ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটকের অভিযানে কিউবার অনেক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় শনিবার (৩রা জানুয়ারি) নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন অভিযানের সময় কিউবানরা মাদুরোকে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, যা তাদের জন্য মোটেও ভালো সিদ্ধান্ত ছিল না। খবর আল জাজিরার।
দীর্ঘদিন ধরেই ভেনেজুয়েলার অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত কিউবা। মার্কিন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মাদুরো তার নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শের জন্য কিউবান দেহরক্ষী ও উপদেষ্টাদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিলেন। মার্কিন বাহিনী যখন মাদুরোকে আটক করতে যায়, তখন সেখানে থাকা কিউবানরা বাধা দিলে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বলে জানান ট্রাম্প।
এদিকে ভেনেজুয়েলায় এই অভিযানের পর কিউবা সরকারকেও সতর্ক বার্তা দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেন, কিউবার কর্মকর্তাদের এখন ‘উদ্বিগ্ন’ হওয়া উচিত। তাহলে কিউবাতেও কি ভেনেজুয়েলার মতো সামরিক অভিযান চালাবে যুক্তরাষ্ট্র— নিউইয়র্ক পোস্টের এমন প্রশ্নে ট্রাম্প ‘না’ সূচক উত্তর দিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, কিউবায় হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই। কিউবা নিজেই পতনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশটির অবস্থা বর্তমানে খুবই নাজুক।
অন্যদিকে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ ক্যানেল বারমুদেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে কড়া ভাষায় ভেনেজুয়েলায় হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ‘অপরাধমূলক হামলা’ চালানোর জন্য ওয়াশিংটনকে অভিযুক্ত করে জরুরি আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগে শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ‘বড় পরিসরে’ হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ধরার কথা জানান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর সাত ঘণ্টা পরে আটক মাদুরোর ছবি প্রকাশ করেন তিনি। ছবিতে তার চোখ বাঁধা, হাতে হাতকড়া আর পরনে ধূসর রঙের নরম কাপড়ের তৈরি ট্রাউজার দেখা যায়।
সর্বশেষ মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্ত্রীসহ তাকে ব্রুকলিনের একটি বন্দিশিবিরে রাখা হবে। নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগে করা একটি মামলায় তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হতে পারে।
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন