ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া
সৌদি আরবে পবিত্র কাবা শরিফের সামনে দাঁড়িয়ে বিএনপির রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির এক সক্রিয় কর্মী। মো. সাদ্দাম হাওলাদার নামের ওই ব্যক্তি বর্তমানে জিয়া সাইবার ফোর্সের বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা শাখার সহসভাপতি। একই সঙ্গে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সাংগঠনিক পদ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকেও নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
গতকাল সোমবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করে সাদ্দাম হাওলাদার এ ঘোষণা দেন। ভিডিওতে তাকে পবিত্র কাবা শরিফের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে দেখা যায়। পরে ভিডিওটির মন্তব্যের ঘরে নিজের সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করে দীর্ঘ একটি স্ট্যাটাস দেন তিনি। তার এই ঘোষণা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
সাদ্দাম হাওলাদার তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, তার বাবা, চাচাসহ পরিবারের প্রায় ৯০ শতাংশ সদস্য দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। পরিবারের সেই রাজনৈতিক আবহে তিনিও দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি কর্মসূত্রে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।
তবে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তার পক্ষে আর রাজনীতি করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সাদ্দাম। একই সঙ্গে বিএনপির প্রতি তার কোনো অভিযোগ বা ক্ষোভ নেই বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
সাদ্দাম তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে তিনি অনুপ্রাণিত। বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বিএনপির প্রতি তার ভালোবাসা রয়েছে। এরপরও তিনি সম্মানের সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে সাদ্দাম লিখেছেন, ‘আমি কোনো বড় রাজনীতিবিদ বা ত্যাগী নেতা-কর্মী নই।’ তার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এখন তিনি সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সরে দাঁড়াতে চান।
কাবা শরিফের সামনে ধারণ করা ভিডিওতেও নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান সাদ্দাম। সেখানে তিনি বলেন, রাজনীতি তার কাছে আবেগের বিষয় ছিল, ছিল মনের খোরাক। রাজনীতির মাধ্যমে মানুষের সেবা করার ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে মনে করছেন তিনি। এখন রাজনীতির বাইরে থেকে মানবসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চান।
সাদ্দামের এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ, সাংগঠনিক ক্ষোভ কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে জানতে তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সৌদি আরবে অবস্থান করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সাদ্দামের রাজনৈতিক পদত্যাগের ঘোষণা সম্পর্কে জানতে চাইলে আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মোল্লা বশির আহমেদ পান্না মুঠোফোনে সুখবর ডটকমকে বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই।
তিনি বলেন, ‘সাদ্দাম হাওলাদার কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে রয়েছেন। কারও সঙ্গে কোনো বিরোধ বা ক্ষোভ থেকে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।’
সাদ্দাম লিখিতভাবে কোনো পদত্যাগপত্র দিয়েছেন কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত নন বলে জানান উপজেলা বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘সাদ্দাম লিখিতভাবে কোনো পদত্যাগপত্র না দিয়ে ফেসবুকে ভিডিও দিয়ে কেন এ ধরনের ঘোষণা দিয়েছেন, সেটিও খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।’
জিয়া সাইবার ফোর্সের আগৈলঝাড়া উপজেলা শাখায় সাদ্দামের দায়িত্বের বিষয়েও স্থানীয় বিএনপির নেতারা খোঁজ নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তবে তার ঘোষণাটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত কি না, নাকি সাংগঠনিক কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি রাজনীতি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও স্ট্যাটাস নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্যও দেখা গেছে। কেউ তার সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিগত ও সম্মানজনক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ মনে করছেন, রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর আগে সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক পর্যায়ে বিষয়টি জানানো উচিত ছিল। কেউ কেউ তার বক্তব্যের কারণ আরও স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছেন।
অনেক মন্তব্যকারী আবার বলেছেন, রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা বা না থাকা প্রত্যেক ব্যক্তির ব্যক্তিগত অধিকার। তবে একজন সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী যখন পবিত্র কাবা শরিফের সামনে দাঁড়িয়ে এমন ঘোষণা দেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি মানুষের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করে।
সাদ্দাম তার বক্তব্যে বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না তোলায় বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং বিএনপির শীর্ষ নেতাদের প্রতি তার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
এদিকে প্রবাসে থাকা একজন রাজনৈতিক কর্মীর এমন ঘোষণাকে ঘিরে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে, নাকি এর পেছনে সাংগঠনিক কোনো কারণ রয়েছে, তা জানতে আরও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
সাদ্দামের ঘোষণার শেষ অংশে রাজনীতির বাইরে থেকে মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ দলীয় রাজনীতি থেকে সরে গেলেও সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিতে চান না তিনি। বরং মানবসেবার মধ্য দিয়ে মানুষের পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন।
তবে তার এই ঘোষণা আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক পদত্যাগ হিসেবে গণ্য হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্টতা নেই। কারণ সংশ্লিষ্ট উপজেলা বিএনপির নেতার বক্তব্য অনুযায়ী, সাদ্দাম এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত পদত্যাগপত্র দেননি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ভিডিও ও স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে তার সাংগঠনিক পদগুলোর বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সেটিও এখন দেখার বিষয়।
সব মিলিয়ে, পবিত্র কাবা শরিফের সামনে দাঁড়িয়ে বিএনপির রাজনীতি ছাড়ার সাদ্দামের ঘোষণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে তার সিদ্ধান্তের পেছনে প্রকৃত কারণ কী এবং সাংগঠনিকভাবে তার পদগুলোর বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে, তা জানতে সংশ্লিষ্টদের আরও বক্তব্য পাওয়া প্রয়োজন।
খবরটি শেয়ার করুন