ছবি: সংগৃহীত
সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি বলেছেন, ‘সেই পাকিস্তান জমানা থেকে আমরা বিবিসির সাংবাদিকদের সবচেয়ে বড় সাংবাদিক, বিবিসির সংবাদকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ মনে করে আসছি। কিন্তু তারা যে মিশন এবং ভিশন নিয়ে কাজ করে, সেটা যদি আমরা বুঝতে পারি, তাহলে আগামীর রাজনীতিতে কী ধরনের সমীকরণ হচ্ছে, এটা নিয়ে মোটামুটি একটা ধারণা করতে পারব।’
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া ভিডিওবার্তায় রনি বলেন, ‘অতি সম্প্রতি বিবিসি বাংলা শেখ হাসিনাকে নিয়ে একটি নাতিদীর্ঘ প্রতিবেদন তৈরি করেছে এবং সেই কন্টেন্টটি তাদের ইউটিউব পেজে আপলোড করেছে। আমি মনোযোগ সহকারে সেটা দেখলাম। তারা শেখ হাসিনাকে যেভাবে উপস্থাপন করেছে, তাতে মনে হচ্ছে যে বিবিসি তার মুখপত্র হিসেবে কাজ করছে।’
‘আবার শেখ হাসিনা ঝড়, বিবিসির প্রতিবেদনে তোলপাড়, শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতের মাস্টার প্ল্যান ফাঁস’ শিরোনামে রনির ভিডিওটি আজ শনিবার (৮ই নভেম্বর) আপলোড করা হয়েছে। আপলোডের ছয় ঘণ্টার মধ্যে ভিডিওটি দেখা হয়েছে ৪১ হাজার বারের বেশি। এতে মন্তব্য এসেছে প্রায় সাড়ে চারশত।
তার দাবি, ‘আপনারা জানেন যে, বিবিসি বাংলা এবং বিবিসি ইন্ডিয়া এই মুহূর্তে নরেন্দ্র মোদির অত্যন্ত কাছের। এ কারণে এই সরকারের ১৪ মাসের প্রথম ছয় মাসে তারা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রোমোট করেছে, পরবর্তী ছয় মাসে তারা নিউট্রাল ছিল, আর গত দুই মাস ধরে তারা ড. ইউনূসের পেছন থেকে সরে গিয়ে এখন শেখ হাসিনাকে প্রোমোট করছে।’
রনি বলেন, ‘এটা আমার কাছে মনে হয়েছে এলার্মিং ফর দ্য বিএনপি এবং এজ ওয়েল এজ ফর দ্য ড. ইউনূস গভর্নমেন্ট। আমার মতে, ভারত এই মুহূর্তে তাদের সর্বশক্তি এবং তাদের যত কানেকশন রয়েছে সব কানেকশন ব্যবহার করছে শেখ হাসিনাকে প্রোমোট করার জন্য।’
তিনি বলেন, ‘অতি সম্প্রতি যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স, ইন্ডিপেনডেন্ট এবং এএফপিকে যে সাক্ষাৎকার শেখ হাসিনা দিলেন; বিবিসির রিপোর্ট অনুযায়ী, এই কাজটি করার জন্য ভারতের বিভিন্ন সূত্র শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করেছে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, শেখ হাসিনা যতদিন ভারতে আছেন, এটাকে প্রথম দফায় লকডাউন হিসেবে রাখা হয়েছে। এরপর তার ব্যাপারে আসলে বাংলাদেশ কীভাবে রিঅ্যাক্ট করে, ভারতে কী ধরনের রিঅ্যাকশন তৈরি হয়, ভারতের জনগণ-পলিটিশিয়ানদের মধ্যে কী রিঅ্যাকশন হয় এবং শেখ হাসিনা পুরো পরিস্থিতি কিভাবে হ্যান্ডেল করেন; এই জিনিসগুলো মানে ভারতের যারা থিংকট্যাংক রয়েছেন, তারা এটাকে মূল্যায়ন করছেন।’
রনি বলেন, ‘ভারত যে সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেছে সেটা হলো, আওয়ামী লীগের বিকল্প তাদের বন্ধু নেই, আর আওয়ামী লীগের মধ্যে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই; এটা তারা একেবারে শতভাগ নিশ্চিত হয়ে গেছে। দ্বিতীয় বিষয় হলো, শেখ হাসিনার সম্পর্কে এবং আওয়ামী লীগ সম্পর্কে বাংলাদেশে গত ১৪ মাসে নেতিবাচক যে প্রচার প্রপাগান্ডা মনোভাব ছিল, এটা একেবারে জ্যামিতিক হারে কমে গেছে। জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের পরে যে একটা বিক্ষুব্ধ হাবভাব ছিল, যে ধরো, মারো, জালিয়ে দাও; এটা কমতে কমতে এক বছরে একেবারে নিউট্রাল জায়গাতে চলে এসেছে। আর গত দুই মাস ধরে, এটাকে সবাই পজিটিভ মনে করছে।’
তিনি বলেন, ‘এসব কারণে ভারত শেখ হাসিনাকে একটা ওপেন স্পেস দিতে চাচ্ছে। এই ওপেন স্পেসের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তার পরিবারের সদস্যের সঙ্গে তার যোগাযোগ ঘটিয়ে দিয়ে ইতিমধ্যে আমেরিকা থেকে এসে সজীব ওয়াজেদ জয় শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছেন বলে বিবিসি স্বীকার করেছে। এছাড়া আমরা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে যেটা জানতে পারছি যে, সেখানে নিয়মিতভাবে দিল্লিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমেরিকা, ইউরোপ, কলকাতা; মানে তারা সবাই গিয়ে দেখা সাক্ষাৎ করছেন। আর শেখ হাসিনা তার নিজস্ব মোবাইল টেলিফোন ব্যবহার করা থেকে শুরু করে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় দলীয় কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন।’
খবরটি শেয়ার করুন