শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** সমুদ্রের উচ্চতার সঙ্গে সংকল্প আরও দৃঢ় হোক, পদক্ষেপ তার চেয়ে দ্রুত: বিশ্বনেতাদের তারেক রহমান *** নিউইয়র্কে তারেক রহমান, সেখানেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বৈঠক *** এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের দ্রুততম মানব *** রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল ৫ দিনের রিমান্ডে *** জাতিসংঘে খলিলুরের কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হলেন জাইমা রহমান *** বিশ্বের বৃহত্তম মুক্তবাণিজ্য জোটে যুক্ত হওয়ার পথে বাংলাদেশ *** ৯৮ কমিটি থেকে ‘আওয়ামীপন্থীদের’ বাদ দেওয়ার নির্দেশ, কী বদল আসছে সরকারি কমিটিতে *** মূল আসামিকে আড়াল করায় স্বজনদের ক্ষোভ, জানেন না আপসের বিষয়ও *** জাতিসংঘে শুক্রবার ভোররাত ৩টায় বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী *** বিকাশ, রবিসহ চার প্রতিষ্ঠান পেল ডিজিটাল ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন

সুখবর এক্সপ্লেইনার

সাংবাদিকদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন ও তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য

আদিত্য কবির

🕒 প্রকাশ: ০৭:২৬ অপরাহ্ন, ১৯শে মে ২০২৬

#

ফাইল ছবি

দেশে সাংবাদিকতা পেশা ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের আজ মঙ্গলবার দেওয়া বক্তব্য আবারও সেই আলোচনাকে সামনে নিয়ে এসেছে। সাংবাদিক পরিচয়ের আড়ালে রাজনৈতিক পরিচয়, পেশাগত নিরপেক্ষতার সংকট এবং সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা—এই তিনটি বিষয় নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

তথ্যমন্ত্রী আজ সরকারের তিন মাস পূর্ণ করা উপলক্ষে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, সাংবাদিক পরিচয়ে মামলার মুখোমুখি হওয়া ব্যক্তিদের একটি অংশ প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগের নেতা বা সহযোগী ছিলেন এবং অতীতে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

তার অভিযোগ, তাদের কেউ কেউ নিজেদের রক্ষা করতে “ভুঁইফোড়” বা অপ্রাতিষ্ঠানিক গণমাধ্যমের পরিচয় ব্যবহার করছেন। তার এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে—সাংবাদিকতার পরিচয় কোথায় শেষ হয় এবং রাজনৈতিক পরিচয় কোথায় শুরু হয়।

এই বিতর্কের পেছনে দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ওঠা একটি বাস্তবতা রয়েছে। গত দুই দশকে দেশে সংবাদমাধ্যমের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের বিস্তারের ফলে সংবাদ প্রকাশের সুযোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহারের ক্ষেত্রও বিস্তৃত হয়েছে। প্রযুক্তির কারণে সংবাদ প্রচার সহজ হলেও, অনেক ক্ষেত্রে এই উন্মুক্ততাকে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে বহু বছর ধরেই দেখা গেছে, রাজনৈতিক দলের সক্রিয় নেতাদের কেউ কেউ একই সঙ্গে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করছেন। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের সংবাদমাধ্যমের পরিচয় ধারণ করতে দেখা গেছে।

সমালোচকদের ভাষ্য, অনেক ক্ষেত্রে এই পরিচয় প্রশাসনিক যোগাযোগ সহজ করা, সামাজিক প্রভাব বিস্তার কিংবা ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়েছে।

সাম্প্রতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা নিয়ে প্রকাশিত কিছু তথ্য। ডেইলি স্টারের তৈরি করা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মামলার শিকার হওয়া ২৯৬ জনের তালিকার সাংবাদিকদের প্রায় ২০ শতাংশের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সরাসরি সম্পর্ক ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তাদের কেউ আওয়ামী লীগের দলীয় প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন, কেউ সাংগঠনিক পদে ছিলেন, আবার কারও বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সাবেক সরকারের সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

উল্লেখিতদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের কমল খান ও রাজু আহমেদের নাম এসেছে। তাদের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, একজনকে শামীম ওসমানের সশস্ত্র গ্রুপের সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখা গেছে ২০২৪ সালে জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময়। একইভাবে নাঈমুল ইসলাম খানের নামও এসেছে, যিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

বিভিন্ন জেলার এমন সাংবাদিক, যারা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগী ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধেও ড. ইউনূস সরকারের আমলে মামলা দায়ের হয়েছে। জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে মামলা হওয়া কয়েক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের গত সরকারের আমলে আর্থিক সুবিধা নেওয়ারও অভিযোগ আছে।

এ ছাড়া ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে জ্যেষ্ঠ কয়েক সাংবাদিকের বক্তব্য নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। সমালোচকদের একটি অংশের দাবি ছিল, তারা সাংবাদিক হিসেবে নয়, বরং রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সেদিন বক্তব্য দিয়েছেন। আবার জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় নারায়ণগঞ্জে শামীম ওসমানের অনুসারীদের একটি মিছিলে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিককে দেখা যায় বলে অভিযোগ ওঠে। একটি ভিডিওতে একজনকে দুই হাতে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করতেও দেখা যায় বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়।

