ছবি: সংগৃহীত
না ফেরার দেশে চলে গেছেন একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী অঞ্জনা রহমান।
শুক্রবার (৩রা জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টা ১০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন অভিনেত্রী। তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন তথা এফডিসিতে।
অভিনেত্রীকে ঢাকার বনানী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে। শনিবার বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন অভিনেত্রীর ছেলে নিশাত রহমান মনি।
এর আগে, বেলা সাড়ে ১১টায় অঞ্জনার মরদেহ নেওয়া হয় প্রিয় কর্মস্থল বিএফডিসিতে। শেষবারের মতো এই চিত্রনায়িকাকে দেখতে ছুটে আসেন তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী, ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। জোহরের নামাজের পর প্রথম জানাজা শেষে অভিনেত্রীর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
বিগত কয়েকদিন ধরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে ছিলেন অঞ্জনা রহমান। এর আগে ২৪শে ডিসেম্বর নায়িকা অঞ্জনাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন তার জ্বর ছিল।
অঞ্জনা রহমান তার ক্যারিয়ারে ৩ শতাধিক চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। ১৯৮১ সালে ‘গাংচিল’ এবং ১৯৮৬ সালে ‘পরিণীতা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য দুইবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।
এছাড়া মোহনা (১৯৮৩), পরিণীতা (১৯৮৬) এবং রাম রহিম জন (১৯৮৯) চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বিভাগে তিনবার বাচসাস পুরস্কার লাভ করেন।
চলচ্চিত্র জগতে আসার আগে তিনি একজন নামী নৃত্যশিল্পী ছিলেন। অঞ্জনার অভিনয় জীবন শুরু হয় ১৯৭৬ সালে বাবুল চৌধুরী পরিচালিত ‘সেতু’ চলচ্চিত্র দিয়ে। তবে তার মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম চলচ্চিত্র শামসুদ্দিন টগর পরিচালিত ‘দস্যু বনহুর’ (১৯৭৬)। রহস্য ভিত্তিক এই ছবিতে তার বিপরীতে ছিলেন সোহেল রানা।
১৯৭৮ সালে তিনি আজিজুর রহমান পরিচালিত ‘অশিক্ষিত’ চলচ্চিত্রে নায়ক রাজ রাজ্জাকের বিপরীতে লাইলি চরিত্রে অভিনয় করেন। রাজ্জাকের বিপরীতে তিনি ৩০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
ক্যারিয়ারের শুরুতে অঞ্জনার নাম ছিল অঞ্জনা সাহা। বিয়ের কারণে নিজের ধর্ম পরিবর্তন করেছিলেন এই চিত্রনায়িকা। হয়েছিলেন মুসলিম, নিয়মিত নামাজ-রোজা পড়তেন এই চিত্রনায়িকা। অঞ্জনা বিয়ে করেন পরিচালক আজিজুর রহমান বুলিকে। নাম পরিবর্তন করে রেখেছিলেন অঞ্জনা রহমান। অবশ্য পরে তাদের বিচ্ছেদও হয়ে যায়।
ওআ/কেবি