রবিবার, ৩০শে আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৪ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বিএনপি সরকারে এলে কি দেশে জ্বালানি সংকট বাড়ে, কেন বাড়ে? *** সরকারের ছয় মাসে প্রথম ‘গুমের শিকার’ মিরাজ শেখ: আসলে কী ঘটেছিল, কেন অস্বীকার করছে সরকার? *** সংবিধানের হস্তলেখক স্বাধীনতা পদক পেলেও রচয়িতা ড. কামাল পাননি: রেহমান সোবহান *** কাপ্তাই হ্রদে পানি বেড়ে ডুবে গেছে ঝুলন্ত সেতু, চলাচলে নিষেধাজ্ঞা *** বর্তমান সরকারের সময় গুমের কোনো ঘটনা ঘটেনি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী *** দুর্যোগে বন্ধ নেপালের বিদ্যুৎ সরবরাহ, কমছে না দেশের লোডশেডিং *** ছয় লাখ মানুষের চাকরি হারানোর আশঙ্কা কেন *** গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে বিচার শুরু করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী *** সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর টানে রিকশা থেকে পড়ে প্রধান শিক্ষিকা নিহত *** তুলিতে আঁকা স্বপ্ন, চোখে জাগরণের আলো: তক্ষশিলায় শিশুদের রঙিন উৎসব

বিএনপি সরকারে এলে কি দেশে জ্বালানি সংকট বাড়ে, কেন বাড়ে?

নবনীতা রায়

🕒 প্রকাশ: ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, ৩০শে আগস্ট ২০২৬

#

ফাইল ছবি

দেশের রাজনীতিতে একটি কাকতালীয় মিল নিয়ে এখন নতুন করে আলোচনা হচ্ছে—বিএনপি যখনই সরকার গঠন করেছে, তার আশপাশের সময়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা গেছে। ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে প্রথম বিএনপি সরকার গঠনের সময় ছিল উপসাগরীয় যুদ্ধের অভিঘাত। ২০০১ সালে বিএনপি আবার ক্ষমতায় ফেরার পর বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দাভাব, মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং পরবর্তী সময়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়।

আর ২০২৬ সালে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংকট বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে নাড়িয়ে দেয়।

তবে এই তিনটি সময়কে এক করে বলা যায় না যে বিএনপি ক্ষমতায় এলেই জ্বালানি সংকট তৈরি হয়। বরং ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারের ধাক্কা, দেশের আমদানিনির্ভরতা, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, মজুত ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনার দুর্বলতা—সব মিলেই সংকটের মাত্রা নির্ধারণ করেছে। স্বাধীনতার ৫৫ বছরের মধ্যে সব সরকারের আমলেই কমবেশি জ্বালানির সংকট দেখা দিয়েছে। দাম বেড়েছে।

১৯৯১ সালের ঘটনাটি এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। ওই বছর বিএনপি সরকার গঠনের আগে-পরে বিশ্বজুড়ে উপসাগরীয় যুদ্ধের অভিঘাত ছিল। ইরাকের কুয়েত আক্রমণ এবং পরবর্তী যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহের সর্বোচ্চ ঘাটতি ছিল দৈনিক প্রায় ৪৩ লাখ ব্যারেল। ২০২৬ সালের সংকটের সঙ্গে তুলনা করতে গিয়ে ডেইলি স্টারও ১৯৯১ সালের যুদ্ধকে বড় জ্বালানি ধাক্কাগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

অর্থাৎ ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় যে জ্বালানি অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, সেটিকে কেবল সরকারের নীতির ফল হিসেবে দেখার সুযোগ কম। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিই তখন বড় ভূমিকা রেখেছিল। তবে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নিরাপত্তা কতটা শক্তিশালী ছিল এবং সংকট মোকাবিলায় কী ধরনের প্রস্তুতি ছিল, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

২০০১ সালের পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। ওই বছর অক্টোবরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার গঠন করে। কিন্তু সে সময় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার বদলে বরং কমছিল। বিশ্বব্যাংকের পণ্যবাজারের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালে অপরিশোধিত তেলের গড় দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ২৮ দশমিক ২৩ ডলার; ২০০১ সালে তা নেমে আসে ২৪ দশমিক ৩৫ ডলারে। সেপ্টেম্বরের ১১ তারিখের সন্ত্রাসী হামলার পর তেলের দাম আরও পড়ে যায়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থাও সে সময় বিশ্ব তেলবাজারকে ‘ভালোভাবে সরবরাহিত’ বলে উল্লেখ করেছিল।

