শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৪ঠা আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ‘আসিফ মাহমুদের দুর্নীতি ও লুটপাটের গডফাদার ড. ইউনূস’ *** শেখ হাসিনার দেশে ফেরার আগেই সরকারের ওপর ‘চাপ’ সৃষ্টি করতে চায় আওয়ামী লীগ *** খুলনায় ‘ভাত চুরি করে খাওয়ার অভিযোগে’ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা *** মুঠোফোনের জন্যই অপ্রতিমকে হত্যা: পুলিশ *** পাকিস্তানে মসজিদে বোমা হামলায় নিহত বেড়ে ৩১, ইত্তেহাদুল মুজাহিদিনের দায় স্বীকার *** রাজধানীতে মসজিদ থেকে আটক ২৩ জনের ১১ জনকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ *** কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পাশে নিখোঁজ কিশোরের মরদেহ উদ্ধার *** ‘তৃণমূলের নাম–প্রতীক কেড়ে নেওয়া বিজেপির নোংরা খেলা’, আদালতে মমতা *** সব জেলা পরিষদের স্থাপনার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ বাধ্যতামূলক করতে সরকারের নির্দেশ *** বিধ্বস্ত পরমাণু স্থাপনা ফের নির্মাণ করছে ইরান

ডিএসসিসির ‘ক্লিন সিটি-গ্রিন সিটি’: পরিচ্ছন্নতা খাতেই বরাদ্দ ৩২৭ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ১১:২০ পূর্বাহ্ন, ৩রা আগস্ট ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে পরিচ্ছন্নতা, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শুধু পরিচ্ছন্নতা খাতেই ৩২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের মূল বরাদ্দের তুলনায় প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেশি। খবর বাসসের। 

২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই খাতে সিটি করপোরেশনের বরাদ্দ ছিল ৯০ কেটি ২৩ লাখ টাকা এবং সংশোধিত আকারে এই বরাদ্দ ছিল ৮০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, সরকারের ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নগর পরিচ্ছন্নতার পুরো ব্যবস্থাপনাকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে শিফটভিত্তিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালুর পাশাপাশি নির্দিষ্ট সড়কে কতজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী দায়িত্ব পালন করবেন, তারও সুস্পষ্ট দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। এ কার্যক্রমের তদারকির জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে পৃথক ‘মনিটরিং টিম’ গঠন করা হয়েছে, যাতে মাঠপর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত হয়।

নাগরিকদের আচরণগত পরিবর্তনকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করে ডিএসসিসি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও জোরদার করেছে বলে উল্লেখ করেন প্রশাসক আবদুস সালাম। তিনি জানান, বিডি ক্লিন ও সাজেদা ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় যত্রতত্র ময়লা না ফেলে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে ধারাবাহিক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে পরীক্ষামূলকভাবে মতিঝিল এলাকায় সিটি ইন্সপেক্টর নিয়োগ দিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করা হচ্ছে।

নগরবাসীর অভিযোগ, মতামত ও পরামর্শ দ্রুত গ্রহণ এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চালু করা হয়েছে ‘ক্লিন কেয়ার’ মোবাইল অ্যাপ ও হটলাইন সেবা। এ ছাড়া পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নাগরিকদের সম্পৃক্ত করতে প্রতি মাসের প্রথম শনিবার ‘ক্লিনিং ডে’ পালন করা হচ্ছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ও নান্দনিকতার সমন্বয় ঘটাতে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনগুলোকে (এসটিএস) আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, ইতিমধ্যে ছয়টি এসটিএসকে উন্নত স্যানিটেশন সুবিধাসহ পরিবেশবান্ধব ও দৃষ্টিনন্দন স্থাপনায় রূপান্তর করা হয়েছে। ভবিষ্যতে পর্যায়ক্রমে সব এসটিএস একই মানে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

রাজধানীর সবচেয়ে বড় বর্জ্য ফেলার স্থান মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে মিথেন গ্যাস থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ড ও পরিবেশদূষণ রোধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ল্যান্ডফিলের ওপর মাটির আচ্ছাদন দেওয়ার পাশাপাশি এটিকে আধুনিক ‘রিসোর্স সার্কুলেশন পার্ক’-এ রূপান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে একটি অত্যাধুনিক কম্পোস্ট প্ল্যান্ট চালু করা হয়েছে, যা জৈব বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।

বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনেও একযোগে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে ডিএসসিসি। বর্ষা শুরুর আগেই নগরীর নর্দমা, বক্স-কালভার্ট ও খাল থেকে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৭৫টি ওয়ার্ডে ৩৩টি জলাবদ্ধতা প্রবণ এলাকা বা হটস্পট চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে প্রশাসক জানান।

ভারী বৃষ্টিপাতের সময় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য পোর্টেবল পাম্প ও সাকার মেশিন মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যারা বৃষ্টির সময় ড্রেন ও নর্দমার মুখ পরিষ্কার রেখে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে।

জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে ডিএসসিসি এলাকায় আটটি নতুন আউটলেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সায়েন্স ল্যাব-নিউ মার্কেট-আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েট-শিক্ষা বোর্ড থেকে সোয়ারীঘাট পর্যন্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ আউটলেট নির্মাণে সরকারের অনুমোদন মিলেছে। বাস্তবায়ন শেষে রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকার পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ ছাড়া জিয়া সরণি খাল, কুতুবখালী খালসহ ডিএসসিসির আওতাধীন সব খাল নিয়মিত পরিষ্কার, পুনঃখনন ও সংস্কারে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

নগরীর দীর্ঘমেয়াদি ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে বৈজ্ঞানিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে ডিএসসিসির ৫৭টি ওয়ার্ডের জন্য ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংকে (আইডাব্লিউএম) একটি সমন্বিত ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতের নগর সম্প্রসারণ, জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ এবং বৃষ্টির পানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত হবে।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, পরিচ্ছন্নতা খাতে রেকর্ড পরিমাণ বরাদ্দ, প্রযুক্তিনির্ভর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নাগরিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন—এই চারটি খাতকে কেন্দ্র করে বাস্তবায়িত কর্মসূচি রাজধানীর দক্ষিণ অংশকে আরও পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব নগরীতে রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ডিএসসিসি

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250