ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়ায় গ্যাস সিলিন্ডারবাহী আটটি কাভার্ড ভ্যানে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৭ জন নিহত এবং অন্তত ২৬ জন আহত হয়েছেন। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে প্রীতি গ্রুপের কারখানা এলাকায় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা জানিয়েছেন, এই ঘটনার পর শুধু সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যান থেকে রাত ১১টার দিকে পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে বিস্ফোরণে কারখানার সামনে নিহত দুজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন মোছাম্মত জয়নব বেগম (৫৫)। তার বাড়ি গাজীপুরের কাশিমপুরের ইসরকান্দি এলাকায়। আরেকজন হলেন নজরুল ইসলাম (৩০)। তার বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার আবুডাঙ্গা গ্রামে।
ফায়ার সার্ভিস, এলাকাবাসী এবং ওই কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিল্পাঞ্চলের যেসব কারখানায় গ্যাস ব্যবহার করা হয়, সেসব কারখানার জন্য বিভিন্ন সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস সংগ্রহ করা হয়। কাভার্ড ভ্যানে করে এসব সিলিন্ডার কারখানায় নেওয়া হয়। তবে এসব সিলিন্ডার কাভার্ড ভ্যান থেকে না নামিয়ে সেখান থেকে পাইপের মাধ্যমে কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করা হয়। প্রীতি গ্রুপেরও এ ধরনের বেশ কয়েকটি কাভার্ড ভ্যান রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, রোববার সন্ধ্যায় প্রীতি গ্রুপের কারখানায় গ্যাসভর্তি ১০-১২টি কাভার্ড ভ্যান রাখা ছিল। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে হঠাৎ একটি কাভার্ড ভ্যানের সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। এতে ওই ভ্যানে আগুন ধরে যায়। পরে আগুনের স্ফুলিঙ্গ এবং বিস্ফোরিত সিলিন্ডারের অংশবিশেষ আশপাশের অন্য কাভার্ড ভ্যানে গিয়ে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়।
নিহত জয়নব বেগমের মেয়ে সানজিদা আক্তার জানান, ঘটনার সময় তিনি দোকানে দরজির কাজ করছিলেন। তার মা দোকানের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় হঠাৎ সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়। এ সময় আঘাত পেয়ে তার মা মারা যান। এ ছাড়া তার ছেলেও আহত হয়।
এদিকে এই বিস্ফোরণে ২৬ জন আহত হয়েছেন বলে কারখানা সূত্রে জানা গেছে। আহতদের প্রথমে আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের ব্যবস্থাপক হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের জানান, বিস্ফোরণে আহত ২৬ জনকে ইতিমধ্যে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে অধিকাংশই কারখানাটির আশপাশের সবজি বিক্রেতা, পথচারী বলে শুনেছেন।
আশুলিয়ার এই হাসপাতাল থেকে গুরুতর চারজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নজরুল ইসলাম নামের একজন মারা যান।
নিহত নজরুলের ছেলে সামিউল ইসলাম বলেন, ওই কারখানার সামনে পেঁয়াজ-রসুন বিক্রি করতেন তারা বাবা। দুর্ঘটনার পর তিনি খবর পেয়ে স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালে গিয়ে তার বাবাকে দেখতে পান। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসেন। চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান।
এদিকে, ঢামেকে চিকিৎসাধীন আহত মোখলেস বলেন, প্রীতি গ্রুপের পোশাক কারখানার সামনের রাস্তায় কাঁচামাল বিক্রি করেন তিনি। সন্ধ্যায় কারখানায় বিস্ফোরণে বিভিন্ন লোহার জিনিসপত্র, ইটপাটকেল, গ্লাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় তারা আহত হন।
ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ডিইপিজেড) ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরে আরও দুটি ইউনিট যোগ দেয়। ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা উত্তরের (জোন-৪) উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, ‘কাভার্ড ভ্যানে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণ থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে জিরাবো ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টা পর রাত পৌনে আটটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।’
শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম বলেন, কারখানার গেটের সামনে থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কারখানার ভেতরে বিস্ফোরিত সিলিন্ডারের অংশবিশেষের আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনা বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খবরটি শেয়ার করুন