রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৫ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** সমালোচনার মুখে হাফেজদের উপহার দেওয়া সেই বই ফেরত নিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী *** অপ্রতিমের মা ড. নাহিদার চব্বিশের সেই ফেসবুক পোস্ট কেন আলোচনায়, কী লিখেছিলেন তিনি *** পাকিস্তান কি সৌদি আরবকে রক্ষা করতে যুদ্ধে জড়াবে *** প্রভাবশালী বৌদ্ধ ভিক্ষুর ৩০ লাখ ডলার আত্মসাৎ ও যৌন কেলেঙ্কারি যেভাবে প্রকাশ্যে এল *** হাইকোর্ট-মৎস্য ভবন এলাকায় পরপর ককটেল বিস্ফোরণ *** জিএমপির ফেসবুক পেজে লংমার্চ নিয়ে পোস্ট: স্টাফ অফিসার প্রত্যাহার *** আগুন-ককটেল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের কাজ, প্রত্যেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী *** অপ্রতীম হত্যায় জড়িতরা ১২ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার, তদন্ত প্রতিবেদনও দ্রুত দেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী *** প্রধানমন্ত্রী কাল নিউইয়র্ক যাচ্ছেন, সফরসঙ্গী চার মন্ত্রীসহ ৩৫ জন *** আইফোনের জন্যই অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়: পুলিশ সুপার

অপ্রতিমের মা ড. নাহিদার চব্বিশের সেই ফেসবুক পোস্ট কেন আলোচনায়, কী লিখেছিলেন তিনি

প্রণব সাহা

🕒 প্রকাশ: ০৭:০৬ অপরাহ্ন, ২০শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে পরিবার, বিশ্ববিদ্যালয় ও কুমিল্লাজুড়ে। ১৩ বছর বয়সী এই স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তার মায়ের প্রায় দুই বছর আগের একটি ফেসবুক পোস্ট। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে করা ওই পোস্টে কুমিল্লার কোটবাড়ি বিশ্বরোডে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছিলেন ড. নাহিদা। আতঙ্কিত শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার কথাও লিখেছিলেন তিনি।

অপ্রতিমের মৃত্যুর পর সেই পুরোনো পোস্ট নতুন করে আলোচনায় আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একদল ব্যবহারকারী ড. নাহিদার ২০২৪ সালের অবস্থানের সঙ্গে তার ছেলের হত্যাকাণ্ডকে জুড়ে নানা মন্তব্য করছেন। কেউ কেউ এমন কথাও বলছেন, এটি নাকি তার আগের রাজনৈতিক অবস্থানের ‘কর্মফল’। অর্থাৎ, একজন মায়ের রাজনৈতিক অবস্থান বা কোনো আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতিকে তার ১৩ বছরের সন্তানের হত্যার সঙ্গে যুক্ত করে ঘটনাটিকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

অপ্রতিম কেন এবং কীভাবে নিহত হয়েছে, সেটি তদন্তের বিষয়। পুলিশের হাতে আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ, সিসিটিভি ফুটেজ, মুঠোফোনের তথ্য ও অন্যান্য আলামত যাচাই করা হচ্ছে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো মন্তব্যকে হত্যার কারণ বা উদ্দেশ্য হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

বরং এই বিতর্ক সামনে এনেছে অন্য একটি প্রশ্ন। রাজনৈতিক মতের বিরোধিতা করতে গিয়ে একটি শিশুর মৃত্যুকেও যখন কেউ রাজনৈতিক হিসাবের সঙ্গে যুক্ত করে দেখেন, তখন সমাজের রাজনৈতিক বিভাজন কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে?

ড. নাহিদা ২০২৪ সালের ওই পোস্টে লিখেছিলেন, ‘স্পট থেকে এলাম, চোখের সামনে ছররা গুলি আর টিয়ারশেল নিক্ষেপ দেখলাম।’ তিনি আরও লিখেছিলেন, আতঙ্কিত ছাত্রীদের ফোন পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিলেন। আহত শিক্ষার্থীদের জন্য সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছিলেন। তার ভাষায়, ‘জানি কিছু করতে পারব না তবু আতঙ্কিত ছাত্রীদের ফোন পেয়ে দৌড়ে ছুটলাম, আহত ছাত্রদের জন্য হাতে পেস্ট নিয়ে ঘোরা ছাড়া করার কিছু ছিলও না।’

তবে একই পোস্টে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও আলাদা করে জানিয়েছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, ‘আমি বিপ্লব আন্দোলন করা মানুষ না। করিও নাই ওইভাবে কখনো।’

অর্থাৎ পোস্টটির বক্তব্যকে শুধু রাজনৈতিক আন্দোলনের সমর্থন হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টি ধরা পড়ে না। তিনি মূলত ঘটনাস্থলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। হল ছাড়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। পথে কোনো ছাত্রী সমস্যায় পড়লে বা থাকার জায়গার প্রয়োজন হলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতেও বলেছিলেন। শেষে লিখেছিলেন, ‘সবাই ভালো থাকুক।’

