শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** সমুদ্রের উচ্চতার সঙ্গে সংকল্প আরও দৃঢ় হোক, পদক্ষেপ তার চেয়ে দ্রুত: বিশ্বনেতাদের তারেক রহমান *** নিউইয়র্কে তারেক রহমান, সেখানেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বৈঠক *** এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের দ্রুততম মানব *** রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল ৫ দিনের রিমান্ডে *** জাতিসংঘে খলিলুরের কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হলেন জাইমা রহমান *** বিশ্বের বৃহত্তম মুক্তবাণিজ্য জোটে যুক্ত হওয়ার পথে বাংলাদেশ *** ৯৮ কমিটি থেকে ‘আওয়ামীপন্থীদের’ বাদ দেওয়ার নির্দেশ, কী বদল আসছে সরকারি কমিটিতে *** মূল আসামিকে আড়াল করায় স্বজনদের ক্ষোভ, জানেন না আপসের বিষয়ও *** জাতিসংঘে শুক্রবার ভোররাত ৩টায় বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী *** বিকাশ, রবিসহ চার প্রতিষ্ঠান পেল ডিজিটাল ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন

বাদ পড়া ৯১ লাখ ভোটার কি বাংলাদেশের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি?

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, ১৬ই মে ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক, যার প্রভাব শুধু রাজ্যটির রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এ উদ্যোগকে ‘অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ শনাক্তের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছিল।

অন্যদিকে বিরোধীরা অভিযোগ তোলে, এটি পরিকল্পিতভাবে ভোটাধিকার সংকোচনের কৌশল। বিপুলসংখ্যক মুসলমান ভোটার বাদ পড়ায় নির্বাচনের ফলাফলেও এর প্রভাব দেখা গেছে। বহু আসনে ভোটার তালিকার পরিবর্তন রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। তবে এখন আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে আরেকটি প্রশ্ন—এই বিতর্ক কি পশ্চিমবঙ্গের সীমানা ছাড়িয়ে বাংলাদেশের জন্যও নতুন নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ হতে পারে?

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন শুধু সরকার পরিবর্তনের বিষয় নয়; বরং এটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ও কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিতও বহন করে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় অন্তত ৯১ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়ার ঘটনা—যা মোট ভোটারের প্রায় ১২ শতাংশ—ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, মৃত ও অনুপস্থিত ভোটারদের সরানো হয়েছে। তবে তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মুসলিম অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ, উত্তর চব্বিশ পরগনা ও মালদার মতো এলাকায় বাদ পড়ার হার ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। শুধু মুর্শিদাবাদ জেলাতেই সাড়ে চার লাখের বেশি ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।

এই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ভাষ্যও ছিল তীব্র। বিজেপি একে ভোটার তালিকা পরিশোধনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এটি নির্বাচনী কৌশলের অংশ, যার লক্ষ্য নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ভোটের প্রভাব কমিয়ে আনা। তৃণমূলের দাবি, ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ শব্দবন্ধ মূলত মুসলিম ভোটারদের বোঝাতেই ব্যবহার করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে কিছু বিজেপি নেতার বক্তব্য বিশেষভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাদের মতে, যখন বিপুলসংখ্যক মানুষ ভোটাধিকার হারায়, তাদের ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং সেই রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে নির্বাচনী সাফল্য আসে—তখন তা বাংলাদেশের জন্য নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে।

এ বিষয়ে ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (এফএসডিএস)-এর চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর বলেন, “পশ্চিমবঙ্গেও সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিজেপি। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সংযুক্ত সীমান্তের বড় অংশই এখন বিজেপির নিয়ন্ত্রণে। তাদের রাজনৈতিক বক্তব্যে প্রায়ই কথিত অবৈধ বাংলাদেশি মুসলিম ভোটার ও পুশ-ইন প্রসঙ্গ উঠে আসে। ফলে বাংলাদেশকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। তারা যদি এ ইস্যু জোরালোভাবে অনুসরণ করে, তাহলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। তবে ইতিবাচক দিক হলো ভারত বলে আসছে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক চায়, সুসম্পর্ক চায়। ফলে এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়গুলোতেও আলোচনার মাধ্যমে টেকসই সমঝোতায় পৌঁছা দরকার।”

তিনি আরও বলেন, “৯১ লাখ ভোটার বাদ পড়া কোনো ছোট সংখ্যা নয়, বিষয়টি সহজও নয়। মোটা দাগে সদ্য বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঠেকাতে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়েছে। এর মানে এই নয় যে সবাইকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হবে। বাস্তবে তা সম্ভবও নয়। তবে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।”

নির্বাচনী ফলাফলের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রভাব সরাসরি ভোটের ফলেও পড়েছে। যেসব এলাকায় বেশি ভোটার বাদ পড়েছে, সেখানে ফলাফলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত অবস্থান ছিল এমন বহু এলাকায় বিজেপি এবার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।

এমনকি কমসংখ্যক ভোটার বাদ পড়া এলাকাগুলোতেও বিজেপির আসন তিন গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, এসআইআর কেবল নির্দিষ্ট অঞ্চলের নয়, সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রবণতার ওপরও প্রভাব ফেলেছে।

ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের ঘিরে ভবিষ্যতে যদি আসামের ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস (এনআরসি)-এর মতো কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে তা বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে বলে মনে করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির।

