ছবি: নিউইয়র্ক টাইমস
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। তবে তার ভাষণের বিষয়বস্তুর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল আরেকটি বিষয়—মঞ্চে দাঁড়িয়ে তার চোখে থাকা কালো সানগ্লাস।
৩৬ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ নেপালে ‘বালেন’ নামেই বেশি পরিচিত, জনসমক্ষে খুব কমই সানগ্লাস ছাড়া দেখা দেন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনেও তিনি নিজের পরিচিত পোশাকের ধারা বজায় রাখেন—কালো স্যুট, কালো ঐতিহ্যবাহী নেপালি টুপি এবং কালো সানগ্লাস।
সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে বালেন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন কোনো দেশের সীমান্ত মানে না এবং এর প্রভাব উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অসমভাবে বহন করতে হচ্ছে।
গত মাসে হিমবাহ ধসের ফলে নেপালে সংঘটিত আকস্মিক বন্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নেপালের এই বিপর্যয় শুধু আমাদের জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্য একটি সতর্কবার্তা।’ তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জলবায়ুজনিত দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত স্বল্পোন্নত দেশগুলোর পুনরুদ্ধারে আরও অর্থায়নের আহ্বান জানান।
নেপালের সংবাদপত্র দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বালেন অত্যন্ত সচেতনভাবে জনসম্মুখে নিজের পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক, আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান কিংবা ক্যামেরার সামনে তিনি সাধারণত সানগ্লাস পরেন। তবে একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মন্ত্রিসভার বৈঠক বা ব্যক্তিগত আলোচনায় তিনি সানগ্লাস খুলে রাখেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে তার সানগ্লাস পরার পেছনে রাজনৈতিক ইমেজের পাশাপাশি একটি স্বাস্থ্যগত কারণও রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে নেপালের সংসদেও বালেন শাহের সানগ্লাস পরা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিরোধীরা এটিকে ‘ঔদ্ধত্য’ হিসেবে আখ্যা দিলে তিনি চিকিৎসকের ছাড়পত্র ও মেডিকেল রিপোর্ট স্পিকারের কাছে জমা দেন। চোখের একটি বিশেষ চিকিৎসাজনিত সমস্যার কারণে তাকে সানগ্লাস পরার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে আসার আগে বালেন শাহ ছিলেন একজন জনপ্রিয় র্যাপার এবং পরবর্তীতে কাঠমান্ডুর নগর পিতা (মেয়র)। তিনি সব সময় জনসম্মুখে এই সানগ্লাস পরে হাজির হতেন। এটি নেপালের তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ মানুষের কাছে তার প্রথাভাঙ্গা স্বাধীন চেতনার প্রতীকে পরিণত হয়। নিজের পাবলিক ইমেজ সচেতনভাবে বজায় রাখতে তিনি কূটনীতিবিদদের সঙ্গে বৈঠক থেকে শুরু করে বহুজাতিক বিশ্বমঞ্চ পর্যন্ত সানগ্লাসটি ব্যবহার করে আসছেন।
বালেন শাহ সংবাদ সম্মেলন বা টেলিভিশন সাক্ষাৎকার খুব কম দেন। তিনি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ফলে তার কালো সানগ্লাস ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডের অংশে পরিণত হয়েছে।
নেপালের অন্যতম বৃহৎ অনলাইন মার্কেটপ্লেস দারাজে ‘বালেন শাহ গ্লাসেস’ নামে খুঁজলে তার ব্যবহৃত সানগ্লাসের আদলে তৈরি একাধিক মডেলও পাওয়া যায়। জনপ্রিয়তার কারণে এগুলো তরুণদের মধ্যে ফ্যাশন আইটেম হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে।
খবরটি শেয়ার করুন