সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৩শে ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল *** হরমুজ প্রণালির বাইরে নতুন ‘নিষিদ্ধ’ সামুদ্রিক অঞ্চল ঘোষণা করবে ইরান *** মায়ামি বিমানবন্দরে আমাজনের কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৫ *** ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণকে সম্পৃক্ত করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর *** ইইউর ৬১ বাণিজ্য বাধার ৪৮টিরই সমাধান করা হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী *** সাংস্কৃতিক ঐক্যই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি: সংস্কৃতিমন্ত্রী *** নিখোঁজ শিশুদের জন্য পুলিশের বিশেষ সেল গঠনের দাবি স্বজনদের *** রোহিঙ্গা ইস্যু যেন অন্য কোনো সংকটে চাপা না পড়ে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী *** রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার জন্মভূমি ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল, বিকেলে নাগরিক সংবর্ধনা *** শেষকৃত্য সম্পন্ন করার ১৫ দিন পর কারাগার থেকে ফোনকল—‘আপনার ছেলে জীবিত’

চট্টগ্রামে দুই শিশুর পেটে মিলল সাড়ে ৭ হাজার ইয়াবা

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন, ৭ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে ৯ ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশুর পেটে করে চট্টগ্রামে পাচার করা হচ্ছিল সাড়ে ৭ হাজারের বেশি ইয়াবা। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তৈলারদ্বীপে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে এক নারীসহ দুই শিশুকে আটক করে র‍্যাব-৭। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পর পয়োনিষ্কাশনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে শিশু দুটির পেট থেকে এসব ইয়াবা বের করে আনা হয়।

আটক দুই শিশুর নাম শাহরিয়ার (১২) ও আবু বকর (৯)। তাদের বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। র‍্যাবের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়াতে অপরাধী চক্র শিশুদের ব্যবহার করে ইয়াবা পাচারের এই বিপজ্জনক পথ বেছে নিয়েছে।

র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক মো. লে. কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বাচ্চা দুটির পেটের ভেতর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার ইয়াবা পাওয়া গেছে। ক্যাপসুলের ভেতরে এসব ইয়াবা ছিল। একেকটি ক্যাপসুলে ৪০ থেকে ৫০টি করে ইয়াবা পাওয়া গেছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার গণনা চলছে। গণনা শেষে প্রকৃত সংখ্যা জানা যাবে।’

তিনি বলেন, বর্তমানে দুই শিশু সুস্থ আছে। তবে তাদের হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা করা হবে।

র‍্যাবের অধিনায়ক আরও বলেন, আটক নারীর সঙ্গে দুই শিশুর কোনো রক্তের সম্পর্ক নেই বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ওই নারীই শিশু দুটিকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন।

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, শিশু দুটির সঙ্গে কথা বলে তারা জানতে পেরেছেন, ইয়াবা পাচারের জন্য একজন ব্যক্তি তাদের জনপ্রতি ৪ হাজার টাকা করে মোট ৮ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। চট্টগ্রামে চালান পৌঁছে দেওয়ার পর তাদের আরও টাকা দেওয়ার কথা ছিল। এর আগেও তারা দুবার পেটের ভেতরে করে ইয়াবা নিয়ে চট্টগ্রামে এসেছিল বলে র‍্যাবকে জানিয়েছে।

শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে দুই শিশুসহ ওই নারীকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে শিশু দুটিকে পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়।

গতকাল রোববার বিকেল পৌনে ৫টা পর্যন্ত শিশু দুটির পেট থেকে প্রায় ৬ হাজার ইয়াবা বের করে আনা হয়। এরপর রাতের দিকে তাদের পেট থেকে ক্যাপসুলে থাকা সাড়ে ৭ হাজারের বেশি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে র‍্যাব সূত্রে জানা যায়। এক্স-রে করে শিশু দুটির পেটের ভেতরে বিপুলসংখ্যক সন্দেহজনক বস্তুর উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তী এক্স-রেতে তাদের পেট পরিষ্কার পাওয়া যায়।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, সাধারণত ইয়াবা প্লাস্টিকে পেঁচিয়ে ছোট ছোট ক্যাপসুলের মতো বানিয়ে গিলে পেটে নেওয়া হয়। এভাবে মাদক বহন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো ক্যাপসুল দুর্ঘটনাবশত অন্ত্রে আটকে গেলে বা ফুটো হয়ে গেলে বহনকারীর গুরুতর শারীরিক জটিলতা এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।

তিনি বলেন, ক্যাপসুলের ভেতরের মাদকদ্রব্য শরীরে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত বিষক্রিয়া হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

র‍্যাব-৭-এর অধিনায়ক জানান, শিশু দুটিকে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে। এ ঘটনায় আজ সোমবার বিস্তারিত ব্রিফিং করা হবে বলেও জানান তিনি।

চট্টগ্রাম

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250