ছবি: সংগৃহীত
১৯৭১ সালে সংঘটিত গোলাহাট, আদিত্যপুর, কালীগঞ্জ ও ছাতনী গণহত্যার স্মৃতি সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে গণহত্যার ইতিহাস তুলে ধরার লক্ষ্যে আজ শনিবার রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি মিলনায়তনে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সাংস্কৃতিক সংগঠক ও আবৃত্তিশিল্পী কানিজ গোফরানী কোরেশির উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা ভুবন ঐকতানের প্রধান সংগঠক রুশো রকিব। তিনি গণহত্যার ইতিহাস সংরক্ষণে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সেমিনারে গোলাহাট গণহত্যার নির্মম ও হৃদয়বিদারক ঘটনাপ্রবাহ উপস্থাপন করেন জেনোসাইড জাস্টিস অ্যান্ড রিসার্চ ফোরামের নির্বাহী পরিচালক খালিদা আক্তার। তিনি প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা, ঐতিহাসিক তথ্য এবং গণহত্যার প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বিশিষ্ট গবেষক ও অধ্যাপক ড. জেবউননেছা আদিত্যপুর, কালীগঞ্জ ও ছাতনী গণহত্যা সম্পর্কে একটি নাতিদীর্ঘ এবং তথ্যসমৃদ্ধ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি এসব গণহত্যার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, ঘটনার ধারাবাহিকতা এবং স্মৃতি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সৈয়দপুরের স্থানীয় সাংবাদিক এম আর ঝন্টু মুক্তিযুদ্ধের সময় সৈয়দপুরে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ ধারণা তুলে ধরেন। তিনি স্থানীয় জনগণের অভিজ্ঞতা এবং সে সময়কার পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
এ সময় শহীদ পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। সৈয়দপুরের স্থানীয় শহীদ পরিবারের সদস্য সাইদুর রহমান তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও বিহারীদের বিভৎসতা এবং নির্মমতার চিত্র তুলে ধরেন।
তিনি জানান, তার অগ্রজ সহোদরের ব্যবহৃত চশমা ৫৫ বছর ধরে পরম মমতায় নিজের কাছে আগলে রেখেছেন। তার বর্ণনায় মিলনায়তনজুড়ে পিনপতন নীরবতা নেমে আসে। সাইদুর রহমান গণহত্যার শিকার পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের বেদনা, স্মৃতি ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
সভাপতি ফউজুল আজিম সমাপনী বক্তব্যে গণহত্যার ইতিহাস গবেষণা, সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের লক্ষ্যে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
তিনি সেমিনারটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করায় এশিয়াটিক সোসাইটির কর্মকর্তা-কর্মচারী, সহযোগী এবং উপস্থিত সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।
সেমিনারের শুরুতে গণহত্যার সব শহীদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এবং তাদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে গবেষক, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, গোলাহাট গণহত্যা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক মর্মান্তিক অধ্যায়। এ গণহত্যার স্মৃতি সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে যথাযথ স্বীকৃতি অর্জনের লক্ষ্যে আরও গবেষণা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন।
খবরটি শেয়ার করুন