তিনি বলেন, “এ মুহূর্তে বড় ধরনের ঝুঁকি দেখা যাচ্ছে না। কারণ যাদের নাম বাদ পড়েছে, তাদের আপিলের সুযোগ রয়েছে। অনেকে ইতোমধ্যে তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছেন। তাই এখনই বড় উদ্বেগের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে যদি নতুন সরকার পশ্চিমবঙ্গে এনআরসির মতো কোনো পদক্ষেপ নেয়, তখন পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।”

আরও বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগ সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। তবে সেটি বাস্তবায়ন করাও সহজ হবে না। কারণ এবারও তৃণমূল প্রায় ৪১ শতাংশ ভোট পেয়েছে, আর বিজেপির ভোট প্রায় ৪৬ শতাংশ। ব্যবধান খুব বেশি নয়। এমন পরিস্থিতিতে কঠোর নাগরিকত্ব যাচাই সংঘাতের কারণ হতে পারে। তখন তা বাংলাদেশের জন্যও উদ্বেগ বাড়াবে।”

এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় বাংলাদেশ প্রসঙ্গও গুরুত্ব পেয়েছে। বিজেপির প্রচারণায় অনুপ্রবেশ ও নিরাপত্তা বিষয়টি বড় ইস্যু হয়ে ওঠে এবং একাধিকবার মুসলিমবিরোধী বক্তব্যও সামনে আসে। নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। ভোটের দিন ভবানীপুর কেন্দ্রকে ঘিরে তিনি ‘বাংলাদেশি রোহিঙ্গা’ ও ‘বাংলাভাষী’দের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, পুরো প্রচারণাজুড়ে এমন একটি ধারণা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে যে পশ্চিমবঙ্গে বিপুলসংখ্যক ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ ও ‘রোহিঙ্গা’ রয়েছে, যাদের সরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী নির্বাচনের আগে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা ও সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের কথাও বলেছিলেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীও বিভিন্ন নির্বাচনী বক্তব্যে ‘ঘুসপেটিয়া’ বা অনুপ্রবেশকারীদের প্রসঙ্গ সামনে আনেন। তার দাবি ছিল, অবৈধ অনুপ্রবেশ পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যার ভারসাম্যে প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি বিজেপির আরেক শীর্ষ নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে অবৈধ মুসলিম অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও বলেছেন। এসব বক্তব্যের কারণে অভিবাসন ও নাগরিকত্ব প্রশ্ন নির্বাচনী বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ভৌগোলিক বাস্তবতাও বিষয়টিকে সংবেদনশীল করে তুলছে। ভবিষ্যতে নাগরিকত্ব যাচাই কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হলে সীমান্তে চাপ তৈরির আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। রাজনৈতিক বক্তব্য, জনমনে তৈরি হওয়া আশঙ্কা এবং সীমান্ত বাস্তবতা মিলিয়ে একটি চাপের পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

কেজ বিজনেস স্কুল এবং জিওপলিটিকস স্ট্র্যাটেজি ল্যাব (ফ্রান্স)-এর প্রধান অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ এম জসীমউদ্দীন বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন সীমান্ত এলাকায় নতুন ধরনের উত্তেজনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধন ও কথিত অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ইস্যু সামনে আসায় সীমান্তে চাপ বা পুশ-ইনের সম্ভাবনা আগের তুলনায় বাড়তে পারে। এতে দুই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশকে অত্যন্ত কৌশলী অবস্থান নিতে হবে। সীমান্ত নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি কূটনৈতিক পর্যায়ে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা জরুরি। ছোট পরিসরে পুশ-ইনের কিছু ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করা যায় না, যদিও বড় আকারে এমন কিছু বাস্তবসম্মত নয়।”

তবে তিনি সম্ভাবনার আরেকটি দিকও তুলে ধরেন। তার মতে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘদিন আটকে থাকা তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, “আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থানকে বড় বাধা হিসেবে দেখা হতো। এখন বিজেপি ক্ষমতায় আসায় কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে, যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকে।”

এদিকে ভারত থেকে বাংলাদেশে সম্ভাব্য পুশ-ইনের আশঙ্কা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, “যখন আসামের মুখ্যমন্ত্রী এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছিলেন, তখন আমরা তার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছি। প্রয়োজন হলে এ ধরনের বিষয়ে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব।”

বাদ পড়া ৯১ লাখ ভোটার

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

সমুদ্রের উচ্চতার সঙ্গে সংকল্প আরও দৃঢ় হোক, পদক্ষেপ তার চেয়ে দ্রুত: বিশ্বনেতাদের তারেক রহমান

🕒 প্রকাশ: ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন, ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিউইয়র্কে তারেক রহমান, সেখানেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বৈঠক

🕒 প্রকাশ: ০২:৩২ পূর্বাহ্ন, ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের দ্রুততম মানব

🕒 প্রকাশ: ১০:২১ অপরাহ্ন, ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল ৫ দিনের রিমান্ডে

🕒 প্রকাশ: ১০:০৮ অপরাহ্ন, ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘে খলিলুরের কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হলেন জাইমা রহমান

🕒 প্রকাশ: ১০:০৩ অপরাহ্ন, ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250