থীর সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দেন।

নিয়ামাতুল্লাহকে আশ্রয় দেওয়া মাদ্রাসার পরিচালক অতীতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। র্যাবের অভিযোগ ছিল, তিনি ওয়াজ মাহফিলকে ব্যবহার করে উগ্রবাদী মতাদর্শ প্রচার করতেন। নিয়ামাতুল্লাহকে মাদ্রাসায় নিয়ে আসা খণ্ডকালীন শিক্ষকও অতীতে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় কারাবন্দী ছিলেন। বর্তমানে তিনি প্রকাশনা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তার প্রকাশনা থেকে জিহাদবিষয়ক একাধিক বই প্রকাশিত হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে আফগান মুজাহিদদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিতও পাওয়া যায়।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মোল্লা জাওয়ান্দি ও নিয়ামাতুল্লাহ মাঙ্গালের ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। একজন তালেবান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা, অন্যজন দীর্ঘদিন পাকিস্তানে অবস্থানকারী আফগান সন্ত্রাসী। দুজনেরই যোগাযোগ আছে দেশের কয়েকটি মাদ্রাসা, ধর্মীয় নেতা ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের সঙ্গে।

তবে এখনো মোল্লা জাওয়ান্দির সফরের প্রকৃত উদ্দেশ্য, তার বৈঠকের বিষয়বস্তু এবং নিয়ামাতুল্লাহ মাঙ্গালের বাংলাদেশে প্রবেশ ও অবস্থানের পেছনের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এসব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত না হলে দেশে গোপনে উগ্রবাদী নেটওয়ার্ক পুনর্গঠনের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই তালেবানের দুই প্রতিনিধির বাংলাদেশ অধ্যায় এখন শুধু কূটনৈতিক নয়, জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হিসেবেও সামনে এসেছে।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জঙ্গিবাদের বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত শত শত ব্যক্তি জামিনে মুক্তি পান। কারা কর্তৃপক্ষের হিসাবে এ সংখ্যা তিন শতাধিক। তাদের মধ্যে সন্দেহভাজন, বিচারাধীন এমনকি যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিও রয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, জামিনপ্রাপ্তদের মধ্যে যেমন নিরপরাধ ব্যক্তি থাকতে পারেন, তেমনি উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িতরাও পরিস্থিতির সুযোগ নেন। ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের জঙ্গি তৎপরতার স্মৃতি এখনো নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মনে রয়েছে। তাদের মতে, তালেবান-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সফর, বিতর্কিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং মাদ্রাসাকেন্দ্রিক কিছু নেটওয়ার্কের সক্রিয়তা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। এসব কারণে দেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক পুনর্গঠনের আশঙ্কা বাড়ছে।

হামাস

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250