রবিবার, ২৯শে মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ–খালেদ ‘আওয়ামী লীগের দোসর ও দুষ্কৃতকারী’: চিফ প্রসিকিউটরল *** মামুন খালেদ ও মাসুদ উদ্দিনকে ৭ এপ্রিল হাজিরের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের *** ১০ বছরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে বাংলাদেশ থেকে ৬ হাজার ৮৩০ কোটি ডলার পাচার *** ‘বিশ্বের ইন্টারনেট ব্যবস্থা অকেজো করে দিতে পারে ইরান’ *** সৌদির বাদশাকে নিয়ে ট্রাম্পের ‘অশালীন শব্দ’ ব্যবহার *** ভূমধ্যসাগরে ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যু, ১০ জনই সুনামগঞ্জের *** ইসরায়েলে দ্বিতীয় দফায় হামলার খবর নিশ্চিত করলেন হুতিরা *** প্রকাশ্যে আইসক্রিম বিক্রেতার শিরশ্ছেদ, মুণ্ডু বাড়িতে নিয়ে গেলেন খুনি *** ‘রাজনৈতিক বিবেচনায়’ রাষ্ট্রদূত নিয়োগে বিরতি, লামিয়া-নিয়াজ-সেলিমের প্রক্রিয়া স্থগিত *** নরসিংদীর গ্রামীণ সৌন্দর্যে মুগ্ধ বিদেশি পর্যটকেরা

ভূমধ্যসাগরে ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যু, ১০ জনই সুনামগঞ্জের

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০২:২৮ অপরাহ্ন, ২৯শে মার্চ ২০২৬

#

ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

নৌকায় চড়ে ইউরোপের উদ্দেশে সাগর পাড়ি দিতে চেয়েছিলেন তারা। কিন্তু সেই স্বপ্ন সত্যি হলো না। লিবিয়ার ‘গেম ঘর’ থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ১০ জনই সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এই প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার পর সরকারের কাছে ১৮ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর তথ্য আসে। এছাড়া বেশ কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করে গ্রিসের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।

বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য থেকে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে ১০ জনই সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে পাঁচ জন জগন্নাথপুর উপজেলার, চার জন দিরাই উপজেলার এবং একজন দোয়ারাবাজার উপজেলার।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাব, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং দীর্ঘ সময় সমুদ্রে ভেসে থেকে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

সুনামগঞ্জের ডিসি মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া মুঠোফোনে সুখবর ডটকমকে বলেন, ‘যেহেতু তারা বৈধ পথে যাননি, তাই সরকারিভাবে আগে থেকে কোনো তথ্য ছিল না। তবে আমরা স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে খুঁজে বের করে তথ্য সংগ্রহ করতে, যাতে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে জীবিত উদ্ধার হওয়া একজন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানান, একটি ছোট নৌকায় তারা ৪৩ জন ছিলেন, যার মধ্যে ৩৮ জনই ছিলেন বাংলাদেশি। তাদের একটি বড় নৌকায় পাঠানোর কথা বলে শেষ মুহূর্তে ছোট নৌকায় তুলে দেয় পাচারকারীরা। যাত্রাপথে তাদের কোনো জিপিএস বা যোগাযোগের ডিভাইস দেওয়া হয়নি।

সেই অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, দীর্ঘ সময় সমুদ্রে ভাসতে থাকায় অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে মৃতদের লাশ সাগরে ছুড়ে ফেলা হয়। পাচারকারী চক্রের অনেকের বাড়ি সিলেটে বলেও তিনি দাবি করেন।

প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক জানান, বাংলাদেশ মিশন ইতিমধ্যে গ্রিসের কোস্টগার্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সহযোগিতা এবং নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার উপায় খোঁজা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘মানুষের জীবনকে টাকা বা সম্পদের সঙ্গে তুলনা করা যায় না। মানুষ যখন স্বেচ্ছায় অবৈধ পথে যায়, সেখানে সরকারের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।’

উল্লেখ্য, গত ২১ মার্চ লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় বন্দরনগরী তবরুক থেকে নৌকাটি গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। তবরুকসহ লিবিয়ার বিভিন্ন ‘গেম ঘরে’ এখনো অনেক বাংলাদেশি আটক থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইতালি বা গ্রিসে যাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রাকে দালালেরা ‘গেম’ বলে। লিবিয়ার যেসব জায়গায় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আটকে রাখা হয় এবং পরে নৌকায় তোলা হয় সেই জায়গাগুলোকে দালাল ও অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ‘গেম ঘর’ বলে।

জে.এস/

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250