প্রায় দুই বছর পর সেই একই মা নিজের সন্তানকে হারিয়েছেন। গত শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি-গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়েছিল সে। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরিবার ও পুলিশ তার সন্ধানে তল্লাশি শুরু করে।

১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসংলগ্ন সালমানপুর এলাকার দক্ষিণ মোড়ে লালমাই পাহাড়ের পাদদেশের একটি নির্জন স্থান থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ১৯ সেপ্টেম্বর জানায়, অপ্রতিমের মরদেহ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, নিখোঁজ হওয়ার পর তার মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলেকে খুঁজে পেতে মানুষের সহায়তা চেয়েছিলেন।

প্রথম আলো আজ রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ডের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক, ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কুমিল্লা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও সন্দেহভাজনদের আটকের তথ্য দেওয়া হয়।

অপ্রতিমের মৃত্যুর পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ২০ সেপ্টেম্বর শোক দিবস ঘোষণা করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে নৃশংস হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে শোক ও নিন্দা জানায়।

আক অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে। পরে গন্ধমতী ঈদগাহে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও আটক করেছে। পুলিশ ঘটনার বিষয়ে কিছু সূত্র পাওয়ার কথা জানিয়েছিল। তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করছিলেন।  ২০ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন দেশীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে তিনজনকে আটকের কথা এসেছে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এবং কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

এই জায়গাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘কর্মফল’ তত্ত্বটি বড় প্রশ্নের মুখে পড়ে। কোনো মানুষের রাজনৈতিক মত বা সামাজিক অবস্থানের সঙ্গে তার সন্তানের হত্যাকে সরাসরি যুক্ত করার মতো কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে নেই। একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির রাজনৈতিক মতামতের দায় তার ১৩ বছরের সন্তানের ওপর চাপানো নৈতিক ও যুক্তিগত—দুই দিক থেকেই আলাদা বিষয়।

রাজনৈতিক মেরুকরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণাতেও এমন প্রবণতার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্রের পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জেমস এ পিয়াজ্জার গবেষণা সিকিউরিটি স্টাডিজ সাময়িকীতে ২০২৩ সালে প্রকাশিত হয়। ৮৩টি গণতান্ত্রিক দেশের তথ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১ হাজার ৯০০ মানুষের জরিপ বিশ্লেষণ করে গবেষণাটি দেখায়, তীব্র আবেগনির্ভর রাজনৈতিক মেরুকরণ বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে অমানবিক বা নৈতিকভাবে নিকৃষ্ট হিসেবে দেখার প্রবণতা বাড়াতে পারে। এতে রাজনৈতিক সহিংসতার প্রতি সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার পরিবেশ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধারণা হলো ‘নৈতিক বিচ্ছিন্নতা’। এর অর্থ হলো, মানুষ এমনভাবে নিজের আচরণকে যুক্তিসংগত মনে করতে শুরু করে, যাতে অন্যের ক্ষতি বা অন্যায় আচরণকেও নিজের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়। রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে গবেষণায় ভুক্তভোগীকে দোষারোপ করা এবং মানুষকে অমানবিক হিসেবে দেখাকে এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন পোস্ট-এ রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে প্রকাশিত বিশ্লেষণেও দলীয় পরিচয়, প্রবল দলীয় আনুগত্য এবং প্রতিপক্ষকে ‘খারাপ’ বা ‘মানুষের চেয়ে কম’ হিসেবে দেখার প্রবণতার মধ্যে সম্পর্কের কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে গবেষকদের উদ্ধৃত করে বলা হয়, প্রতিপক্ষকে অমানবিক ভাবা রাজনৈতিক সহিংসতার প্রতি সমর্থনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

