শনিবার, ১৭ই অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১লা কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের সময় বাংলাদেশের ওয়াকআউট *** হামের উপসর্গে আরও ৪ মৃত্যু, মোট ১১৮১ *** দুর্গাপূজার আগে প্রতিমা ভাঙচুর ও মন্দিরে হামলার ৩৪ ঘটনা: পূজা উদযাপন পরিষদ *** জাপানকে টপকে বিশ্বের চতুর্থ বৃহৎ অর্থনীতির পথে ভারত *** দুর্গাপূজায় প্রথমবারের মতো বিআরটিসির বিশেষ বাস সার্ভিস, চালু ২০ অক্টোবর *** সৌদির বিমানবন্দরে বিধিনিষেধ: ১০৩ ফ্লাইটে প্রভাব, ভোগান্তিতে ১৫৭৭৯ যাত্রী *** পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে শিক্ষার্থী-শিক্ষকসহ নিহত ২৮ *** বকেয়া দাবিতে গাজীপুরে মহাসড়ক অবরোধ, সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে সরানো হলো শ্রমিকদের *** চার ঘণ্টা পর সড়ক ছাড়লেন উত্তরার পোশাকশ্রমিকেরা *** ব্রিকসের পর বিমসটেকেও বাংলাদেশের ‘যথোপযুক্ত প্রতিনিধি’ না থাকা নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন জয়সওয়াল

সিনেমার শুটিংয়ে বিশাল আর্থিক প্রণোদনার ঘোষণা সৌদি আরবের

বিনোদন ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, ১৭ই মে ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে বিশাল আর্থিক প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। কান চলচ্চিত্র উৎসবে সৌদি ফিল্ম কমিশন ঘোষণা করেছে, তাদের দেশে চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের ক্ষেত্রে নগদ অর্থ ফেরত বা ক্যাশ রিবেটের পরিমাণ ৪০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় অন্যতম সর্বোচ্চ আর্থিক ইনসেনটিভ।

ফিল্ম রিবেট বা ক্যাশ রিবেট হলো চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য একধরনের ক্যাশব্যাক বা নগদ অর্থ ফেরত পাওয়ার অফার। বিভিন্ন দেশ তাদের অর্থনীতি, পর্যটন এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে সেখানে শুটিং করার জন্য প্রযোজনা সংস্থাকে এই বিশেষ আর্থিক সুবিধা দিয়ে থাকে। এতে একদিকে যেমন স্থানীয় ব্যবসা চাঙা হয়, তেমনি সিনেমার সেট তৈরি, মেকআপ, সিকিউরিটি, ট্রান্সপোর্টসহ বিভিন্ন খাতে শত শত স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়। অন্যদিকে, সিনেমার পর্দায় ওই লোকেশন দেখে সেখানে ঘুরতে যাওয়ার জন্য আগ্রহী হন দর্শকেরা। ফলে দেশটির পর্যটন খাত সমৃদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

ধরা যাক, হলিউডের কোনো বড় স্টুডিও সৌদি আরবে গিয়ে একটি সিনেমার শুটিং করার সিদ্ধান্ত নিল। সেখানে শুটিং করতে গিয়ে তারা স্থানীয় হোটেল বুকিং, যাতায়াত, সেট নির্মাণ, স্থানীয় ক্রু ও জুনিয়র আর্টিস্টদের বেতন এবং অন্যান্য খাতে মোট ১০ মিলিয়ন ডলার খরচ করল। যেহেতু সৌদি আরবের বর্তমান ফিল্ম রিবেট ৬০ শতাংশ, তাই শুটিং শেষ হওয়ার পর সব খরচের বৈধ রসিদ জমা দিলে সৌদি সরকার ওই প্রোডাকশন কোম্পানিকে তাদের মোট খরচের ৬০ শতাংশ অর্থাৎ ৬ মিলিয়ন ডলার নগদ ফেরত দিয়ে দেবে।

চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম বড় এই আর্থিক ছাড়ের মাধ্যমে সৌদি আরব মূলত বিশ্বের বড় বড় প্রযোজনা সংস্থাকে নিজেদের দেশে টানার উদ্যোগ নিয়েছে। কেবল ইনসেনটিভের পরিমাণ বাড়ানোই নয়, বরং প্রযোজনা সংস্থাগুলোর কাজের সুবিধার্থে ক্যাশ ফ্লো বা অর্থ ছাড়ের গতি ত্বরান্বিত করার জন্য একটি নতুন ও আধুনিক পদ্ধতি চালু করেছে সৌদি ফিল্ম কমিশন। এর ফলে নির্মাতারা খুব দ্রুত ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ছাড়াই তাদের রিবেটের টাকা ফেরত পাবেন।

সৌদি ফিল্ম কমিশনের সিইও আবদুল্লাহ বিন নাসের আল-কাহতানি বলেন, ‘এই ঘোষণাটি মূলত অংশীদারত্ব এবং ক্ষমতায়নের ওপর ভিত্তি করে একটি টেকসই চলচ্চিত্র খাত গড়ে তোলার জন্য আমাদের দূরদর্শী পরিকল্পনারই একটি অংশ। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে আমরা এমন একটি সমন্বিত ইকোসিস্টেম তৈরি করতে চাই, যেখানে বিশ্বমানের নির্মাতারা শতভাগ আত্মবিশ্বাস নিয়ে সৌদি আরবে কাজ করতে পারবেন।’

সৌদি আরবের আল-উলার মতো ইউনেসকো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট, ধু ধু মরুভূমি ও প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো ইতিমধ্যেই হলিউডের পরিচালকদের আকৃষ্ট করেছে। এর আগে জেরার্ড বাটলারের অ্যাকশন থ্রিলার সিনেমা ‘কান্দাহার’-এর মতো বড় প্রজেক্টের শুটিং হয়েছে সৌদিতে। ৬০ শতাংশ রিবেট পাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় এখন থেকে বড় স্টুডিওগুলো তাদের বিগ-বাজেট সিনেমার শুটিংয়ের জন্য সৌদিকে অগ্রাধিকার দেবে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকেরা।

জে.এস/

কান চলচ্চিত্র উৎসব

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250