রবিবার, ৩০শে আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ভারত কি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্যের পথে? *** সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিনকে দুদকে তলব *** গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের আগে বাংলাদেশের প্রয়োজন নির্ধারণের তাগিদ *** ঢাকার মূলসড়কে চলতে দেওয়া হবে না ব্যাটারিচালিত রিকশা *** গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে: রাষ্ট্রপতি *** হামের উপসর্গে আরও ৪ মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ৯৬৭ *** সমুদ্রে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরগুলোতে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত *** ঢাকার মূল সড়কে চলবে না ব্যাটারিচালিত রিকশা, নীতিমালা হচ্ছে: শাহে আলম *** মুসলিম বিশ্বের ‘প্রকৃত শত্রু’ ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা বুঝে মোকাবিলা করুন: মোজতবা খামেনি *** দুর্যোগ-পরবর্তী সহায়তায় দুর্নীতি-অপচয় ঠেকাতে সরকার-এনজিও অংশীদারত্ব জরুরি: অর্থমন্ত্রী

ইউনূসকে জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জুলকারনাইন সায়েরের

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, ৩১শে মার্চ ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

নূরজাহান বেগমকে কোন যোগ্যতায় স্বাস্থ্য উপদেষ্টা করা হয়েছিল—এমন প্রশ্ন তুলেছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। একই সঙ্গে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে সায়ের এসব মন্তব্য করেন। পোস্টে তিনি বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূরজাহান বেগমকে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের পেছনে কী ধরনের যোগ্যতা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল, তা জনসমক্ষে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

জুলকারনাইন সায়েরের ভাষ্য, “যারা ইউনূস সাহেবকে রাত-দিন পূজা করেন, তাদের প্রতি পরামর্শ—পূজা-অর্চনার পাশাপাশি তাকে জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়টিও ভাবতে শুরু করুন।” তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পোস্টে তিনি সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার দাবি, দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে হামের প্রকোপে এত শিশুমৃত্যুর ঘটনা আগে দেখা যায়নি। সায়ের উল্লেখ করেন, হামের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে অন্তত ৪১ শিশুর মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে, যা গভীর উদ্বেগজনক।

এই পরিস্থিতির জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু নীতিগত সিদ্ধান্তকে দায়ী করেন তিনি। তার অভিযোগ, ২০২৫ সালের আগস্টে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পূর্ণ প্রস্তুতি ছাড়াই এইচপিএনএসপি তথা ওপি-ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়। এর ফলে টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হয় এবং দেশে হামসহ আরও ৮ থেকে ১০টি রোগের টিকার সংকট তৈরি হয়েছে।

জুলকারনাইন সায়ের মনে করেন, এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত—বিশেষ করে জনস্বাস্থ্যের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে—বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন আনার আগে যথাযথ প্রস্তুতি, বিকল্প পরিকল্পনা এবং দক্ষ নেতৃত্ব থাকা জরুরি ছিল। কিন্তু তা না থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে বলে তিনি ইঙ্গিত করেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নূরজাহান বেগম বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা হিসেবে কী কী কাজ করেছেন, তার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে হবে।” তার মতে, জনগণের জানার অধিকার রয়েছে—এই দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তি বাস্তবে কী ধরনের ভূমিকা রেখেছেন এবং তার সিদ্ধান্তগুলোর প্রভাব কী ছিল।

সায়ের আরও বলেন, “আমরা জানতে আগ্রহী— ইউনূস সাহেবের পছন্দে নিয়োগ পাওয়া এই ব্যক্তি আসলে কী করেছেন।” তার এই বক্তব্যে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন উঠে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের প্রশ্ন তোলা সাম্প্রতিক সময়ে একটি প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত এবং নিয়োগ নিয়ে সরাসরি জবাবদিহির দাবি জানানো হচ্ছে। তবে এ ধরনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া জরুরি, যাতে বাস্তব পরিস্থিতি স্পষ্ট হয়।

এদিকে, স্বাস্থ্য খাতে টিকার সরবরাহ ও সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচিতে সামান্য বিঘ্নও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে।

সব মিলিয়ে, নূরজাহান বেগমের নিয়োগ, স্বাস্থ্য খাতে নীতিগত পরিবর্তন এবং সাম্প্রতিক সংক্রমণ পরিস্থিতি—এসব বিষয় ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জুলকারনাইন সায়েরের বক্তব্য সেই আলোচনাকে আরও তীব্র করেছে। এখন সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও তথ্য প্রকাশের ওপরই নির্ভর করছে জনমনে তৈরি হওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর মিলবে কি না।

জুলকারনাইন সায়ের

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250