নিউ ইয়র্কার-এ রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে রাজনৈতিক বিজ্ঞানী লিলিয়ানা মেসনের সঙ্গে আলোচনায়ও একই ধরনের বিষয় উঠে এসেছে। তিনি আধুনিক রাজনৈতিক সহিংসতার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অমানবিক হিসেবে দেখার প্রবণতাকে ‘নৈতিক বিচ্ছিন্নতা’র সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তার আলোচনায় সামাজিক বিভাজন, রাজনৈতিক পরিচয় এবং প্রতিশোধের মানসিকতা কীভাবে একে অন্যকে শক্তিশালী করতে পারে, সেটিও উঠে আসে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এই সমস্যাকে আরও দৃশ্যমান করতে পারে। ২০২০ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ফেসবুকের রাজনৈতিক আলোচনার ওপর নজর দিয়ে গবেষকেরা দেখিয়েছেন, একই মতের মানুষের ঘনিষ্ঠ অনলাইন গোষ্ঠী বা ‘প্রতিধ্বনি কক্ষ’-এ প্রতিপক্ষকে অমানবিক করে দেখার ভাষা স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে। এতে ঘৃণা প্রকাশের মাত্রা বাড়ার ঝুঁকি থাকে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেই মানুষ সহিংস হয়ে যায়। গবেষণাগুলো মূলত ঝুঁকির সম্পর্ক দেখায়। ব্যক্তি, সামাজিক পরিবেশ, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, গণমাধ্যম এবং অনলাইন যোগাযোগ—সব মিলিয়ে মানুষের আচরণ তৈরি হয়। এমনকি মেরুকরণ কমানোর কিছু পরীক্ষামূলক উদ্যোগ মানুষের রাজনৈতিক বিরোধিতা কমালেও রাজনৈতিক সহিংসতার সমর্থন কমেছে—এমন শক্ত প্রমাণ সব ক্ষেত্রে পাওয়া যায়নি। নেচার হিউম্যান বিহেভিয়ার-এ প্রকাশিত গবেষণায় এ সীমাবদ্ধতার কথা বলা হয়েছে।

অপ্রতিমের ঘটনা তাই শুধু একটি পরিবারের শোকের ঘটনা নয়। এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক বিদ্বেষের ভাষা কতটা দ্রুত একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির ওপর রাজনৈতিক অর্থ চাপিয়ে দিতে পারে, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে।

একজন মায়ের দুই বছর আগের একটি পোস্টের সঙ্গে তার সন্তানের হত্যাকে যুক্ত করে ‘কর্মফল’ ব্যাখ্যা দাঁড় করানো হলে সেখানে দুটি বিষয় হারিয়ে যায়। প্রথমটি হলো, নিহত শিশুটির নিজের কোনো রাজনৈতিক দায় ছিল না। দ্বিতীয়টি হলো, একটি হত্যাকাণ্ডের সত্য উদ্‌ঘাটনের জন্য প্রয়োজন প্রমাণ, তদন্ত ও বিচার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতামত নয়।

অপ্রতিমের বাবা দাফনের আগে বলেছেন, তার আর নতুন করে কিছু বলার নেই। তিনি শুধু সন্তানের হত্যার উপযুক্ত বিচার চান। এই দাবিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। হত্যার কারণ কী ছিল, কারা জড়িত, কী উদ্দেশ্যে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তেই বেরিয়ে আসার কথা।

রাজনৈতিক বিভাজন মানুষের মতের পার্থক্য তৈরি করতে পারে। কিন্তু সেই বিভাজন যখন ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়কে তার পরিবারের সদস্যদের মানবিক পরিচয়ের ওপর বসিয়ে দেয়, তখন সমাজে সহনশীলতার জায়গা সংকুচিত হয়। মতের বিরোধিতা তখন আর মতের বিরোধিতা থাকে না। প্রতিপক্ষকে শাস্তি দেওয়ার মানসিকতা তৈরি হতে পারে।

অপ্রতিমের হত্যার তদন্ত তাই শুধু অপরাধের রহস্য উন্মোচনের বিষয় নয়। একই সঙ্গে এটি সমাজে ভিন্নমত, রাজনৈতিক পরিচয় ও মানবিক মর্যাদার সম্পর্ক নিয়েও একটি বড় প্রশ্ন রেখে গেছে। একজন মায়ের পুরোনো রাজনৈতিক পোস্টের সঙ্গে তার সন্তানের মৃত্যুকে যুক্ত করার আগে সেই প্রশ্নটির উত্তর খোঁজা জরুরি—রাজনৈতিক মতের দায় কি কখনো একটি শিশুর হতে পারে?

ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

সমালোচনার মুখে হাফেজদের উপহার দেওয়া সেই বই ফেরত নিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

🕒 প্রকাশ: ০৮:০৪ অপরাহ্ন, ২০শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

অপ্রতিমের মা ড. নাহিদার চব্বিশের সেই ফেসবুক পোস্ট কেন আলোচনায়, কী লিখেছিলেন তিনি

🕒 প্রকাশ: ০৭:০৬ অপরাহ্ন, ২০শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তান কি সৌদি আরবকে রক্ষা করতে যুদ্ধে জড়াবে

🕒 প্রকাশ: ০৬:৩১ অপরাহ্ন, ২০শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রভাবশালী বৌদ্ধ ভিক্ষুর ৩০ লাখ ডলার আত্মসাৎ ও যৌন কেলেঙ্কারি যেভাবে প্রকাশ্যে এল

🕒 প্রকাশ: ০৬:১৬ অপরাহ্ন, ২০শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

হাইকোর্ট-মৎস্য ভবন এলাকায় পরপর ককটেল বিস্ফোরণ

🕒 প্রকাশ: ০৫:৫৮ অপরাহ্ন, ২০শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250