ছবি: সংগৃহীত
মঞ্চনাটক, পথনাটক, আন্তর্জাতিক উৎসবে অংশগ্রহণ, অভিনয় ও নাট্যনির্দেশনা—সৃজনশীলতার নানা মাধ্যমে নিজের পরিচয় গড়ে তুলছেন অভিনেতা ও নির্মাতা রানা সিকদার।
একটি চরিত্রের ভেতর দিয়ে কখনো হাসি, কখনো কান্না, আবার কখনো সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন একজন অভিনেতা। মঞ্চের আলোয় দাঁড়িয়ে দর্শকের সঙ্গে সেই সংযোগ তৈরি করাই তার কাজ। আর সেই কাজের প্রতি ভালোবাসা থেকেই এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নাট্যাঙ্গনে সক্রিয় রয়েছেন অভিনেতা, নাট্যনির্দেশক ও নির্মাতা রানা সিকদার।
অভিনয় দিয়ে শুরু হলেও তার সৃজনশীল কাজের পরিধি এখন অনেক বিস্তৃত। নাট্যনির্দেশনা, চিত্রনাট্য, চলচ্চিত্র নির্মাণ, ভিডিও সম্পাদনা ও অডিওভিজ্যুয়াল প্রযোজনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছেন তিনি। মঞ্চনাটকের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দৃশ্যশিল্পের অন্যান্য মাধ্যমেও নিজের কাজের পরিধি বাড়িয়ে চলেছেন এই শিল্পী।
মঞ্চেই গড়ে উঠেছে অভিনয়ের ভিত
রানা সিকদারের নাট্যজীবনের একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে থিয়েটার আর্ট ইউনিট। এই নাট্যদলের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি বিভিন্ন মঞ্চনাটক ও পথনাটকে অভিনয় করেছেন। ‘আমিনা সুন্দরী’, ‘বলয়’ ও ‘মাধব মালঞ্চী’ তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য মঞ্চনাটকের মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে ‘জনম দুঃখী মা’, ‘ক্ষ্যাপা পাগলার প্যাচাল’ ও ‘জাল’সহ বিভিন্ন পথনাটকেও অংশ নিয়েছেন তিনি।
মঞ্চের পাশাপাশি নাট্যনির্দেশনাতেও নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন রানা সিকদার। তার নির্দেশিত নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘হোস্টেল সুপার’, ‘রঙিন রূপবান’ ও ‘কথা রাখোনি’। এ ছাড়া ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’, ‘হারবাল মাসুদ’ ও ‘হোস্টেল সুপার’সহ বিভিন্ন নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি।
অভিনেতা হিসেবে চরিত্রের প্রয়োজনে নিজেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা এবং নির্দেশক হিসেবে একটি নাটকের সামগ্রিক পরিবেশনা দাঁড় করানোর অভিজ্ঞতা—দুই দিক থেকেই নিজের কাজকে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করছেন তিনি।
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ভারতের মঞ্চে
নাট্যচর্চার সুবাদে দেশের বাইরেও মঞ্চে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন রানা সিকদার। থিয়েটার আর্ট ইউনিটের প্রযোজনা ‘মাধব মালঞ্চী’ নাটক নিয়ে ভারতের বিভিন্ন স্থানে মঞ্চে অভিনয় করেছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর, মুর্শিদাবাদের ঐতিহ্যবাহী রবীন্দ্র সদন মঞ্চসহ কলকাতার বিভিন্ন নাট্যমঞ্চে নাটকটির প্রদর্শনীতে অংশ নেন।
এ ছাড়া ২০১৮ সালে ভারতের দিল্লিতে ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা (এনএসডি) আয়োজিত থিয়েটার অলিম্পিকসে থিয়েটার আর্ট ইউনিটের ‘মৎস্যকাম’ নাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। ওই আয়োজনে অংশগ্রহণের স্বীকৃতিস্বরূপ আয়োজকদের কাছ থেকে সনদ ও স্বীকৃতি লাভ করেন রানা সিকদার। আন্তর্জাতিক পরিসরে এমন একটি নাট্য আয়োজনে অংশগ্রহণ তার শিল্পীজীবনের উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতাগুলোর একটি।
মঞ্চ থেকে চলচ্চিত্র নির্মাণ
অভিনয় ও নাট্যনির্দেশনার পাশাপাশি চলচ্চিত্র নির্মাণেও আগ্রহী রানা সিকদার। ‘শেষ ছবি’ শিরোনামে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন তিনি। ২০২২ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত একটি চলচ্চিত্র উৎসবে চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের স্বীকৃতিস্বরূপ শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সনদও লাভ করেন তিনি।
নাট্যচর্চায় স্বীকৃতি ‘এথিক তারুণ্য সম্মাননা’
দীর্ঘদিনের নাট্যচর্চার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালে ‘এথিক তারুণ্য সম্মাননা’ অর্জন করেন রানা সিকদার। দেশের ১৭টি নাট্য সংগঠনের ১৭ জন তরুণ নাট্যকর্মীকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। থিয়েটার আর্ট ইউনিটের প্রতিনিধি হিসেবে সম্মাননাপ্রাপ্তদের তালিকায় তার নামও স্থান পায়।
একজন শিল্পীর পথচলায় স্বীকৃতি যেমন অনুপ্রেরণা জোগায়, তেমনি নতুন কাজের প্রতি দায়িত্ববোধও বাড়িয়ে দেয়। রানা সিকদারের ক্ষেত্রেও এই সম্মাননা তার নাট্যচর্চার পথে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।
সামনে আরও বড় পরিসরে কাজের প্রত্যাশা
মঞ্চনাটক থেকে চলচ্চিত্র, অভিনয় থেকে নির্দেশনা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে চান রানা সিকদার। তার কাছে শিল্পচর্চা শুধু একটি নির্দিষ্ট মাধ্যমে সীমাবদ্ধ নয়; বরং গল্প, চরিত্র ও নির্মাণের মধ্য দিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছানোর একটি ধারাবাহিক প্রচেষ্টা।
আগামী দিনে টেলিভিশন নাটক, চলচ্চিত্র এবং অডিওভিজ্যুয়াল নির্মাণে আরও বিস্তৃত পরিসরে কাজ করার প্রত্যাশা তার। মঞ্চের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে সঙ্গে নিয়ে নতুন গল্প, নতুন চরিত্র এবং নতুন নির্মাণের মধ্য দিয়ে নিজের সৃজনশীল পরিচয় আরও সমৃদ্ধ করাই এখন তার লক্ষ্য।
খবরটি শেয়ার করুন