তবে এ ধরনের অভিযোগের পাশাপাশি অন্য একটি বাস্তবতাও রয়েছে। তাই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হওয়া সব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা পেশাগত নিপীড়ন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তথ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো পর্যালোচনার জন্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত একটি কমিটির কাছে ৯২ জন অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সব মামলা সরকার দায়ের করেনি; ব্যক্তিগত বিরোধ বা অন্য কারণেও কিছু মামলা হয়েছে।

এখানেই প্রশ্ন উঠছে—কোন ব্যক্তিকে সাংবাদিক হিসেবে বিবেচনা করা হবে? সাংবাদিকতার পরিচয় যাচাইয়ের নির্ভরযোগ্য কাঠামো কতটা কার্যকর?

গণমাধ্যম বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে সাংবাদিকতা পেশার আনুষ্ঠানিক মানদণ্ড এখনও অনেক ক্ষেত্রে অস্পষ্ট। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক এবং গণমাধ্যম গবেষকরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, সাংবাদিকতার পেশাগত পরিচয় নির্ধারণে স্পষ্ট কাঠামো প্রয়োজন। কারণ সাংবাদিকতা শুধু একটি পরিচয় নয়; এটি পেশাগত নৈতিকতা ও দায়িত্বের বিষয়ও।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন অতীতে বিভিন্ন আলোচনায় বলেছেন, সাংবাদিকের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিশ্বাস থাকতে পারে, কিন্তু সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে দলীয় আনুগত্য প্রভাব ফেললে গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার মতে, সাংবাদিকতা যখন রাজনৈতিক ক্ষমতার সম্প্রসারণের হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তখন সংবাদ ও প্রচারণার মধ্যে পার্থক্য অস্পষ্ট হয়ে যায়।

একই ধরনের মত দিয়েছেন গণমাধ্যম বিশ্লেষক অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌসও। বিভিন্ন সময় তিনি বলেছেন, দেশে সাংবাদিকতার একটি বড় সংকট হচ্ছে পরিচয়ের সংকট। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাংবাদিক পরিচয় অনেক সময় পেশার চেয়ে সামাজিক ক্ষমতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা পেশাগত মানদণ্ডকে দুর্বল করে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইনভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের বিস্তারের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বর্তমানে খুব সহজেই সংবাদপোর্টাল বা সংবাদমাধ্যমের পরিচয় ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু এসব প্ল্যাটফর্মের একটি অংশে সাংবাদিকতার ন্যূনতম নীতিমালা বা সম্পাদনা কাঠামো অনুসরণ করা হয় না। ফলে প্রকৃত সাংবাদিকতা ও অনিয়ন্ত্রিত পরিচয়ের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

এই প্রেক্ষাপটে তথ্যমন্ত্রীর প্রস্তাবিত মিডিয়া কমিশনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কমিশন সাংবাদিকতার মানদণ্ড, নিবন্ধন ব্যবস্থা, পেশাগত আচরণবিধি এবং গণমাধ্যমের জবাবদিহি নিয়ে কাজ করতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগের কার্যকারিতা নির্ভর করবে কমিশনের স্বাধীনতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকার ওপর। কারণ গণমাধ্যম সংস্কারের নামে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলে তা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। আবার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীন পরিবেশও পেশাগত বিশৃঙ্খলা বাড়াতে পারে।

ফলে বর্তমান বিতর্কের কেন্দ্রীয় প্রশ্ন কেবল কয়েকজন ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করছেন কি না, সেটি নয়। বড় প্রশ্ন হলো—সাংবাদিকতার পেশাগত পরিচয় কতটা নির্ভরযোগ্য, সংবাদমাধ্যম কতটা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক, এবং রাজনৈতিক প্রভাব থেকে সাংবাদিকতা কতটা স্বাধীন থাকতে পারছে।

তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য সেই পুরোনো প্রশ্নগুলোই নতুনভাবে সামনে এনেছে। এখন নজর থাকবে, প্রস্তাবিত সংস্কার উদ্যোগগুলো শুধু ব্যক্তিগত অভিযোগের তালিকা তৈরিতে সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি সাংবাদিকতা পেশার দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সংকটের দিকেও বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ খোঁজে।

সাংবাদিক তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

সমুদ্রের উচ্চতার সঙ্গে সংকল্প আরও দৃঢ় হোক, পদক্ষেপ তার চেয়ে দ্রুত: বিশ্বনেতাদের তারেক রহমান

🕒 প্রকাশ: ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন, ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিউইয়র্কে তারেক রহমান, সেখানেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বৈঠক

🕒 প্রকাশ: ০২:৩২ পূর্বাহ্ন, ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের দ্রুততম মানব

🕒 প্রকাশ: ১০:২১ অপরাহ্ন, ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল ৫ দিনের রিমান্ডে

🕒 প্রকাশ: ১০:০৮ অপরাহ্ন, ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘে খলিলুরের কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হলেন জাইমা রহমান

🕒 প্রকাশ: ১০:০৩ অপরাহ্ন, ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250