ছবি: সংগৃহীত
গবেষক ও কলাম লেখক মহিউদ্দিন আহমদ বলছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির নেতৃত্বে যে জোট, সেটি টেকসই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ, এ জোটে বিএনপির অবস্থান পাহাড়সম। অন্যেরা খুব ছোট ও দুর্বল। নিজেদের অস্তিত্বের স্বার্থে তারা জোট থেকে বেরিয়ে আসতে চাইবে না।
তিনি বলেন, অন্যদিকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে জামায়াতের নিরঙ্কুশ প্রাধান্য থাকলেও অন্যেরা মোটেও হেলাফেলার পাত্র নয়। এই জোটে নেতা বেশি, ফলে ঝামেলাও বেশি।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত মাঠে দেখা যাচ্ছে দুটি জোট। একদিকে বিএনপি জুলাই আন্দোলনের কতিপয় সহযোগীর সঙ্গে আসন সমঝোতা করে প্রার্থিতা ঠিক করেছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী কয়েকটি দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে আসনবিন্যাস চূড়ান্ত করেছে।
তিনি বলেন, একটা বিষয় মোটামুটি স্পষ্ট। বিএনপি আর জামায়াত যে কটি নির্বাচনে জোট করে বা জোট বেঁধে নির্বাচন করেছে, প্রতিবার তারা জয় পেয়েছে। যেবার তাদের জোট ছিল না, তারা হেরেছে। এটা দেখেই জোটের শক্তি ও মূল্য আন্দাজ করা যায়।
তার মতে, অনেক অনিশ্চয়তা ডিঙিয়ে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। তারপরও শতভাগ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ১২ই ফেব্রুয়ারির দিনটা পেরোলে আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারব, দেশে একটা নির্বাচন হয়েছে। আমার মনে হয়, সমস্যা শুরু হবে তার পর থেকে।
তিনি বলেন, রাজনীতিটা এখন আর ভদ্র-সজ্জনদের আওতায় নেই। এটি চলে গেছে চাঁদাবাজ-গালিবাজদের হাতে। যে যত বেশি গাল দিতে পারে, সে তত বেশি হাততালি পায়। হাততালির রাজনীতিতে সুবচনের জায়গা নেই।
'হাততালির রাজনীতিতে ভালো কথার জায়গা নেই' শিরোনামে দৈনিক প্রথম আলোতে লেখা এক উপসম্পাদকীয়তে মহিউদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন। তার লেখাটি আজ শুক্রবার (১৬ই জানুয়ারি) প্রথম আলোর ছাপা সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে।
মহিউদ্দিন আহমদ লেখেন, আমাদের দেশে জোটের রাজনীতির শুরু সেই ১৯৫৪ সালে। ক্ষমতায় তখন পাকিস্তান মুসলিম লীগ। এটিকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে। তার বিরুদ্ধে একজোট হয় তিনটি দল—পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, পাকিস্তান নেজামে ইসলাম পার্টি, পাকিস্তান গণতন্ত্রী দল ও পাকিস্তান খেলাফতে রব্বানী পার্টি। তারা গঠন করে যুক্তফ্রন্ট। নেপথ্যে থেকে সমর্থন দেয় কমিউনিস্ট পার্টি। কমিউনিস্ট পার্টি তখন নিষিদ্ধ। এ দলের কয়েকজন যুক্তফ্রন্টের টিকিটে প্রার্থী হন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই আমরা দেখছি জোটের রাজনীতি। ১৯৮০-এর দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে প্রথমে দুটি জোটের দেখা মেলে—আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫-দলীয় জোট আর বিএনপির নেতৃত্বে ৭-দলীয় জোট। পরে ১৫-দলীয় জোট ভেঙে একটি ৮-দলীয় এবং একটি ৫-দলীয় জোট হয়। জোটের মধ্যে অনেক দলই ছিল বিপরীত মেরুর। তারা এককাট্টা হয়েছিল একটি ইস্যু নিয়ে, এরশাদকে হটাতে হবে। তো এরশাদ হটে গেলেন। নির্বাচনের গন্ধ নাকে এসে লাগল। ৫-দলীয় জোট কিছুদিন জাতীয় সরকারের দাবিতে হইচই করল।
খবরটি শেয়ার করুন