তাই ২০০১ সালের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটকে আন্তর্জাতিক তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা কঠিন। ওই সময় বাংলাদেশের সংকটের বড় অংশ ছিল দেশের নিজস্ব উৎপাদন ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার সঙ্গে সম্পর্কিত। ‘প্রথম আলো’র সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, ২০০১ থেকে ২০০৬ সময়ে গ্যাস থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়নি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনার কারণে অর্থনীতি, শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

এ সময়ের জ্বালানি খাতের আরেকটি দুর্বলতা উঠে এসেছে ডেইলি স্টার’-এর পুরোনো অনুসন্ধানে। পত্রিকাটি জানিয়েছিল, ২০০১ সালে গঠিত গ্যাস ব্যবহার কমিটি সতর্ক করেছিল যে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার না হলে ২০১০ সালের মধ্যে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেবে। একই সময়ে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তা ব্যবহারের পর্যাপ্ত সক্ষমতা বাংলাদেশের ছিল না। পরে গ্যাসের চাহিদা বাড়লেও অনুসন্ধান ও অবকাঠামো উন্নয়নের গতি সেই অনুযায়ী বাড়েনি।

অর্থাৎ বিএনপির দ্বিতীয় মেয়াদে যে জ্বালানি-বিদ্যুৎ সংকটের স্মৃতি রয়েছে, সেটির কারণ ১৯৯১ বা ২০২৬ সালের মতো বড় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ-ধাক্কা ছিল না। এখানে পরিকল্পনা, উৎপাদন সক্ষমতা, গ্যাসের ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ঘাটতি বড় বিষয় ছিল। ডেইলি স্টার’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি ৬০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায় এবং ২০০৫ সালে তা প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছায়।

২০২৬ সালের পরিস্থিতি আবার সম্পূর্ণ ভিন্ন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠনের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাত শুরু হয়। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। বাংলাদেশ যেহেতু জ্বালানি আমদানির ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল, এর সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশে।

রয়টার্স জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ জ্বালানি চাহিদা আমদানির মাধ্যমে পূরণ হয়। যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হলে দেশে জ্বালানি রেশনিং করতে হয়। সংকট মোকাবিলায় সরকার আন্তর্জাতিক অর্থায়নের জন্য দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি সংগ্রহের চেষ্টা করে এবং ভারত, চীনসহ বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসও মার্চে বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে শুধু মূল্যবৃদ্ধির সমস্যা হিসেবে দেখেনি; জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতির কারণে পেট্রলপাম্পে দীর্ঘ সারি, নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি বিক্রি এবং আতঙ্কে অতিরিক্ত জ্বালানি কেনার চিত্র তুলে ধরে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ প্রায় ৯৫ শতাংশ জ্বালানি তেল এবং প্রায় ৭০ শতাংশ গ্যাস আমদানি করে, যার বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।

আল জাজিরাও মার্চে জানিয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মক চাপের মুখে পড়ে এবং সরকার জ্বালানি বিক্রিতে সীমা আরোপ করে। সংকটের গভীরতা বোঝাতে আরও একটি তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। রয়টার্স এপ্রিল মাসে জানায়, বাংলাদেশ পরিশোধিত জ্বালানির প্রায় ৮০ শতাংশ আমদানি করে এবং এর বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। যুদ্ধের কারণে কৃষকের সেচকাজেও ডিজেলের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। অনেক কৃষককে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি ডিজেল দেওয়া হচ্ছিল না।

এ সংকট শুধু পেট্রলপাম্পের সামনে দীর্ঘ সারির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষি, পরিবহন, শিল্প এবং সার উৎপাদনেও এর প্রভাব পড়ে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, জ্বালানি ও গ্যাস সংকটে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে, বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেড়েছে এবং পোশাকশিল্পেও উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। যুদ্ধের কারণে বাড়তি জ্বালানি ব্যয় বাংলাদেশের আর্থিক চাপও বাড়িয়েছে; এপ্রিল থেকে জুন—এই তিন মাসেই তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসে ভর্তুকির জন্য অতিরিক্ত ১ দশমিক ০৭ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এখানে বিএনপি সরকারের নীতিগত দায়ের প্রশ্ন অবশ্যই উঠতে পারে। কারণ আন্তর্জাতিক সংকট পূর্বানুমান করা কঠিন হলেও জ্বালানি মজুত, বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার সংস্থান—এসব ক্ষেত্রে যে কোনো সরকারের প্রস্তুতির বিষয়টি জাতীয় নীতির অংশ।

