ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী—এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রচারিত হচ্ছে। তবে ইশরাকের প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তা দাবি করেছেন পদত্যাগের খবর অসত্য, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যদিও সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনও (বিটিভি) প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের খবর প্রচার করেছে।
বিভিন্ন মাধ্যমে সংবাদটি প্রকাশের পর আজ রোববার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে মাহফুজ কবির মুক্তা বলেন, ইশরাক হোসেনের ‘পদত্যাগ’ বা ‘তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে’ মর্মে যে সংবাদটি প্রচারিত হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রকৃত সত্য এই যে, প্রতিমন্ত্রী তার সরকারি ও রাজনৈতিক দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে পালন করে যাচ্ছেন। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাকে পদত্যাগের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি এবং তার পদত্যাগের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। একটি মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল এবং জনসাধারণের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে এই ধরনের কাল্পনিক ও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গতকাল শনিবার নিজ সংসদীয় আসনে মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কেবল আত্মরক্ষার্থে আইনসম্মতভাবে অস্ত্র প্রদর্শনের যে ঘটনাটি ঘটেছিল, তা নিয়ে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ইতিপূর্বেই তার অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার পদত্যাগ সংক্রান্ত যে কোনো খবর ছড়ানো সম্পূর্ণ বেআইনি ও সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী। আমরা সংশ্লিষ্ট সকল গণমাধ্যম ও দেশবাসীকে এই ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
একই সাথে, যে সকল মাধ্যম এই বিভ্রান্তিকর খবর প্রকাশ করেছে, তাদের অবিলম্বে তা প্রত্যাহার করে সঠিক তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায়, অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, মন্ত্রিসভা বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে আজ সন্ধ্যার পরে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের মাদক উদ্ধার অভিযান-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড নিয়ে মন্ত্রিসভায় কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এ সম্বন্ধে আমার কোনো মন্তব্য নেই। কেবিনেটে এ সম্বন্ধে কোনো আলোচনা হয়নি।’
সরকার বিষয়টি আমলে নিয়েছে কিনা বা কোনো তদন্ত করছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ সম্বন্ধে আর কোনো মন্তব্য করব না।’
এর আগে, গতকাল বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালান ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমেই আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে তিনি চিৎকার করে বলছেন, ‘এই ধর ধর ধর...।’ তার পাশ থেকে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’ এ সময় তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা কয়েকজনকে ধরতে এগিয়ে যান। তাদের একজনকে এক তরুণকে লাথি মারতেও দেখা যায়।
ভিডিওর কিছু অংশে ইশরাকের হাতে থাকা পিস্তল অস্পষ্ট করা হলেও অন্য অংশে অস্ত্রটি স্পষ্ট দেখা যায়। তার সঙ্গে থাকা আরও দুই ব্যক্তির হাতেও আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। আরেকটি ভিডিওতে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে তুলে দিতে দেখা যায়।
ইশরাকের ফেসবুক পেজে ভিডিওটির শিরোনাম দেওয়া হয়, ‘ইশরাকের অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ’। ভিডিওতে দেখা যায়, রেললাইনের পাশে অবস্থান করা কয়েকজনকে ধরতে এগিয়ে যাচ্ছেন তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা। এ সময় এক যুবককে বলতে শোনা যায়, ‘স্যার, আমি কিছু করিনি। আমি গরিব মানুষ, স্যার।’ জবাবে ইশরাক বলেন, ‘পুলিশ আসবে তারপর কথা হবে।’
ঘটনাস্থলে ইশরাকের ব্যক্তিগতভাবে নিয়োগ দেওয়া দুই দেহরক্ষীর পাশাপাশি একজন সরকারি দেহরক্ষীও ছিলেন। ব্যক্তিগত দেহরক্ষীদের কাছেও অস্ত্র ছিল। সরকারি দেহরক্ষীকে অস্ত্র তাক করতেও দেখা যায়।
ইশরাকের ভাষ্য, ওই এলাকায় গুলির ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গিয়েছিলেন। তার দাবি, রেললাইনের পাশের খালি জায়গায় অস্থায়ী ঘর তৈরি করে মাদক কেনাবেচা করা হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে এসব আস্তানা সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পর মাদকসেবী ও কারবারিদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের সময় পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা অস্থায়ী ঝুপড়িঘরগুলো ভেঙে দেন। সেখান থেকে মাদক কারবারে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারের কথা জানানো হয়। এ সময় বস্তির বাসিন্দারা সেখানে জড়ো হন। ভিডিওতে ছয়জনকে মাটিতে বসিয়ে রাখতে এবং তাদের দুজনকে মারধর করতে দেখা যায়।
অভিযানকালে এলাকাবাসীর উদ্দেশে ইশরাক বলেন, ‘এলাকায় যারা মাদক বিক্রি করে, তাদের স্থান আমার এই ঢাকা-৬ আসনে নাই। স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে সরকার পতন করেছি। আর এই মাদক কারবারিদের কোনো টাইম আছে? এই এলাকায় যত বড় মাদক কারবারি হোক না কেন, তারা যে দলেরই হোক না কেন, যদি আমার দলের হয়, তাহলে তাদের শাস্তি আরও বড় হবে।’
এদিকে, অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন। আজ দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান।
খবরটি শেয়ার করুন