রয়টার্স মার্চে জানিয়েছিল, সরকার জ্বালানি ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির সংকট সামাল দিতে আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে একক কোনো উৎসের ওপর নির্ভরতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, নাইজেরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ থেকে জ্বালানি আনার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসে। রয়টার্স জুলাইয়ে জানায়, কাতারএনার্জি ২০২৬ সালে বাংলাদেশে নির্ধারিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ অর্ধেক করে দিয়েছে। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কাতার থেকে চুক্তিবদ্ধ চালান বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে বাংলাদেশকে স্পট বাজার থেকে অতিরিক্ত চালান কিনতে হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতিও যে স্বাভাবিক নয়, তার প্রমাণ মিলছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে। রয়টার্স আগস্টে জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালির অনিশ্চয়তায় অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি পরিশোধিত জ্বালানির বাজারেও বড় চাপ তৈরি হয়েছে। এশিয়ায় পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় ২১ শতাংশ কমেছে এবং সিঙ্গাপুরে গ্যাস তেলের পরিশোধন মুনাফা ২২৬ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ কাঁচা তেল বাজারে পাওয়া গেলেও তা যথেষ্ট পরিমাণে ডিজেল, জেট জ্বালানি বা পেট্রলে পরিণত হয়ে বাজারে আসছে না।

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজারেও একই চাপ। রয়টার্স জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্ব তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। কাতারের সরবরাহে বিঘ্নের ফলে এশিয়ার বাজারে দাম ও সরবরাহ—দুই ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তা বেড়েছে।

তাহলে প্রশ্ন হলো, বিএনপি ক্ষমতায় এলেই কি জ্বালানি সংকট বাড়ে? তথ্য বলছে, এমন সরল সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ নেই। ১৯৯১ সালে আন্তর্জাতিক যুদ্ধের অভিঘাত ছিল বড় কারণ। ২০০১ সালে আন্তর্জাতিক তেলের দাম বরং কমেছিল; তখন দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের নিজস্ব দুর্বলতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আর ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সরাসরি আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় আঘাত করেছে।

তবে তিনটি সময়ের একটি অভিন্ন শিক্ষা আছে। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে বা সরবরাহপথ বন্ধ হলে সেই ধাক্কা দ্রুত দেশের বাজারে পৌঁছে যায়। পর্যাপ্ত মজুত না থাকলে, আমদানির উৎস সীমিত হলে বা বৈদেশিক মুদ্রার সংকট থাকলে আন্তর্জাতিক অস্থিরতা অভ্যন্তরীণ সংকটে রূপ নেয়।

বিএনপি সরকারে এলেই জ্বালানি সংকট বাড়ে—এমন রাজনৈতিক ব্যাখ্যার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, আন্তর্জাতিক জ্বালানি ধাক্কা মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি কতটা। জ্বালানি নিরাপত্তা কেবল কোনো একটি সরকারের রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয় নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত মজুত, বহুমুখী আমদানি, নিজস্ব অনুসন্ধান ও উৎপাদন এবং বৈদেশিক মুদ্রার সক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

২০২৬ সালের সংকট স্পষ্ট করে দেখিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হলে তার অভিঘাত বাংলাদেশের পেট্রলপাম্প থেকে কৃষকের সেচযন্ত্র, কারখানার জেনারেটর থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র—সবখানেই পৌঁছাতে পারে। ফলে ক্ষমতায় কোন দল, তার চেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—সংকট আসার আগেই রাষ্ট্র কতটা প্রস্তুত ছিল।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর অভিযোগ, বিএনপি যতবার ক্ষমতায় আসে, দেশ ততবার জ্বালানি সংকটে পড়ে যায়। কারণ, তারা স্মার্টলি এই সমস্যার সমাধান করতে পারে না। বিদ্যুৎ, গ্যাসকে যদি টাকা পাচারের মাধ্যম, লুটপাটের ধান্দা করা হয়, তবে শেখ হাসিনার মতো বিএনপিও রেহাই পাবে না বলে মন্তব্য তার।

জ্বালানি সংকট

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250